চট্টগ্রাম সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ৬:৫০ অপরাহ্ণ

সীতাকুণ্ড সংবাদদাতা

সীতাকুণ্ডে এসিল্যান্ডের তৎপরতায় প্রাণে বেঁচে গেলেন চালক

মঙ্গলবার বেলা তখন সাড়ে ১১টা। সীতাকুণ্ডের শুকলালহাট এসকেএম জুট মিলস গেট এলাকায় দুমড়ে মুচড়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি কাভার্ডভ্যান। ওই কাভার্ডভ্যানের সামনে আটকে পড়ে আছেন গাড়িটির চালক রাকিবুল হাসান (২২)। কিন্তু দুর্ঘটনা কবলিত গাড়িটি দেখেও কেউ ওই চালককে বাঁচাতে এগিয়ে আসছিলেন না। ধীরে ধীরে তার রক্তক্ষরণ বাড়ছিলো। কিন্ত ক্রমশ শক্তি হারাতে বসা চালকটি খুব জোরে চিৎকারও করতে পারছিলেন না। ঠিক এমনি অবস্থায় ঘটনাস্থল পার হচ্ছিলেন সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আশরাফুল আলম। তিনি দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি পারও হয়ে যান। কিন্তু আবার কি মনে হতে নিজের গাড়ি ঘুরিয়ে ওই গাড়িটির কাছে ফিরে আসেন। এসে দেখেন ভেতরে থাকা চালকটি অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছেন। বাঁচার জন্য মৃদস্বরে আকুতি করছেন তখনো।

এমনি অবস্থায় চালককে গাড়ি থেকে বের করার কোন বিকল্প নেই বুঝতে পেরে তিনি অনেক চেষ্টা করেন। কিন্তু চালকের পা দুমড়ে যাওয়া গাড়ির মধ্যে এমনভাবে আটকে যায় যে কিছুতেই বের করা সম্ভব হচ্ছিল না। পরে তিনি বাইরে এসে অন্য গাড়ি চালক ও পথচারীদের সহযোগিতা চান। সবাই মিলে একটি দড়ি যোগাড় করে অপর একটি ট্রাকে বেঁধে দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাকের দুমড়ে যাওয়া অংশকে কিছুটা আলগা করার চেষ্টা চালান। তাতেও কোন কিছু করতে না পারায় তিনি ফোন করেন সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নুরুল আলম দুলালকে।

এদিকে ঘটনার পর একজন বিপদগ্রস্ত চালকের জন্য এসিল্যান্ডের এমন তৎপরতা দেখে ওই পথে যাবার সময় সেখানে এসে দাঁড়ান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহাদাত হোসেনও। এর মাত্র ৩ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় ফায়ার সার্ভিস। এরপর তারা উদ্ধার কাজ চালিয়ে গাড়ি চালক রাকিবকে উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে যাবার পর কতর্ব্যরত চিকিৎসক তাকে চিকিৎসা দিয়ে পায়ের উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেকে স্থানান্তর করেন। চালক রাকিবুল নওগাঁ জেলার নেয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা।

জানতে চাইলে সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশরাফুল আলম বলেন, আমি দুটি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলাম। শুকলালহাট এলাকায় দেখি একটি দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। আশেপাশে কেউ নেই। হঠাৎ মনে হলো ওই গাড়িতে কেউ থাকতে পারে। তাই আবার গাড়ি ঘুরিয়ে দেখলাম চালক আটকে আছেন। তার শরীর থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। ফলে তাকে রক্ষায় নিজের চেষ্টা শেষে ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলাম। তারা এসে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার নুরুল আলম দুলাল বলেন, এসিল্যান্ড স্যারের ফোন পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখি কাভার্ডভ্যানের ভেতর এক চালক আটকে আছে। তার পা থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে আমরা হাসপাতালে নিয়ে আসি। রক্তক্ষরণ হলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে না পারলে বেশিরভাগ রোগীই মারা যান। এসিল্যান্ড স্যারের তৎপরতায় যথাসময়ে তাকে রক্ষা করা গেছে বলে জানান তিনি।

 

পূর্বকোণ/পিআর/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট