চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ১১:১২ পূর্বাহ্ণ

নাজিম মুহাম্মদ

প্রতিদিন পাঁচ ঘণ্টা যানজট

নগরীর দুই নম্বর গেটে দিনে অন্তত পাঁচ ঘণ্টা যানজট লেগেই থাকে। দীর্ঘ যানজট ষোলশহর দুই নম্বর গেট থেকে টেকনিক্যাল, মুরাদপুর মোড় অবধি ছাড়িয়ে যায়। এতে নষ্ট হচ্ছে ওই রুটে চলাচলরত মানুষের মূল্যবান কর্মঘণ্টা। তিন কারণে সমাধান হচ্ছে না দুই নম্বর গেটের যানজট। তা হলো, দুই নম্বর গেট রেল ক্রসিং, চুক্তিভিত্তিক বাস চলাচল ও ফুটওভার ব্রিজ না থাকা। তবে আপাতত এ যানজটের তেমন সমাধানও নেই নগর ট্রাফিকের কাছে। গতকাল (সোমবার) বিকেল ৫ টায় সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে দেখা যায় যানজটের দীর্ঘসারি। স্থানীয় লোকজন জানান, দুই নম্বর গেট এলাকায় এ ধরনের যানজটের চিত্র প্রতিদিনের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুই নম্বর গেট রেল ক্রসিং দিয়ে ট্রেন পার হবার সময় যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বহদ্দারহাট থেকে বন্দর কিংবা রাঙামাটি, হাটহাজারী, ফটিকছড়ি থেকে আসা যানবাহনকে দুই নম্বর গেইটের এ মোড় পার হয়ে প্রবেশ করতে হয়ে নগরীতে। এছাড়াও বায়েজিদ ফৌজদারহাট সড়ক হয়ে আসা যানবাহনের চাপও রয়েছে মোড়টিতে।

প্রতিদিন সাতজোড়া ট্রেন ১৪ বার দুই নম্বর গেট ক্রসিং পার হয়ে যাতায়াত করে। এরমধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ জোড়া ট্রেন ১০ বার, নাজিরহাটগামী এক জোড়া ট্রেন দুই বার ও দোহাজারিগামী এক জোড়া ট্রেন দুই বার আসা- যাওয়া করে। প্রতিটি ট্রেন দুই নম্বর গেট ক্রসিং পার হবার সময় কমপক্ষে ২০ মিনিট করে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। একটি ট্রেন ক্রসিং পার হতে ২০ মিনিট যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলে ১৪ বার ট্রেন আসা যাওয়ায় প্রায় ৫ ঘণ্টা যানবাহন আটকে থাকে সড়কে। লেগে যায় অসহনীয় যানজট। নষ্ট হয় মানুষের কর্মঘণ্টা। ট্রেন চলে যাবার পর ট্রাফিক সিগন্যাল তুলে দিলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হতে সময় লাগে অন্তত আরো ৪০ মিনিট। এরমধ্যে ফের চলে আসে আরেকটি ট্রেন। এ চিত্র প্রতিদিনের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ট্রাফিক সদস্য জানান, ট্রেন চলাচল ছাড়াও কাউন্টারভিত্তিক বাস চলাচল না থাকাও মোড়টিতে যানজটের আরো একটি কারণ। জানা যায়, মেট্রো প্রভাতী বাস ছাড়া অন্য কোন যানবাহনের কোন টিকেটের কাউন্টার নেই। অন্যসব বাস চুক্তিভিত্তিক চলাচল করে। অর্থ্যাৎ চালকরা নির্দিষ্ট অংকের ভাড়ার বিনিময়ে বাসগুলো চালায়। নো পার্কিংয়ের কারণে অধিকাংশ বাসের বিরুদ্ধে মামলাও রয়েছে। পরিবহন শ্রমিক নেতারা নিজেদের আর্থিক লাভের সুবিধার্থে কাউন্টার ভিত্তিক বাস চলাচলে নিরুৎসাহিত করে মালিকদের।

এছাড়া দুই নম্বর গেট থেকে জিইসি মোড় পর্যন্ত কোন ফুট ওভারব্রিজ না থাকায় সড়কের মাঝখান দিয়ে হেঁটে পার হতে হয় পথচারীদের। অনেক সময় পথচারীদের কারণে গতি কমে যায় যানবাহনের। রিকশা আর সিএনজি ট্যাক্সির এলোমেলো পার্কিং তো রয়েছেই।

জানতে চাইলে নগর ট্রাফিকের উত্তর জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) জয়নাল আবেদীন জানান, রেল ক্রসিংয়ে দিয়ে ট্রেন পার হবার সময় দিনে একাধিকবার দীর্ঘ যানজট হয়। বিষয়টির সমাধানও সময়সাপেক্ষ। তবে পথচারীদের পায়ে হেঁটে সড়ক পার হবার বিষয়টি সিটি কর্পোরেশন চাইলে সমাধানযোগ্য। দুই নম্বর গেট থেকে জিইসির মোড় পর্যন্ত কোন ফুট ওভারব্রিজ নেই। বিষয়টি সিটি কর্পোরেশনকে আমরা একাধিকবার জানিয়েছি। এছাড়া এ স্থানের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে পার্কিং খুবই অপ্রতুল।

ডিসি জয়নাল বলেন, বহদ্দারহাট থেকে অক্সিজেনমুখী যানবাহন দুই নম্বর গেটে ইউ টার্ন করে। প্রবর্তক থেকে অক্সিজেনমুখী যানবাহনও একই স্থান দিয়ে সড়ক পার হয়। লর্ডস ইন থেকে দুই নম্বর গেটের মধ্যবর্তী কোন স্থানে যদি সড়ক বিভাজন কেটে ইউটার্নের ব্যবস্থা করা হয় দুই নম্বর গেটে যানজট পুরোপুরি না হলেও কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে আনা যেত। বিষয়টি চাইলে সিটি কর্পোরেশন বাস্তবায়ন করতে পারে।

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট