চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ১২:৪১ অপরাহ্ণ

ইমরান বিন ছবুর

বিশ্বসেরা শিক্ষামঞ্চে প্রেসিডেন্সি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থীরা

ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশির ভাগেরই স্বপ্ন থাকে বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন করা। এই স্বপ্ন পূরণে একাডেমিক পড়াশুনার পাশাপাশি প্রয়োজন এক্সট্রা কারিকুলার কার্যক্রম। যা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসকে বাড়িয়ে দেয়। এক্সট্রা কারিকুলার কার্যক্রমে এগিয়ে রয়েছেন প্রেসিডেন্সি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থীরা। ম্যাথমেটিক্স, ফিজিক্স, সায়েন্স, কোডিং, রোবোটিক্স, টেকনোলোজি, ইঞ্জিনিয়ারিং রিলেটেড বিভিন্ন ক্লাব রয়েছে এই স্কুলে।

এসব ক্লাব শিক্ষার্থীদের টেলেন্ট বের করে আনতে সহায়ক হিসেবে কাজ করে বলে মনে করছেন প্রেসিডেন্সি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের মিডল ক্যাম্পাসের উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। ২০২২ সালে আমেরিকা, কানাডা, জাপান, হংকং, ইংল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেসিডেন্সি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে এ বছর ৪৫ জন শিক্ষার্থী স্কলারশিপ পেয়েছেন। তাদের অনেকেই উচ্চ শিক্ষার জন্য ইতোমধ্যে পাড়ি জমিয়েছেন কাক্সিক্ষত বিশ্ববিদ্যালয়ে। এসব শিক্ষার্থীদের চারজন তাদের স্বপ্নপূরণের কথা জানিয়েছেন দৈনিক পূর্বকোণকে।

বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে ১৮তম অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্যের ইউসিএল (ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন) বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থীকে ‘গ্লোবাল আন্ডারগ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ’ দিয়ে থাকে ইউসিএল। সেই ১০ জনের একজন প্রেসিডেন্সি ইন্টান্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থী সাদমান রহমান চৌধুরী।

সম্প্রতি তিনি বায়োকেমিস্ট্রি বিষয়ে এই স্কলারশিপ অর্জন করেন। তিনি বলেন, এসব বিশ্ববিদ্যালয় স্কলারশিপ দেয়ার ক্ষেত্রে একাডেমিক পড়াশুনার ৫০ ভাগ বিবেচনা করলেও বাকি ৫০ ভাগের ক্ষেত্রে অন্যান্য কার্যক্রম দেখে। আমরা পড়াশুনার পাশাপাশি কোনো ক্লাব, বিতর্ক ইত্যাদির সাথে যুক্ত ছিলাম কিনা বা কোনো অর্জন ছিল কিনা, এসব বিষয় তারা খুব গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে বলে আমি মনে করি।

জাপানের অন্যতম প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কিয়ুশু ইউনিভার্সিটি। জাপান সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের (কালচার, স্পোর্টস, সায়েন্স ও টেকনোলোজি) স্কলারশিপের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন প্রেসিডেন্সি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের আরেক শিক্ষার্থী সামি আদনান। সেখানে তিনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করবেন। ‘দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল দেশের বাইরের একটি ভালো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের। প্রেসিডেন্সির স্যারদের সহায়তার এই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে,’ জানান তিনি।

নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি আবুধাবিতে (লিবারেল আর্টস) ফুলব্রাইট স্কলারশিপ পেয়েছেন নওশিন ফাতিমা নোহা। টিউশন ফি, থাকা-খাওয়ার যাবতীয় খরচ ও দেশে যাতায়াতের ফ্লাইট খরচ এই স্কলারশিপের মধ্যে রয়েছে।

দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে পড়াশোনার বাইরে আর কী কী প্রয়োজন হয় বলে মনে করেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে নওশিন ফাতিমা বলেন, দেশের বাইরে স্কলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে একাডেমিক পড়াশুনার পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিস অবশ্যই মূল্যায়ন করবে। প্রেসিডেন্সিতে ভর্তি হওয়ার পর আমি বিতর্ক থেকে শুরু করে অনেকগুলো এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিসের সাথে যুক্ত হয়েছি। আমার মনে হয়, এই স্কলারশিপ পাওয়ার পেছনে এগুলো অনেক বেশি ভূমিকা রেখেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন মিসিসিপির স্কলারশিপ পেয়েছেন তহুরা খানম এশা। বায়োমেডিকেল সায়েন্স বিষয়ে তিনি ফ্রেশম্যান একাডেমিক এক্সিলেন্স স্কলারশিপ পেয়েছেন। দৈনিক পূর্বকোণকে তিনি জানান, কয়েক বছর আগেও আমরা স্যারদের কাছ থেকে শুনতাম, আমাদের সিনিয়ররা বিশ্বের সেরা বিশ^বিদ্যালয়গুলোতে স্কুলারশিপ নিয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন। আমি তখন থেকে স্বপ্ন দেখতাম, স্কলারশিপ নিয়ে দেশের বাইরে গিয়ে ডিগ্রি অর্জন করবো। প্রেসিডেন্সির স্যারদের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন মিসিসিপিতে বায়োমেডিকেল সায়েন্স বিষয়ে স্কলারশিপ পেয়েছি। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।

জানতে চাইলে প্রেসিডেন্সি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, সামগ্রিক শিক্ষার উন্নয়নের জন্য আমরা কাজ করি। আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র একাডেমিকেলি ভালো করবে তা নয়। ওদের নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতাগুলো যাতে ভালো হয়, তা নিয়েও আমরা কাজ করি। ওদের প্রেজেন্টেশন স্কিল যদি আমরা ভালো করাতে পারি, তাহলে ইন্টারভিউসহ বিভিন্ন কাজ তারা আত্মবিশ্বাসের সাথে সম্পাদন করতে পারবে।

উপাধ্যক্ষ আরো জানান, শিক্ষার্থীরা যে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে, এটা তাদের আত্মবিশ্বাসকে আরো বাড়িয়ে দেয়। আমরা একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দক্ষতাগুলো উন্নত করার জন্য কাজ করি, সেই সাথে প্রতিটি শিক্ষার্থীর ভিতরের মেধাকে বের করে আনতে আমরা চেষ্টা করি। সেজন্য আমাদের অনেকগুলো এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিস আছে। এগুলো শিক্ষার্থীদের প্রোফাইল অনেক বেশি সমৃদ্ধ করে এবং তারা অনেক বেশি কম্পিটেটিভ হয়।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডার গ্রেজুয়েট বা ব্যাচেলর কোর্সগুলোতে শিক্ষার্থীদের স্বাধীনভাবে অনেক কাজ করতে হয় এবং প্রচুর পড়াশুনা করতে হয়। সেজন্য সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক রেজাল্টের পাশাপাশি তাদের প্রোফাইলও দেখে। একাডেমির বাইরে শিক্ষার্থীদের শখ, লিডারশিপ স্কিল ইত্যাদি নিরীক্ষা করে তাদের মূল্যায়ন করে।

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট