চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর, ২০২২

৮ অক্টোবর, ২০২২ | ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রাণ বাঁচানো পুকুরটিই প্রাণঘাতী রোগের উৎস

হালিশহর ফুল চৌধুরী পাড়া সড়কের পাশে পরিত্যক্ত বিশাল এক জলাশয়। স্থানীয়দের কাছে তা বড় পুকুর নামে পরিচিত। একসময় পুরো এলাকার মানুষের ব্যবহৃত পানির একমাত্র উৎস ছিল এ পুকুর। কিন্তু বছরের পর বছর সংস্কারহীন থাকার কারণে বর্তমানে পরিত্যক্ত জলাশয়ে পরিণত হয়েছে পুকুরটি। একসময় যে পুকুর স্থানীয়দের বেঁচে থাকার অন্যতম উপাদান পানির যোগান দিত, সে পুকুরটি এখন হয়ে উঠছে প্রাণঘাতী রোগের উৎস।

 

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে এ পুকুরের একমাত্র মালিক ছিলেন নগরীর কাজেম আলী হাই স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক মাস্টার। প্রায় তিন একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এ পুকুরটি এখানকার মানুষের পানীয় ও ব্যবহৃত পানির চাহিদা মেটাতো। ১৯৬৮ সালে আবদুর রাজ্জাক মাস্টারের মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশানরা এর দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু গত ৫০ বছরে মালিকানার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে শতাধিক। মালিকদের মধ্যে অর্ন্তদ্বন্দ্ব পুকুরটি সংস্কার না হওয়ার অন্যতম কারণ।

 

এছাড়া জমির দাম বৃদ্ধির কারণে কিছু মালিকের পুকুর ভরাটের সুপ্ত বাসনার কারণেও জলাশয়টি গত অর্ধযুগ ধরে পরিত্যক্ত করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। গতকাল হালিশর ‘বি’ ব্লক এলাকার পশ্চিম পাশে ফুল চৌধুরী পাড়া সড়কে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরের প্রায় পুরোটায় কচুরিপানায় পরিপূর্ণ। বিভিন্ন পাড়ে ময়লা আবর্জনার স্তূপ। মাটি ভরাট করে দখল করা হচ্ছে পুকুর পাড়ের কিছু অংশ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একযুগ আগেও পুরো এলাকার মানুষের পানির উৎস ছিল এই পুকুর। নিত্যকাজে ব্যবহারের পাশাপাশি অধিকাংশ মানুষ এ পুকুরের পানি ফুটিয়ে পান করত। অথচ পুরো পুকুর এখন ময়লা আর কচুরিপানায় ভর্তি। যার ফলে পুকুরে গোসল করারও কোন সুযোগ নেই। এলাকায় পুরোপুরি ওয়াসার সংযোগ চালু হয়নি। যার ফলে বর্ষা মৌসুমেও পানি সংকটে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি পরিত্যক্ত জলাশয়ের কারণে বাড়ছে মশার উপদ্রব, বাড়ছে পানিবাহিত রোগ।

 

স্থানীয় বাসিন্দা হালিশহর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আবেদ মনছুর চৌধুরী পূর্বকোণকে বলেন, একসময় ওয়ারিশান সূত্রে আমিও এর মালিকানায় ছিলাম। কিন্তু পরিত্যক্ত পুকুর কোনো কাজে না আসায় মালিকানা বিক্রি করে দিয়েছি। বর্তমানে অধিক সংখ্যক মালিকের কারণে এর সংস্কারও হচ্ছে না।

তিনি বলেন, প্রায় একযুগ আগে সবাই একত্রিত হয়ে পুকুরটি মাছ চাষের জন্য ইজারা দেয়া হয়েছিল। তখন পুকুরের পানি সবাই ব্যবহারও করতে পারত। কিন্তু মালিকদের মধ্যে অর্ন্তদ্বন্দ্ব থাকায় পুনরায় ইজারা দেয়া হয়নি। যার ফলে এভাবেই পরিত্যক্ত হয়ে পড়ছে পুকুরটি।

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ইলিয়াছ বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার পুকুর ও জলাশয় সংস্কারে কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি পুকুর সংস্কার করেছি। কিন্তু ব্যক্তি মালিকানাধীন পুকুর সংস্কার করতে হলে মালিকদের এগিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে পুকুরটি সংস্কারে স্থানীয় ফুল চৌধুরী পাড়ার বাসিন্দারা এগিয়ে আসলে অবশ্যই সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

নগরায়নের প্রভাবে চট্টগ্রাম শহর থেকে হারিয়ে গেছে অনেক পুকুর, দিঘি ও জলাশয়। বিভিন্ন সময়ে এসব জলাশয় ভরাট করে গড়ে ওঠেছে নানা আবাসিক স্থাপনা। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এখনও হাতেগোনা কয়েকটি ওয়ার্ডে কিছু পুকুর বা জলাশয় রয়েছে তার একটি উত্তর হালিশহর এলাকার এ বড় পুকুর। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে এ পুকুরটিও একসময় হারিয়ে যাবে।

পূর্বকোণ/আর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট