চট্টগ্রাম শনিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৩

সর্বশেষ:

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ

সৈয়দ মাহফুজ-উন নবী খোকন

সীমান্ত দিয়ে কাউকে ঢুকতে দেব না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, মিয়ানমারে যে ঘটনাগুলো ঘটছে সেটা তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। মিয়ানমার তাদের দেশের মধ্যেই বিভিন্ন সময় সংকটের মধ্যে পড়েছে। আরাকান আর্মিসহ সেখানে বিভিন্ন বিছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী যুদ্ধ করছে। আমরা শুনেছি, আরাকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমার যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। এ ঘটনায় আমাদের দেশের কোনো সম্পর্ক নেই।

তিনি গতকাল (বৃহস্পতিবার) সাতকানিয়ার বায়তুল ইজ্জতে অবস্থিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রশিক্ষণ কুচকাওয়াজ শেষে এসব কথা বলেন।

বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার এন্ড কলেজের ৯৮তম ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন এবং বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের বিজিবি অত্যন্ত যোগ্যতার সঙ্গে বর্ডার অঞ্চল রক্ষা করে চলেছে। সেই জায়গায় আমরা আরও জনবল (সৈনিক) বৃদ্ধি করেছি। যাতে করে সারাক্ষণ সীমান্তে বিজিবির চৌকিগুলোতে তারা পর্যবেক্ষণ করেন। বিজিবিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনোক্রমেই আরাকান আর্মি, মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিপি) কিংবা অন্য কোনো বাহিনীর সদস্য যেন আমাদের সীমানায় না ঢুকতে পারে- সেই লক্ষ্যে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিজিবি রাতদিন কাজ করছে। নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা নতুন করে কাউকে আহ্বান করছি না। তাদের সীমানায় তারা যুদ্ধ করুক, আমাদের সীমানায় তাদের ঢুকতে দেব না, এটা আমাদের ক্লিয়ার মেসেজ।

এর আগে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে নবীন সৈনিকদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শৃঙ্খলা হচ্ছে সৈনিকের মূল পরিচিতি। আদেশ ও কর্তব্য পালনে যে কখনো পিছ পা হয় না সে-ই প্রকৃত সৈনিক। সততা, বুদ্ধিমত্তা, নির্ভরযোগ্যতা, আনুগত্য, তেজ ও উদ্দীপনা একটি বাহিনীর শৃঙ্খলা ও পেশাগত দক্ষতার মাপকাঠি। তিনি বিজিবি’র চারটি মূলনীতি- মনোবল, ভ্রাতৃত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা’-এ উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত হয়ে বিজিবি’র উপর অর্পিত যেকোন দায়িত্ব সুশৃঙ্খল ও সুচারুরূপে পালন করে দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার সুমহান দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১৯৭৪ সালের ৫ ডিসেম্বর তৎকালীন বিডিআর-এর ৩য় ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত চোরাচালান বিরোধী ও প্রেষণামূলক বক্তব্যের কথা স্মরণ করে চোরাচালান রোধে নবীন সৈনিকদেরকে পেশাগত দক্ষতা অর্জনসহ ব্যক্তিগতভাবে সুদৃঢ়, সুশৃঙ্খল, নির্ভীক ও নির্লোভ চরিত্রের অধিকারী হয়ে নিজেদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে সবর্দা সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান। তিনি নবীন সৈনিকদের প্রদর্শিত কুচকাওয়াজের প্রশংসা করেন এবং নবীন সৈনিকদের নতুন জীবনে স্বাগত জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিংবদন্তি মহানায়ক বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া এই বাহিনী তাঁরই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী দিকনির্দেশনায় আজ একটি সুসংগঠিত, চৌকস, সুশৃঙ্খল ও পেশাদার বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।

এবার বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার এন্ড কলেজ ও চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন থেকে (বিজিবি) ৯৮তম রিক্রুট ব্যাচের ৮৪৯ জন সৈনিক শপথ গ্রহণ করেন। দীর্ঘ ২৪ সপ্তাহের অত্যন্ত কঠোর ও কষ্টসাধ্য প্রশিক্ষণ সমাপ্তের মধ্য দিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে সৈনিক জীবন শুরু হলো তাদের। শপথ নেওয়া ৮৪৯ সৈনিকের মধ্যে ৮০৩ জন পুরুষ ও ৪৬ জন নারী রয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বিজিবি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনিক ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবগ উপস্থিত ছিলেন।

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট