চট্টগ্রাম সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

সর্বশেষ:

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩৬ নারী-পুরুষকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মমুখী করল র‌্যাব

অপরাধে জড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকার এমন ৩৬ জন নারী-পুরুষকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মমুখী করেছে র‌্যাব। প্রশিক্ষণ শেষে গতকাল (বৃহস্পতিবার) তাদের হাতে সনদ ও সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়। অপরাধে জড়ানোর আগেই এসব নারী-পুরুষকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করা হয়েছে।

গতকাল বিকালে কক্সবাজারের লং বিচ হোটেলের বলরুমে এ উপলক্ষে ‘নবজাগরণ : অপরাধকে না বলুন’ শীর্ষক এক কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও র‌্যাবের মহাপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন কর্মশালায় অংশ নেন। কর্মশালায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, তারা কেউ অপরাধী না। তবে জড়ানোর আশংকা ছিল। কক্সবাজারে দারিদ্র্য ও কর্মসংস্থান কম, এমন সব এলাকা থেকে তাদের বাছাই করা হয়েছে। তাদের আলো দেখিয়েছে র‌্যাব। তারা এখন কাজ করে পরিবারে অবদান রাখবে।

আইজিপি বেনজীর আহমেদ বলেন, র‌্যাব আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে ও নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধের কাজ করে। র‌্যাব এটা নিয়মিত করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, জানি, কেউ অপরাধী হয়ে জন্মায় না। সমাজ মানুষকে অপরাধী করে। আমরা শূন্য অপরাধের দেশ হতে চেষ্টা করতে পারি।

র‌্যাবের মহাপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সারা দেশে যে মামলা হয়, তার ৪০ শতাংশ মাদকের মামলা। আমরা প্রতিবছর অনেক মাদক উদ্ধার করি। কিন্তু মাদক কারবারিরা তাদের পাচারের ধরন পরিবর্তন করে, আমরাও অভিযানের ধরন পরিবর্তন করি। কাজ করি।

তিনি বলেন, মাদক প্রতিরোধে আমরা কিছু গঠনমূলক, সৃজনশীল ও গবেষণামূলক কাজ করেছি। যেসব জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছে, তাদের আমরা খোঁজ-খবর নিচ্ছি, যোগাযোগ রাখছি। যারা যে কাজ করতে চায়, সেই কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছি। নতুন পথ দেখাচ্ছি।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, তরুণ বয়সের ছেলেমেয়েরা বেশি অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। কেবল ফৌজদারি মামলা দিয়ে সমাজকে অপরাধমুক্ত করা যাবে না। যারা প্রথম পর্যায়ে অপরাধ করে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা না দিয়ে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত।

কক্সবাজারের মেয়র মজিবুর রহমান বলেন, কক্সবাজারে আগে টোকাই ছিল, এখন কিশোর গ্যাং হয়েছে, তারা এখন অপহরণ করে। এগুলো রোধ করতে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। এই শহরে চাঁদাবাজ, টোকাই, কিশোর গ্যাং এটা ভাবা যায় না।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ বলেন, র‌্যাবকে অভিনন্দন, তারা এই উদ্যোগে প্রথমেই কক্সবাজারকে বেছে নিয়েছে। তিনি বলেন, এই ধরনের আয়োজনে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো আরও উৎসাহ পাবে, একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) মাহফুজুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে গ্রুমিং হয়েছে, তাদের মধ্যে সহিষ্ণুতা বেড়েছে। তারা কাজ করবে। এই ধরনের কর্মশালার মাধ্যমে অপরাধ কমে আসবে।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানিয়ছেন- মূলত যারা দীর্ঘদিন ধরে বেকার ও যাদের আশপাশে বা পরিবারে অপরাধী রয়েছে, তাদের মাধ্যমে অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল, সেসব বেকার মানুষকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মমুখী করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। র‌্যাব এই উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রথম দফায় ২৫ জন পুরুষ ও ১১ জন নারী প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। যারা এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তারা সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিজেদের সংযুক্ত করবেন।

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট