চট্টগ্রাম সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

৮ অক্টোবর, ২০২২ | ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজার সংবাদদাতা

কক্সবাজারে ভরপুর পর্যটকের সুযোগে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়

টানা ছুটিতে কক্সবাজারে লাখো পর্যটক ভ্রমণে এসেছেন। এই সুযোগে হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট ও গেস্ট হাউসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে যানবাহন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করায় টানাপড়েনে ভুগছেন অনেকে। হোটেলগুলো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে কড়া সমালোচনা করেছেন অনেক পর্যটক। তবু সমুদ্র ছুঁয়ে মন জুড়িয়ে নিচ্ছেন তারা।

শুক্রবার (৭ অক্টোবর) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সমুদ্রসৈকতের তিন কিলোমিটারজুড়ে দেখা গেছে মানুষ আর মানুষ। তীব্র গরম উপেক্ষা করে তারা সৈকতে ছোটাছুটি করছেন। আবার সাগরে সাঁতার কাটছেন।

বুধবার ছিল পূজার ছুটি, তারপর বৃহস্পতিবার বাদ দিলে শুক্র-শনি-রবিবার ছুটি পেয়ে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটছেন পর্যটন কেন্দ্রগুলোয়। কিন্তু অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়টি আগেই আমলে না নেওয়ায় হয়রান হচ্ছেন অনেকে।

ফরিদা বেগম নামে একজন পর্যটক বলেন, ‘এই আনন্দ আরও বেশি উপভোগ করা যেত, যদি হয়রানির শিকার না হতাম। এখানে যানবাহন থেকে শুরু করে সবখানে অতিরিক্ত টাকা নেয়া হচ্ছে।

বান্দরবান থেকে এসেছেন রিফাত নামে এক পর্যটক। তিনি কক্সবাজারের হোটেলে বুকিং পাওয়ার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, চার দিন আগে বান্দরবান থেকে কক্সবাজারের ২৫টা হোটেলে অনলাইনে বুকিংয়ের জন্য চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত হিলটন নামে একটি হোটেলে রুম পেয়েছেন। এক রুম এক রাতের জন্য চার হাজার টাকা দিতে হয়েছে তাকে।

এর আগে এই হোটেলে তিনি অনেকবার এসেছেন জানিয়ে বলেন, ‘সে সময় দুই হাজার টাকা ভাড়া ছিল। এখন টানা ছুটতে মানুষ বেশি এসেছে। তাই হোটেলগুলো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।’

তবে হোটেল হিলটনের ম্যানেজার ঊর্মি বড়ুয়া এক কক্ষের ভাড়া সর্বাধিক দুই হাজার টাকার বেশি নেওয়া হয় না বলে দাবি করেছেন।

তৌহিদুল ইসলাম নামে আরেক পর্যটক বলেন, টানা ছুটি কিংবা উৎসব হলেই কক্সবাজারের হোটেল-রিসোর্ট, গেস্ট হাউসগুলো কয়েক গুণ ভাড়া বাড়িয়ে দেয়। তাছাড়া রেস্তোরাঁ, দোকানের বার্মিজ পণ্য ও যানবাহনের চালকরা অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেন। সেবাদাতা এসব পেশাজীবীর বিরুদ্ধে অসদাচরণেরও অভিযোগ করেন তৌহিদ। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজর দেয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

অভিসার নামে একটি আবাসিক হোটেলে দুই হাজার টাকার কক্ষের ভাড়া সাড়ে আট হাজার টাকা নেয়ার অভিযোগ করেছেন তৌহিদুল। তাছাড়া হোটেলটি এক দিনের জন্য রুম ভাড়া দিতে রাজি হয়নি বলেও অভিযোগ তৌহিদের।

তবে হোটেলটির নির্বাহী কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন দাবি করেন, তাদের হোটেলে এক কক্ষের ভাড়া সব সময় ছয় হাজার টাকা। কখনও এর চেয়ে কম বা বেশি নেওয়া হয় না।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেলিম নেওয়াজ অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি খুব অন্যায়। এ ব্যাপারে সমিতি ও প্রশাসন যৌথভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিচ্ছে।’

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, টানা ৪-৫ দিনের সরকারি ছুটি রয়েছে। তাই এই ছুটিকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে বিপুল সংখ্যক পর্যটক এসেছে। সুনির্দিষ্টভাবে সংখ্যা না জানলেও বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছি কক্সবাজারে লাখো পর্যটক অবস্থান করছে।

তিনি বলেন, হোটেল মোটেল রিসোর্ট ও গেস্ট হাউসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ জেলা প্রশাসনের কাছেও এসেছে। এব্যাপারে হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানিয়েছে, নির্দিষ্ট ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত কোন ভাড়া নেয়া হচ্ছে না, তবে ছাড় কম দেয়া হচ্ছে এই ধরণের একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন তারা। তবে এব্যাপারে যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। যদি সুনির্দিষ্ট ভাড়ার বাইরে কেউ যদি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে বিধি- মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

পূর্বকোণ/আরাফাত/মামুন/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট