চট্টগ্রাম সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ২:৪৭ অপরাহ্ণ

মরিয়ম জাহান মুন্নী

প্রচারণার ঘাটতিতে জমছে না পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর

মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের অবদান- আত্মত্যাগের ইতিহাস নিয়ে দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে গড়ে উঠেছে ‘পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর’। জাদুঘরটি নির্মিত হয়েছে প্রায় ছয় মাস। কিন্তু সেভাবে জমে উঠেনি। প্রচার-প্রচারণা আরও বাড়ালে আশানুরূপ দর্শনার্থী জাদুঘরটি পরিদর্শনে আসবে। এতে এটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যও সফল হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৪ মার্চ জাদুঘরটি উদ্বোধন করা হয়। দর্শনার্থীর জন্য উন্মুক্ত করা হয় ২৬ মার্চ, স্বাধীনতা দিবসে। এরপর গত ছয় মাসে জাদুঘরে দর্শনার্থী এসেছে সর্বমোট দুই হাজার ৪৬২ জন।

 

জাদুঘরের দায়িত্বরত কনস্টেবল মো. আবু হানিফ মিয়া বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৫-৮ জন দর্শনার্থী আসে। ছুটির দিনগুলোতে কখনো ২০ জনের বেশি দর্শনার্থীও হয়। যারা একবার এসেছেন সেই মুখগুলো আমরা বারবার দেখি। জাদুঘরে একটা বঙ্গবন্ধু কর্নার আছে। তাদের সেখানে বসে বই পড়তে দেখি।

জাদুঘরটি সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ছুটির দিন ছাড়া জাদুঘরে এক দিনে দর্শনার্থী হয় ৫-৮ জন। আবার ছুটির দিনগুলোতে দর্শনার্থী হয় ১১-২০ জন। জাদুঘর ঘুরে আরও দেখা যায়, ১৯৩০ সালে পাক-ভারত উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণাকারী মাস্টারদা সূর্যসেনের ফাঁসির মঞ্চ। মঞ্চের পেছনের বোর্ডে টাঙানো হয়েছে মৃত্যুদণ্ডের পূর্বে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে সূর্যসেনের লিখিত বক্তব্য। পাশেই রয়েছে বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ও চট্টগ্রাম বিপ্লবের অন্যতম বিপ্লবী নেত্রী কল্পনা দত্তের ছবি। ভেতরের একটি কক্ষে রয়েছে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবেদার রুহুল আমিনের ব্যবহৃত পোশাকসহ পিস্তল কাভার, মেডেলসহ ছবি। উত্তর দিকের একটি তাকে রাখা হয়েছে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্র, গোলা বারুদ। এছাড়াও আর.আই মুক্তিযোদ্ধা আকরাম হোসেন, উপ-পরিচালক পুলিশ সুপার নজমুল হক, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এম. শামসুল হকসহ ৮১ জন পুলিশ সদস্যের তথ্যচিত্রও শোভা পাচ্ছে। ভেতরের একটি কক্ষে রয়েছে বঙ্গবন্ধু কর্নার। বাঁধানো কাঁচের ফ্রেমে রয়েছে ঐতিহাসিক ১৯৭১ সালের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সের চিত্র।

 

দেশভাগের আগে থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ঐতিহ্যের নিদর্শন নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে ছয় হাজার বর্গফুট আয়তনের এই জাদুঘরটি। মূল কক্ষে প্রবেশ করতেই কানে ভেসে আসে মুক্তিযুদ্ধকালীন দেশাত্মবোধক গান। আছে একটি অডিও ভিজুয়্যাল গ্যালারি। সেখানে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রতিরোধে যুদ্ধের ওপর নির্মিত ডকুমেন্টারি দেখা যায়। তৎকালীন পুলিশ সদস্যদের ব্যবহৃত অস্ত্র, পোশাকসহ নানা স্মৃতি সংগৃহীত আছে।

জাদুঘরে ঘুরতে আসা শিক্ষার্থী উম্মে আয়শা বলেন, অসাধারণ সুন্দর ও তথ্যসমৃদ্ধ একটি জাদুঘর। কিন্তু এটি এখনো চট্টগ্রামবাসীর কাছে অজানা। আমাদের অনেক বন্ধুও জানে না এখানে এমন একটি জাদুঘর আছে। এটা মূলত প্রচার-প্রচারণার অভাবের কারণেই হয়েছে বলে ধারণা করি। যদি লিফলেট, ব্যানার কিংবা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করে মানুষকে জানানো যায় তবে এই জাদুঘর দেখতে লোকজন আসবে।

 

আগত আরেক শিক্ষাথী মোরশেদ আলম বলেন, এটি চট্টগ্রামের সম্পদ। কারণ এ জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধের ও দেশ ভাগের আগে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস তথ্যচিত্র আছে। এসব ইতিহাস শিক্ষার্থীদের পড়তে হয়। শিক্ষার্থীরা যদি চোখেও দেখে তাদের জন্য ভালো হবে।

ইমাম হাসান বলেন, পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরটিতে আমাদের বিমোহিত করেছে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে মাস্টারদা সূর্যসেনের ফাঁসির মঞ্চটি। বইয়ে পড়েছি কিন্তু সেই ঐতিহাসিক মঞ্চটির প্রতিকৃতি চোখে দেখে ইতিহাসকে দেখেছি মনে হল। এটা অন্যদের দেখার সুযোগ করে দেয়া উচিৎ।

 

এমন একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার নেপথ্যের কারণ প্রসঙ্গে সিএমপি’র অতিরিক্ত উপ কমিশনার শেখ শরিফ-উজ-জামান বলেন, মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামে পুলিশের যে অবদান সেগুলো মানুষের কাছে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গভাবে তুলে ধরতেই পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে। নতুন হিসেবে দর্শনার্থী ভালোই আসছে। দামপাড়ায় প্রধান সড়কের পাশে স্থাপিত হওয়ায় মানুষের নজরে পড়ছে। এরপরও জাদুঘর সম্পর্কে জানতে অনলাইনে একটি ফেসবুক পেজ আছে।

প্রাসঙ্গিক এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের অবদানের সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে জানতে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা আসুক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভিজিট করুক, এটা আমরা প্রত্যাশা করি। জাদুঘর পরিদর্শনে ফি নেয়া হচ্ছে মাত্র ২০ টাকা। বন্ধের দিনসহ প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত জাদুঘরটি সবার জন্য খোলা থাকে।

 

পূর্বকোণ/এএস

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট