চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ

মিজানুর রহমান

পেনশন নিয়ে টেনশন

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পাহাড়তলী বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্রের গাড়ি চালক আব্দুল গণি অবসরে যান ১৯৯৩ সালে। ১ বছরের অবসরোত্তর ছুটি কাটিয়ে ১৯৯৪ সাল থেকে পেনশন নেওয়া শুরু করেন তিনি। ২০০০ সালে গণির মৃত্যুর পর স্ত্রী রিজিয়া খাতুন পেনশন ভোগ করেন। ২০১৬ সালে রিজিয়াও মৃত্যুবরণ করলে তাদের প্রতিবন্ধী সন্তান গোলাম মোস্তফার নামে পেনশন বই ইস্যু করা হয়। তবে ২০২১ এর অক্টোবর থেকে মোস্তফাকে পেনশন দেওয়া স্থগিত করে দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ।

লাইনম্যান-বি হিসেবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আগ্রাবাদ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন মো. ওবায়দুল হক। ২০০০ সালে অবসর গ্রহণের পর ১ বছরের অবসরোত্তর ছুটি কাটিয়ে ২০০১ সাল থেকে পেনশন নেওয়া শুরু করেন তিনি। ২০১০ সালে স্ত্রীকে হারানো ওবায়দুল হক ২০২০ সালে মারা গেলে তার প্রতিবন্ধী সন্তান আবু সাঈদের নামে পেনশন বই ইস্যু করা হয় বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে। ২০২১ এর অক্টোবর থেকে তাকেও পেনশন দেওয়া স্থগিত করে দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ।

শুধু গোলাম মোস্তফা বা আবু সাঈদ নন- এরকম অন্তত ১৬ জন প্রতিবন্ধীর পেনশন ১ বছর ধরে স্থগিত করে রেখেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ বিভাগে চাকরি শেষে অবসর নেওয়া কর্মচারীদের প্রতিবন্ধী সন্তান হিসেবে পেনশন ভোগ করছিলেন তারা। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- নিজেদের সিদ্ধান্তে প্রতিবন্ধী সন্তানদের পেনশন স্থগিত করেননি তারা। ‘সরকারি কর্মচারীগণের পেনশন সহজীকরণ আদেশ-২০২০’ এর প্রজ্ঞাপনে অস্পষ্টতা থাকায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়- ২০০৯ সালের ২৭ জানুয়ারি পেনশন নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা স্মারকের ৩.০৪ অনুচ্ছেদে প্রতিবন্ধী সন্তানদের আজীবন পারিবারিক পেনশন প্রাপ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে চাকরি শেষে অবসর নেওয়া কোনো কর্মচারী এবং তার স্ত্রী/স্বামী মারা গেলে প্রতিবন্ধী সন্তানকে পেনশন দেওয়া শুরু করে বিদ্যুৎ বিভাগ। তবে ২০২০ এর ৬ ফেব্রুয়ারি আরেকটি প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রতিবন্ধী সন্তানকে পেনশন দেওয়ার ক্ষেত্রে ৭টি শর্ত যোগ করে দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনের ৩.০৩ অনুচ্ছেদের ২ নম্বর শর্তে বলা হয়- ‘কোনো কর্মচারীর প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে তিনি চাকরিরত অবস্থায় কিংবা পেনশন ভোগরত অবস্থায় উক্ত প্রতিবন্ধী সন্তানের বিষয়ে উপযুক্ত দলিল নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করবেন’। কিন্তু যেসব কর্মচারী নতুন প্রজ্ঞাপন জারির পূর্বে মারা যাওয়ায় কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করতে পারেননি, কিন্তু প্রতিবন্ধী সন্তানরা পেনশন ভোগ করে আসছেন- তাদের ক্ষেত্রে শর্ত প্রযোজ্য হবে কি না- তা নতুন প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়নি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের এই অস্পষ্টতার কারণেই চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ বিভাগে চাকরি শেষে অবসর নেওয়া কর্মচারীদের প্রতিবন্ধী সন্তানদের পেনশন স্থগিত করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। শর্তের মধ্যে অর্ন্তভুক্ত না করে তাদের পেনশন ফের চালু করা হবে, নাকি শর্ত প্রতিপালন না করায় পেনশন বন্ধ করা হবে- সেই বিষয়ে মতামত চেয়ে হিসাব দপ্তরের পরিচালককে চিঠি দিয়েছেন আঞ্চলিক হিসাব দপ্তরের উপ-পরিচালক। ১ বছর ধরে পেনশন স্থগিত থাকায় বিপাকে পড়েছেন ১৬ প্রতিবন্ধীর পরিবার।

প্রতিবন্ধী গোলাম মোস্তফার ভাই গোলাম মুর্তুজা পূর্বকোণকে জানান, বাবার পেনশনের টাকায় ভাইয়ের সংসার চলে। ১ বছর ধরে তাকে পেনশনের টাকা দেওয়া হচ্ছে না। একাধিকবার বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করেও প্রতিকার পাইনি। তিনি বলেন, নতুন প্রজ্ঞাপন নতুন যারা পেনশনের আওতায় আসবেন তাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হওয়ার কথা। অথচ এই প্রজ্ঞাপনের অজুহাত দিয়ে ৫ বছর ধরে পেনশন পেয়ে আসা আমার ভাইকে এখন পেনশন দেওয়া হচ্ছে না। শুধু শুধুই হয়রানি করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আঞ্চলিক হিসাব দপ্তরের উপ-পরিচালক মুজিবুর রহমান পূর্বকোণকে বলেন, প্রতিবন্ধী সন্তান হিসেবে পেনশন পেতে হলে নতুন প্রজ্ঞাপনে কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। আগে থেকে প্রতিবন্ধী সন্তান হিসেবে পেনশন পেয়ে আসা ব্যক্তিরা এসব শর্তের বাইরে থাকবেন, নাকি তারাও অর্ন্তভুক্ত হবেন- প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই। এজন্য তাদের পেনশন স্থগিত করা হয়েছে। হিসাব দপ্তরের পরিচালককে চিঠি দিয়েছি। তাদের মতামত পেলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট