চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ৯:০২ অপরাহ্ণ

চকরিয়া-পেকুয়া সংবাদদাতা

এমপি জাফর বললেন, ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যাবে না’

কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ জাফর আলম নিজের স্ত্রী ও দুই সন্তানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব দিতে মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুদক কার্যালয়ে হাজির হয়েছেন। দুপুর ১২টায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কক্সবাজার কার্যালয়ে উপস্থিত হন তারা। দু-ঘণ্টা পর বের হয়ে যান তারা।

গত ২৪ আগস্ট দুদক কক্সবাজার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিনের স্বাক্ষরে তাদের আলাদা চিঠি দিয়ে দুদকে তলব করা হয়। চিঠিতে সংসদ সদস্য আলহাজ জাফর আলম, তার স্ত্রী শাহেদা বেগম, মেয়ে তানিয়া আফরিন ও ছেলে তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী তুহিনকে হাজির হয়ে সম্পদের হিসাব দিতে বলা হয়।

দুদকের নোটিশ সূত্রে জানা যায়, এমপি জাফর আলম ও স্ত্রী-সন্তানরা সরকারি জমি, চিংড়িঘের, জলমহাল দখল ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনসহ নানা মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ আনা হয়। তাই তাদের এনআইডি কার্ড, পাসপোর্ট, আয়কর রিটার্নের কপি, ব্যাংক হিসাব বিবরণী, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রয়-বিক্রয়ের দলিল এবং তাদের ওপর নির্ভরশীলদের আয়ের বিবরণীসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলা হয়েছিল। ওই নথিপত্রই মঙ্গলবার জমা দিতে দুদক কার্যালয়ে হাজির হন আলহাজ জাফর আলম এমপি।

কয়েকটি সূত্র জানায়, গত সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় এমপি জাফর আলম অর্ধ কোটি টাকার নগদসহ স্থাবর অস্থাবর সম্পদের মালিক দেখালেও মাত্র ৪ বছরে চকরিয়া ও পেকুয়ায় নানা খাত থেকে কয়েকশত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। বিপুল সম্পদের মধ্যে স্ত্রী শিক্ষিকা শাহেদা বেগমের সম্পদই বেশি বলে সূত্র জানায়।

সূত্র মতে, এ সময়ে দুই উপজেলায় জমি বেচা-কেনার অন্তত ২০০ টি দলিল রয়েছে মর্মে অভিযোগ করা হয়। এছাড়া দেশে বিদেশে আরো বিপুল সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগে প্রকাশ।

দুদক ৪ সেপ্টেম্বর তাদের হাজির হওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছিল। এর আগেরদিন ৩ সেপ্টেম্বর সংসদ সদস্য জাফর আলম রাজনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে দাবি করে ২০ সেপ্টেম্বর হাজিরার শর্তে সময় নেন বলে নিশ্চিত করেন দুদক কতৃপক্ষ।
সেই মতে মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) সপরিবারে দুদক কার্যালয়ে হাজির হন।

দুদক কার্যলায় থেকে বের হয়ে সংসদ সদস্য আলহাজ জাফর আলম সাংবাদিকদের কোন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে গাড়িতে উঠার সময় শুধু বলেন, ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যাবে না’। তবে এর আগে তিনি দুদকের সম্পদের অনুসন্ধানকে একটি বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্র দাবি করে আসছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। পুরো তদন্ত প্রক্রিয়ায় আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা পূর্ণ সহযোগিতা করব।’

একইভাবে স্ত্রী শাহেদা বেগমের দাবি, ‘এই অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। মূলত আমার স্বামী সংসদ সদস্য জাফর আলমের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এই অভিযোগ দিয়েছে।’ তিনি প্রশ্ন করেন, ‘একজন নারীর পক্ষে জমি, চিংড়িঘের, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি করা কী সম্ভব?।’

তবে, দুদক কার্যালয় থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নোত্তরে সাংসদ পুত্র তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী তুহিন বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে আমার বাবার প্রতিপক্ষরা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। আমার বাবা একজন আইন প্রণেতা। আমাদের পরিবার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দুদকের তদন্তে সহযোগিতা করতেই আমরা সপরিবারে দুদক কার্যলয়ে উপস্থিত হয়ে যেসব নথিপত্র চেয়েছে তা জমা দিয়েছি। জেলার কতিপয় নেতার দূর্নীতি নিয়ে আমার বাবা বক্তব্য রাখায় এসব উদ্দেশ্যমূলক তোলা অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস’।

 

পূর্বকোণ/জাহেদ/মামুন/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট