চট্টগ্রাম শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ১০:২০ পূর্বাহ্ণ

ইফতেখারুল ইসলাম

গৃহকর : আপিলে অসাধুদের পোয়াবারো

নগরীর রহমাননগর এলাকার নাসির নামর এক বাসিন্দার গৃহকর ৩ হাজার ৪০০ টাকার স্থলে পঞ্চবার্ষিকী কর পুনর্মূল্যায়ন বর্ধিত হার চট্টগ্রাম সিটি কর্পারশন (চসিক) ৪০ হাজার টাকা ধার্য্য করে। এই করদাতাকে চসিকের এক কর্মচারী ২০ হাজার টাকার বিনিময় বছর ১৫ হাজার টাকা গৃহকর ধার্য্য করে দেওয়ার প্রস্তাব দন। তবে তিনি রাজি হননি। তবে এটি ছোট ঘর বলে, কম দাবি করেছে। বড় ভবনে লাখ টাকার নিচে কথা নেই। গৃহকর আপিল নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) অসাধু কর্মকর্তাদের পোয়াবারো চলছে ।

অভিযোগ আছে, চসিকর পঞ্চবার্ষিকী কর পুনর্মল্যায়নর বিষয়টি এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য পোয়াবারো হয়েছে। তারা আপিলের মাধ্যমে গৃহকর কমিয়ে দেওয়ার নাম করে করদাতাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বিষয়টি করদাতা সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি নুরুল আবছার প্রকাশ্যে সমাবেশেও উল্লেখ করেছেন।

তাদের দাবি, ভাড়ার ভিত্তিত নয়, পূর্বের মত দৈর্ঘ্য-প্রস্তের ভিত্তিত কর ধার্য্য করা হলে হোল্ডিং মালিকরা যেমন রক্ষা পেত, তেমনি ঘুষের সুযোগও কমে যেত। চট্টগ্রাম করদাতা সুরক্ষা পরিষদর সমন্বয়ক হাসান মারুফ রুমি বলেন, এখন চসিকর আপিল মানে ঘুষবাণিজ্য। এটি এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। হোল্ডিং মালিকদের টাকার বিনিময় কর কমিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে। আমরা এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে বলছি।

তিনি বলেন, ৮৬ সালের গৃহকর আইন বাতিলের দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর বিকাল ৩টায় গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। তাছাড়া প্রতিদিনই পাড়া-মহল্লায় চলছে উঠান বৈঠক-মতবিনিময়। গণদাবির সংগ্রাম কখনা ব্যর্থ হয় না।

তবে গৃহকর নিয়ে আপিল বাণিজ্যের বিষয়টি চসিকের নজরেও এসেছে। এনিয়ে সংস্থাটি গত বুধবার স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তিত বলা হয় ‘আপিল করত গিয়ে কিংবা গৃহকর পরিশাধ করতে গিয়ে কর কর্মকর্তা/কর্মচারীদের দ্বারা কোন হয়রানির শিকার হলে কিংবা অনৈতিকভাব অর্থ দাবি করলে চসিক মেয়রের একান্ত সচিব (পিএস) এবং রাজস্ব কর্মকর্তার সঙ্গে যাগাযাগ করতে বলা হয়।’ তাছাড়া গত বহস্পতিবার অনুষ্ঠিত চসিকর ২০তম সাধারণ সভায় বিষয়টির প্রতি নজর রাখতে কাউন্সিলর ও কর্মকর্তাদের তাগাদা দেন মেয়র।

জানা যায়, চসিক ২০১৭ সাল পঞ্চবার্ষিক কর পুনর্মূল্যায়নের উদ্যাগ নিয়েছিল। তখন আন্দোলনের মুখ তা স্থগিত হয়। বর্তমান মেয়রের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৮ জানুয়ারি স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার কর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

গত জুলাই থেকে তা কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেয় চসিক। পুনর্মূল্যায়নর পর গত জুলাই মাস থেকে ভবন মালিকদর ঠিকানায় চিঠি পাঠানো হচ্ছে।

২০১৭ সাল কর পুনর্মূল্যায়নর পর ৩৪৭ কাটি ৫২ লাখ টাকা থেকে বেড়ে বার্ষিক কর নির্ধারণ করা হয় ৮৫১ কাটি ৩০ লাখ টাকা। নতুন কর পুনর্মূল্যায়ন সরকারি খাত ২ হাজার ৫৪৭টি হোল্ডিংয়র বিপরীত বার্ষিক দাবি ছিল ২৮০ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ১ লাখ ৮২ হাজার ৭০০ হোল্ডিংয়র বিপরীত বার্ষিক দাবি ধরা হয় ৫৭১ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

অনিয়মের অভিযোগের প্রমাণ পেলেই সাথে সাথে ব্যবস্থা : মেয়র

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আয়ের অন্যতম উৎস হল গৃহকর। তাই গৃহকর আদায়ের বিকল্প নেই। তবে, গৃহকর হতে হবে সহনীয় পর্যায়ে। ২০১৭ সালে যে এসেসমেন্ট করা হয়েছিল তা কোনভাবেই পরিশোধযোগ্য নয়। এই সমস্যার একমাত্র সমাধান হল আপিলের মাধ্যমে তা সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা। আপিল বোর্ডকে নির্দেশনা দেয়া আছে হোল্ডিং মালিকের সাথে আলোচনা করেই যেন কর নির্ধারণ করা হয়। আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্তে যদি কোন হোল্ডিং মালিক সন্তুষ্ট না হন তাহলে তার জন্য মেয়রের দরজা খোলা।

তিনি সরাসরি মেয়রের কাছে আসতে পারবেন। গৃহকর আপিল এবং আদায়ের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিটি মেয়র বলেন, রাজস্ব বিভাগের কারো বিরুদ্ধে যদি বিন্দুমাত্র অনিয়মের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায় সাথে সাথে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তার চাকরি থাকবে না। এক্ষেত্রে কারো সুপারিশ গ্রাহ্য হবে না।

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট