চট্টগ্রাম সোমবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩

২ অক্টোবর, ২০২২ | ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রভাব পড়বে না ভোজ্যতেলে

বিশ্ববাজারে সয়াবিনের বুকিং দর কমতি, পর্যাপ্ত আমদানি ও জ্বালানি তেলের দাম কমতির কারণে ভোজ্যতেলের ভ্যাট মওকুফের সুবিধা প্রত্যাহারে বড় প্রভাব পড়বে না। বরঞ্চ সরকারের রাজস্ব বাড়বে। ভোজ্যতেল আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা এ তথ্য জানান।

 

খাতুনগঞ্জের ভোজ্যতেলের বড় পাইকারি ব্যবসায়ী মো. আলমগীর পারভেজ গতরাতে পূর্বকোণকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের বুকিং দর আগের চেয়ে অনেক কমেছে। এছাড়াও চলতি মৌসুমে উৎপাদনও ভালো হয়েছে। এছাড়া দেশেও পর্যাপ্ত ভোজ্যতেল মজুদ রয়েছে। সবমিলিয়ে আমদানি ও উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট মওকুফ সুবিধা প্রত্যাহারের পরও বাজারে বড় প্রভাব পড়বে না। বরঞ্চ সরকারের রাজস্ব বাড়বে।’

 

খাতুনগঞ্জ পাইকারি মোকামে গতকাল পামতেল বিক্রি হয়েছে মণপ্রতি ৪ হাজার টাকা দরে। ভ্যাট মওকুফের আগে তা ৬ হাজার ৫শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল। সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৮৫০ টাকা দরে। তাও আগে ৭ হাজার ২শ টাকায় পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল।
ব্যবসায়ী আলমগীর পারভেজ বলেন, ১০-১৫ দিন ধরে প্রতিদিনই ভোজ্যতেলের দাম কমতির দিকে রয়েছে। বাজার এখন আগের তুলনায় অনেক স্থিতিশীল।

 

গত মার্চ মাসে স্থানীয় বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়তে থাকে। গত ১৪ মার্চ এনবিআর প্রজ্ঞাপন জারি করে সয়াবিন ও পাম তেলের উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ এবং ব্যবসায় পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট মওকুফ করে। এর দুই দিন পরে ভোজ্যতেলের আমদানি পর্যায়ে আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়। তখন এর মেয়াদ ঠিক করা হয় ৩০ জুন পর্যন্ত। পরে ৩ জুলাই আরেকটি প্রজ্ঞাপনে ভ্যাট মওকুফ সুবিধার মেয়াদ বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর করা হয়। এখন ভোজ্যতেলের ভ্যাট হার আবারও আগের জায়গায় ফিরে গেল।

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ ব্যবসায়ী ও আগতদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন পূর্বকোণকে বলেন, ‘বিশ্বে করোনার প্রভাব ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে জাহাজ ভাড়া বাড়তি এবং ভোজ্যতেলের বুকিং দরের প্রভাবে বাজার অস্থির হয়ে ওঠেছিল। এখন বুকিং দর কমতির দিকে।

 

এছাড়াও জ্বালানি তেলের দাম কমায় জাহাজ ভাড়াও আগের চেয়ে কমেছে।’ তিনি আরও বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবও পড়েছিল ভোজ্যতেলে। এখন যুদ্ধের প্রভাব নেই। ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী দেশ ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় যুদ্ধের প্রভাব নেই। বৈশ্বিক প্রভাবে ভোজ্যতেলের দাম কমতির দিকে রয়েছে। তাই ভ্যাট সুবিধা প্রত্যাহারের পরও বাজারে বড় প্রভাব পড়বে না।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বছরে ২০ লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদা আছে। এর মধ্যে ২ লাখ টন স্থানীয় বাজার থেকে সংগ্রহ করা হয়। বাকি ১৮ লাখ টন আমদানি করা হয়।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট