চট্টগ্রাম সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

৮ অক্টোবর, ২০২২ | ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ

মিজানুর রহমান

৮ মাসেই মিলবে সমীক্ষা প্রতিবেদন

নব্বই বছরের বেশি পুরোনো কালুরঘাট সেতু সংস্কারের জট অবশেষে খুলেছে। দীর্ঘ দর-কষাকষির পর বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে কালুরঘাট সেতু সংস্কার নিয়ে চুক্তি সম্পন্ন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। জরাজীর্ণ এই সেতু কীভাবে সংস্কার হবে, কোন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে- তা ঠিক করতে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল কাজও শুরু করে দিয়েছেন। আগামী ৮ মাসের মধ্যে সমীক্ষা প্রতিবেদন তৈরির কাজ শেষ করবেন তারা। এরপর সেতু সংস্কারে টেন্ডার আহ্বান করবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান- নকশা ও অর্থায়ন নিয়ে জটিলতা থাকায় নতুন কালুরঘাট সেতু নির্মাণ শুরু করতে আরও সময় লাগবে। তাই নির্মাণাধীন দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ ব্যবহার করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে যথাসময়ে ট্রেন চালু করতে পুরোনো কালুরঘাট সেতুর উপরই আস্থা রাখতে হচ্ছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে। এজন্য পুরনো কালুরঘাট সেতুর সংস্কার প্রয়োজন। এই কাজে বুয়েটের একটি বিশেষজ্ঞ দলের সহায়তা নিতে গত বছর রেলওয়ের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে গত বছরের ৯ অক্টোবর বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এ.এফ.এম সাইফুল আমিন, অধ্যাপক খান মাহমুদ আমানত ও আবদুল জব্বার খান কালুরঘাট সেতু পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা কালুরঘাট সেতুর জান আলী হাট অংশে আবৃত প্রাচীর এবং সুরক্ষা দেয়ালে ফাটল খুঁজে পান।

এছাড়া আরও বড় ধরনের ছয়টি ত্রুটি চিহ্নিত করেন। তবে পুরো সমীক্ষা কার্যক্রম শেষ করতে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল রেলওয়ের কাছে ১২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা দাবি করেন। সমীক্ষা ফি নিয়ে দুই পক্ষের দর-কষাকষিতে কালুরঘাট সেতু সংস্কারে জট তৈরি হয়।

একাধিক বৈঠক শেষে চলতি বছর ৮ কোটি ৬০ লাখ টাকায় এই সেতু সংস্কারের সমীক্ষা করতে রাজি হয় বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল। এরপর গত সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ঢাকায় বুয়েট বিশেষজ্ঞ দল এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের মধ্যে এ নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পরে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে বুয়েটের অধ্যাপক এ.এফ.এম সাইফুল আমিনের নেতৃত্বে ১২ জনের একটি বিশেষজ্ঞ দল কালুরঘাট সেতু ফের পরিদর্শন করেন।

জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আবু জাফর মিয়া পূর্বকোণকে জানান, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে চুক্তির পর গত ৪ অক্টোবর বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল কালুরঘাট সেতু পরিদর্শন করেছেন। তারা আরও পরিদর্শন এবং বৈঠক করবেন। চুক্তি অনুযায়ী ৮ মাসের মধ্যে কালুরঘাট সেতু সংস্কারের সমীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও আশা করছি আরও আগে আমরা এটা পাবো। বিশেষজ্ঞ দল প্রতিবেদন জমা দিলে আমরা সংস্কার কাজের টেন্ডার আহ্বান করবো।

কালুরঘাট সেতু নির্মিত হয় ১৯৩১ সালে। উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামকে সংযুক্তকারী এ সেতুকে ২০০১ সালেই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। তবে এখনও সেতুর উপর দিয়ে ট্রেন ও যানবাহন চলাচল করছে। বর্তমানে এ সেতু দিয়ে ১০ টন এক্সেল লোডবিশিষ্ট ছোট লোকোমোটিভ চলাচল করে। এখন কালুরঘাট সেতুর গার্ডার ও অন্যান্য অবকাঠামো সংস্কার করে ১৫ টন এক্সেল লোড বিশিষ্ট লোকোমোটিভ ব্যবহার করতে চায় রেলওয়ে। যা দিয়ে আগামী বছর কক্সবাজার যাবে দ্রুতগতির ট্রেন।

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট