চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ

নাজিম মুহাম্মদ

বাড়ছে ধর্ষণ মামলার জট

ডিএনএ প্রতিবেদন না পাওয়ায় যথাসময়ে ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারছে না চট্টগ্রাম নগর পুলিশ। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বছরের পর বছর সময় পার হওয়ায় বিলম্বিত হচ্ছে বিচার প্রক্রিয়া। দিন দিন বাড়ছে মামলার জট। বিলম্ব হচ্ছে আসামিদের জামিনের ক্ষেত্রে। নষ্ট হচ্ছে মামলার আলামত।

 

২০২০ সালের ১৬ নভেম্বর বায়েজিদ থানায় ধর্ষণের অভিযোগ এনে ২০ বছরের এক গৃহবধূ একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় জমির নামে একজনকে আসামি করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ১৪ নভেম্বর রাত নয়টায় স্বামীর মামা ঘরে ঢুকে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। তার  গোঙানির শব্দে প্রতিবেশী লোকজন এগিয়ে আসলে জমির পলিয়ে যায়। মামলা দায়েরের দেড় বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। ডিএনএ প্রতিবেদন না  আসায় মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারছেন না তদন্ত কর্মকর্তা।  শুধুমাত্র ডিএনএ প্রতিবেদন না পাওয়ার কারণে নগরীর ১৬ থানায় এ ধরনের ধর্ষণ ও খুনের ৩২৭টি এবং সাতটি অপমৃত্যু  মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আটকে আছে। থানায় দায়ের হওয়া মামলার বাইরেও আদালতে ধর্ষণের অভিযোগে গড়ে পাঁচটি মামলা হচ্ছে।

 

নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে বলা আছে, ধর্ষণে অভিযুক্ত আসামি হাতে-নাতে ধরা পড়লে তদন্ত করতে প্রথমে ১৫ দিন ও পরে ৩০দিন এবং সর্বোচ্চ ৪৫ দিনে তদন্ত শেষ করতে হবে। আসামি হাতেনাতে ধরা না পড়লে ট্রাইবুনাল থেকে তদন্তের আদেশপ্রাপ্তির তারিখ থেকে প্রথমে ৬০ দিন এবং পরবর্তীকালে আরও ৩০দিনে অর্থাৎ  সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে। অন্যথায় তদন্ত শেষ না হওয়ার কারণ লিপিবদ্ধ করে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ বা তদন্তের আদেশ প্রদানকারী ট্রাইবুনালকে অবহিত করতে হবে।

 

জানা যায়, পুলিশের মাসিক অপরাধ সভায় একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্যে ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড) প্রতিবেদন না পাওয়ার কারণে  বেশ কিছু নারী নির্যাতন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা যাচ্ছে না, এমন বক্তব্য উঠে এসেছে। অথচ অধিকাংশ মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ হয়ে গেছে। একইভাবে পোস্টমর্টেম, ভিসেরা ও মেডিকেল সার্টিফিকেট পেতে বিলিম্বিত হওয়ায় ৪৪১ টি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ঝুলে আছে  নগরীর ১৬ থানায়। এরমধ্যে পোস্টমর্টেমের কারণে ১৪৪টি অপমৃত্যু, ভিসেরা প্রতিবেদনের কারণে ৩৮টি অপমৃত্যু ও মেডিকেল সার্টিফিকেট (এমসি) না পাওয়ায় ২৫৯টি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আটকে আছে নগরীর বিভিন্ন থানায়।

 

জানতে চাইলে নগর পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় জানান, ডিএনএ প্রতিবেদন পেতে বিলম্ব হবার কারণে ধর্ষণ ও খুন সংক্রান্ত বেশ কিছু মামলার যথাসময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া যাচ্ছে না। একই অবস্থা পোস্টমর্টেম, ভিসেরা ও এমসির ক্ষেত্রে।  বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি আমরা।

 

চট্টগ্রাম মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. ফখরুদ্দিন চৌধুরী জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৩২ ধারায় বলা হয়েছে ডিএনএ প্রতিবেদন ছাড়া ধর্ষণ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া যাবে না। আইনের বাধ্যবাধকতা থাকায় ডিএনএ প্রতিবেদন ছাড়া তদন্ত কর্মকর্তারা ধর্ষণ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারছেন না।

 

পিপি ফখরুদ্দিন জানান, থানায়  দায়ের হওয়া ধর্ষণ মামলা ছাড়াও প্রতিদিন আদালতে গড়ে পাঁচটি মামলা হচ্ছে। ল্যাবের স্বল্পতার কারণে মামলার জট বাড়ছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকার কারণে আলামতও নষ্ট হচ্ছে। বাংলাদেশে ডিএনএ ল্যাবরেটরি আছে দুটি। তাহলো ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি সিআইডি (ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট)। ও  ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোপাইলিং ল্যাবরেটরি। দুটোই ঢাকায়। সাতটি বিভাগীয় শহর চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশার, সিলেট, রংপুর ও ফরিদপুর  মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডিএনএর নমুনা নেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট