চট্টগ্রাম রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২২

৬ অক্টোবর, ২০২২ | ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ

মোহাম্মদ আলী

প্রজনন রক্ষায় ইলিশে নিষেধাজ্ঞা

একটি মা ইলিশ বছরে সর্বোচ্চ ২১ লাখ ডিম দেয়। এখন ইলিশের প্রজননের মওসুম। তাই কাল থেকে দেশের নদী ও সাগরে ফের ২২ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। আগামীকাল ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ বন্ধ থাকবে। একই সময়ে ইলিশ বিপণন ও পরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। শুধু তাই নয়, এসময় বন্ধ থাকবে চট্টগ্রামের ১৯টি বরফ তৈরির কারখানা ও ককসিট বক্স বিক্রির দোকান। এজন্য মৎস্য বিভাগসহ প্রশাসন কঠোর নজরদারি করবে বলে জানিয়েছেন। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন চট্টগ্রামের ২০ হাজার জেলেকে ২০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে।

চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, সারাদেশে ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন হয় প্রায় সাড়ে ৫ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে চট্টগ্রামে হয় ৭ হাজার ৪৪ মেট্রিক। এছাড়া চলতি অর্থ বছরের প্রথম তিন মাস জুলাই-সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে ইলিশ উৎপাদন হয়েছে ৫ হাজার ৬১২ মেট্রিক টন। এদিকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ দেশের উপকূলীয় এলাকায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জেলেপল্লীগুলো। তবে তাদের অভিযোগ, আমরা সঠিকভাবে সরকারি নিষেধাজ্ঞা পালন করলেও ভারতীয় জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে মাছ শিকার করে নিয়ে যায়।

 

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য অফিসার ফারহানা লাভলী দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘মা ইলিশ রক্ষায় সরকার এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আগামী ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত বঙ্গোপসাগর ও দেশের যেসব নদীতে ইলিশ ধরা হয় সেসব জায়গায় সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। এ সময়ে বিশেষ করে যেসব এলাকায় ভারতীয় জেলে প্রবেশের আশঙ্কা থাকবে সেখানে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী আলাদাভাবে মনিটরিংয়ে থাকবে বেশি। এছাড়াও প্রশাসন, কোস্টগার্ড এবং মৎস্য বিভাগের লোকজন বাজার, সাগর ও নদীতে সমানে অভিযান পরিচালনা করবে।’

ফারহানা লাভলী বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন চট্টগ্রামের ৫ উপকূলীয় উপজেলা সন্দ্বীপ, বাঁশখালী, আনোয়ারা, সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার পতেঙ্গা, হালিশহরসহ বিভিন্ন এলাকার ২০ হাজার জেলেকে ২০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে।’

পতেঙ্গা এলাকার জেলে হরিপদ জলদাস জানান, নিষেধাজ্ঞাকে সামনে রেখে প্রতিদিনই আমরা দু-একটা জাল তীরে নিয়ে আসি। এভাবে অবরোধ শুরুর আগ মুহূর্তে মাছ ধরার সব সরঞ্জামাদি তীরে নিয়ে আসবো।
মৎস্য আড়তদার মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারের দেওয়া নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে যাতে জেলেরা মাছ ধরার চেষ্টা না করে সেজন্য তাদের সচেতন করতে সক্ষম হয়েছি। এমনকি প্রতিটি পরিবারকে সচেতন করেছি, যাতে এ সময়ে কেউ ইলিশ না কেনেন।

সদরঘাট নৌ-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একরাম উল্লাহ বলেন, ‘একদিন পরই মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে। এখন থেকে আমরা জেলে, ব্যবসায়ীদের কাছে যাচ্ছি সতর্ক করে প্রচারণা ও সচেতন করছি। একটি ইলিশ একবার সর্বোচ্চ ২১ লাখ ডিম দেয়। তাই প্রজননের সময়ে দেশের স্বার্থে ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সাগরে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞার কথা বলছি। এছাড়াও বরফ কারখানা, ককসিট বক্সের দোকান বন্ধ থাকার কথাও বলছি। যদি এর ব্যত্যয় ঘটে তাহলে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে সেই কথাও বলছি।’

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট