চট্টগ্রাম সোমবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ১২:৩৫ অপরাহ্ণ

এনায়েত হোসেন মিঠু

দুই চালকের দ্বন্দ্ব মেটানো দেখতে গিয়েই নিভে যায় চার তাজা প্রাণ

রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রামমুখী একটি মালবাহী লরি জোনাকী পরিবহনের একটি বাসকে ডানে চাপ দিলে বাসটি সড়কের পাশে একটি গাছের সঙ্গে লেগে অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায়। এসময় লরি ও বাসের চালক-সহকারীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হাতাহাতি পর্যায়ে পৌঁছায়। এতে সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। বিষয়টি মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ এবং স্থানীয় লোকজন মিমাংসার চেষ্টা চালায়।

এসময় হঠাৎ পেছন থেকে একটি দ্রুতগতির কাভার্ডভ্যান উৎসুক লোকজন ও পুলিশকে চাপা দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা লরির পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন এবং পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (মাস্তান নগর হাসপাতাল) আরো একজন মারা যান।

হতভাগা চারজনই মিরসরাইয়ের বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাদের লাশ হস্তান্তরের পর দাফন সম্পন্ন হয়। এরআগে বুধবার রাত ১১ টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই সোনাপাহাড় এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত বাস, মালবাহী লরি ও ঘাতক কাভার্ডভ্যানটিকে পুলিশি হেফাজতে নেয়া হলেও আটক করা হয়নি চালক-সহকারীকে।

নিহতরা হলেন উপজেলার মিরসরাই সদর ইউনিয়নের উত্তর গাড়িয়াইশ (রাবারড্যাম এলাকা) গ্রামের মো. শামসুদ্দীনের ছেলে শেখ ফরিদ (৩০) ও শেখ সুমন (২৫), উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের মো. হারুন মিয়ার ছেলে মেহেদী (২২) ও একই গ্রামের আবুল কাশেম (৬০)। এতে গুরুতর আহত হন জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মোস্তফা।

প্রত্যক্ষদর্শী সিএনজি অটোরিকশা চালক আব্দুস সালাম জানান, ‘ঘটনাস্থলের বিপরীত পাশে চলমান সিএনজি স্টেশন। সেখানে কেউ সিএনজি নিতে গেছে আবার কেউ কেউ নিজের সিএনজি অটোরিকশা স্টেশনে রাখতে গেছে। এসময় সড়কে দুই গাড়ির মধ্যে ঝামেলা সৃষ্টি হলে তারাও উৎসুক মানুষের সঙ্গে সেখানে যায়।’

নিহত দুই সহোদর শেখ ফরিদ ও শেখ সুমনের বাবা অটোরিকশা চালক শামসুদ্দীন বলেন, ‘প্রথম দুইটি গাড়ির মধ্যে জামেলা সৃষ্টি হওয়ার পর পেছন থেকে আরেকটি কাভার্ডভ্যান ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শুধু গাড়ি আটক করলে হবে না, এসব গাড়ির ড্রাইভার ও হেলপারকেও আটক করে শাস্তি দিতে হবে।’

মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, দুর্ঘটনায় আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে মো. মোস্তফা চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার শারিরিক অবস্থার আগে থেকে উন্নতি হয়েছে। দুর্ঘটনায় যুক্ত জোনাকী পরিবহনের বাস, লরি ও কাভার্ডভ্যানটি আটক করে হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তবে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের চালক-সহকারী কাউকেই আটক করা যায়নি।

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট