চট্টগ্রাম রবিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২৩

সর্বশেষ:

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ

আরফাতুল মজিদ

কক্সবাজারে ২০ মামলার আসামির বিরুদ্ধে মামলা নিচ্ছেন না ওসি

চাঁদাবাজি, জমি দখল, খুন ও ডাকাতিসহ প্রায় ২০টি মামলার আসামির বিরুদ্ধে মামলা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসির বিরুদ্ধে। থানায় এজাহার জমা দেওয়ার সাড়ে ৫ মাস পরও মামলা নেয়নি ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াস। সাংবাদিকদের কাছে খোদ এমন অভিযোগ করেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি আবুল মনছুরের স্ত্রী দিল নেওয়াজ বেগম।

৫ মাস আগে নেওয়াজ বেগম ও তার শাশুড়ি সশরীরে কক্সবাজার সদর থানায় গিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারীর গডফাদার আবুল মনছুর ওরফে লুদুইয়ার বিরুদ্ধে এজাহার জমা দেন। কিন্তু অদৃশ্য কারণে সময় ক্ষেপণ করে মামলা নিচ্ছে না পুলিশ।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে- দিলনেওয়াজ বেগম কক্সবাজার শহরের রুমালিয়ারছড়া এলাকার হাজি আব্দুস ছবুর সওদাগরের মেয়ে। তার পিতা ২০২১ সালের ২৭ অক্টোবর কক্সবাজার সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নং ৪৭৫৭ মোতাবেক শহরের আলিরজাহান সাইফুল কমিউনিটি সেন্টারের পাশে ৮ শতক জমি হেবাদলিলমূলে রেজিস্ট্রি দেন দিলনেওয়াজকে।

সম্প্রতি সময়ে টাকার প্রয়োজন হওয়ায় জমিটি বিক্রি করার জন্য বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করার পর ক্রেতারা জমিটি দেখতে যান। কিন্তু ক্রেতাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে তার ভাই লুদুইয়া। একই সাথে ১০ লাখ টাকা চাঁদাও দাবি করছে।

দিলনেওয়াজ বেগম বলেন- চলতি বছরের ২৭ মার্চ আমি ও আমার শাশুড়ি গিয়ে ওসির কাছে এজাহার দিয়েছি। দীর্ঘ সাড়ে ৫ মাস অতিবাহিত হলেও কোন আইনি সহায়তা পায়নি। দীর্ঘদিন ধরে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় সদর থানার ওসির সাথে আমার স্বামী বেশ কয়েকবার কথা বলেন। এমনকি মোবাইলে মেসেজও পাঠান। আমার স্বামী ওসিকে এটাও বলেন যে; যদি মিথ্যা মামলা দিয়ে থাকি তবে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তার পরও অজ্ঞাত কারণে মামলাটি রুজু করেনি কিংবা আইনগত সহায়তা দেয়নি।

এজাহার উল্লেখ করে দিলনেওয়াজ বেগম বলেন- আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে ২০টির অধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। সব মামলা ও অভিযোগের নম্বার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এরমধ্যে খুন, ডাকাতি, জমি দখল ও চাঁদাবাজির মামলাও আছে।

নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে কথা বলতে চাইলে আবুল মনছুর ওরফে লুদুইয়া ব্যস্ত আছি বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াস বলেন, দিল নেওয়াজ বেগম ও তার শাশুড়ি এজাহার নিয়ে আমার কাছে এসেছিলেন সঠিক। মামলা রুজু না হওয়ার বিষয়ে ওসি বলেন- নিজ ভাই নিজ বোন থেকে চাঁদা দাবি করবে; এটা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। যার কারণে বিষয়টি তদন্তের প্রয়োজন ছিল। এছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছ থেকে অনুমতি না পাওয়ায় মামলা রুজু করা হয়নি।

এদিকে একজন পুলিশ অফিসারের স্ত্রীর এজাহার সাড়ে ৫ মাসেও মামলা রুজু না হওয়ায় নানান রহস্য তৈরি হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা বলছেন- এজাহার জমা দিলে মামলা না নেওয়ার কোন আইন নেই। মামলা নেওয়ার পর যদি ঘটনা মিথ্যা বা সত্য হয় সে অনুসারে রিপোর্ট দিবে। আর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি নিতেই কি সাড়ে ৫ মাস লাগে? এই এজাহার নিয়ে থানার ওসির রহস্য রয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রফিকুল ইসলাম বলেন, এজাহার জমা দেওয়া এবং মামলা রুজু না হওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি।

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট