চট্টগ্রাম রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২২

৬ অক্টোবর, ২০২২ | ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

টমেটোর জন্য আর নয় শীতের অপেক্ষা

টমেটোর জন্য এখন আর শীতকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। গ্রীষ্মের খরতাপেও মিলছে ক্ষেতের তরতাজা টমেটো। খেতেও সুস্বাদু। চলতি মৌসুমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ। অসময়ে রোপণ করা টমেটোর ভালো দাম পাওয়ায় চাষাবাদে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।
কৃষি বিভাগ জানায়, বিশেষ পদ্ধতিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর চাষাবাদ করা হয়। মাটিতে সারিবদ্ধ করে আইল ও বাঁশের কঞ্চি দিয়ে চারা রোপণ করতে হয়। এছাড়াও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ঝড়-বৃষ্টি থেকে সুরক্ষার জন্য উপরে পলিথিন বা ত্রিপলের ছাউনি দিতে হয়। সাদা পলিথিনের ছাউনি দিয়ে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ খুবই সহজ।

 

বোয়ালখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আতিক উল্লাহ পূর্বকোণকে বলেন, গ্রীষ্মকালে বারি (হাইব্রিড)-৪ ও বারি-৮ জাতের টমেটোর আবাদ করা হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করতে পারলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। গ্রীষ্মকালে উৎপাদিত টমেটোর ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে চাষাবাদে উৎসাহ বাড়ছে। কৃষি অফিস টমেটো চাষিদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে।

টমেটো মূলত শীতকালীন সবজি। শীত মৌসুমে মূলা, বেগুন, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিমসহ নানা ধরনের শাক-সবজি উৎপাদন করা হয়। এক সময়ে এসব সবজি খাওয়ার জন্য শীতকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। এখন উচ্চফলনশীল ও উন্নতজাতের বীজ উদ্ভাবনে সারাবছরই সবজি পাওয়া যায়। এখন আর শীতকাল নয়, গ্রীষ্মকালেও মিলছে ক্ষেতের তরতাজা সবজি।

কৃষি বিভাগ জানায়, অধিক ফলন আসায় এ টমেটো চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা। আগামী মৌসুম থেকে চাষাবাদের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। স্বল্পমেয়াদি, রোগ-প্রতিরোধক উন্নত ফলনশীল এ টমেটোর চাষ সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ৬টি টমেটোর জাত নিয়ে ২০২১ সাল থেকে কৃষক পর্যায়ে পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করে। এর মধ্যে বারি-৮ ও বারি-৪ নামে উন্নত জাতের টমেটোর চাষ করা হয়।

 

দেখা যায়, বোয়ালখালীর খরণদ্বীপে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে শোভা পাচ্ছে গ্রীষ্মকালীন টমেটো ক্ষেত। উপরে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে। বাঁশের কঞ্চির উপর দাঁড়িয়ে আছে টমেটোর গাছ। তাতে থরে থরে ঝুলে রয়েছে কাঁচা, আধাপাকা ও পাকা টমেটো। নিবিড় পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষি রূপক দে বলেন, গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করে বড় সফলতা মিলছে। এ টমেটো চাষ লাভজনক হওয়ায় চাষিদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। টমেটোর ফলন এবং দাম দুটিই ভালো পাওয়ায় অন্য চাষিরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।

আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর, চাতরী, বরুম চড়া, হাইলধর, জুঁইদণ্ডী ও বৈরাগ ইউনিয়নে প্রায় ৬০ শতাংশ জমিতে প্রথমবারের মতো গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করা হয়েছে। এসব এলাকায় পলিশেডে মালচিং পেপার ব্যবহার করে বারি-৮ জাতের টমেটো কলমের চারা রোপণ করেন চাষিরা। স্থানীয় কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ নিয়ে টমেটো চাষ করেছেন তারা।

 

ছাউনি দিয়ে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ খুবই সহজ। সাধারণত মে মাসের প্রথম দিকে বীজ বপন ও জুন মাসে ওই চারা ক্ষেতে রোপণ করতে হয়। জুলাই-আগস্ট মাসে ফল আসতে শুরু করে। একাধারে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাস পর্যন্ত টমেটো পাওয়া যায়।
পশ্চিম রায়পুর গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, ৬ শতাংশ জমিতে বারি-৮ জাতের টমেটো চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। চাষাবাদে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতিকেজি টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রমজান আলী বলেন, প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করা হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন চাহিদা পূরণ করতে উদ্ভাবিত বারি-৮ জাতের টমেটো চাষ করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ প্রদান এবং উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষি অফিস থেকে চাষিদের সবধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে ।

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট