চট্টগ্রাম সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ

সারোয়ার আহমদ

পণ্য খালাসে ব্যয় হয় ১১ দিন বন্দরে ব্যয় হয় মাত্র ৯ ঘণ্টা

শুল্কায়ন কার্যক্রম থেকে ডেলিভারি পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে একটি আমদানি পণ্য খালাসে গড়ে ১১দিন সময় লাগলেও এক্ষেত্রে শুধু চট্টগ্রাম বন্দরে সর্বসাকূল্যে সময় লাগে মাত্র ৯ ঘণ্টা। সম্প্রতি (৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রকাশিত ‘কম্প্রিহেনসিভ টাইম রিলিজ স্ট্যাডি (টিআরএস)’ রিপোর্টে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি সংক্রান্তে সকল প্রক্রিয়া শেষ করে একটি আমদানি পণ্য খালাস হতে গড়ে ১১ দিন ৬ ঘণ্টা ২৩ মিনিট সময় লাগে।

ওই রিপোর্টের পর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ গত আগস্ট মাসের পুরো সময় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ডেলিভারি হওয়া ২৪ ঘণ্টার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে তথ্য সংগ্রহ করে। সেই তথ্য উপাত্ত থেকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য ডেলিভারির ব্যয় হওয়া সুনির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করে বন্দরের পর্যবেক্ষণ লিখিত আকারে পাঠায় চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে।

গত সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল ম্যানেজারের দপ্তর থেকে পাঠানো ওই মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়- চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য ডেলিভারির সময় ব্যয় হয় দুটি ধাপে। প্রথমত, চট্টগ্রাম বন্দরের ডকুমেন্টেশান প্রক্রিয়ায় ব্যয়িত সময় এবং দ্বিতীয়ত মূল অপারেশন প্রক্রিয়ায় ব্যয়িত সময়।

এরমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের ডকুমেন্টেশান প্রক্রিয়া শুরু হয় চট্টগ্রাম কাস্টমসের শুল্কায়নসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া এবং শিপিং এজেন্ট/ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার কর্তৃক ডেলিভারি অর্ডার প্রাপ্তির পর। তার পূর্বে ব্যয়িত কোন সময় বন্দরের খাতে যোগ হবে না। চট্টগ্রাম বন্দরের ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেন্টার থেকে কনসাইনমেন্ট ভেরিফাই ও চার্জ আদায়ে সময় ব্যয় হয় সর্বোচ্চ ১০ মিনিট। এছাড়া সিএন্ডএফ এজেন্টসগণের কনসাইনমেন্ট ইনডেন্ট প্রদান করতে সময় লাগে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট। অর্থাৎ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারির ক্ষেত্রে বন্দরের ডকুমেন্টেশান প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ সময় লাগে ২০ মিনিট।

অন্যদিকে অপারেশনাল কাজের মধ্যে রয়েছে পণ্য ডেলিভারির জন্য সিএন্ডএফগণ বন্দরে ট্রাক/কাভার্ডভ্যান প্রবেশ, ট্রেলার প্রবেশ, লিফট অন, কর্গো লোড, স্ক্যানিং এবং ডেলিভারি।

মন্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শুক্র, শনি ও রবিবার ছাড়া অন্যান্য স্বাভাবিক দিন সমূহে ডেলিভারির জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে গড়ে ৩ হাজার কনটেইনার কিপ ডাউন করা হয়। এই কাজটি করা হয় রাত ১২টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত। অর্থাৎ প্রতিটি কনটেইনারে গড়ে সময় লাগে ১০ মিনিট।

এদিকে কার্গো লোডিং ও ট্রাকিংয়ের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে সিএন্ডএফ এজেন্টদের ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ও ট্রেইলর সরবরাহের ওপর। ডেলিভারি নেওয়ার জন্য ট্রাক/কাভার্ডভ্যান প্রবেশ করানো হয় দিনের ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। এই প্রক্রিয়ায় ট্রাক প্রবেশ থেকে পণ্য ডেলিভারি হয়ে গেট দিয়ে বের হওয়া পর্যন্ত গড়ে সময় লাগে ৯ ঘণ্টা। যা বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগের বায়োমেট্রিক ডাটা পর্যালোচনা করে পাওয়া যায়।

এছাড়া সিএন্ডএফ চাইলে একই দিনে ডেলিভারি নিতে পারে। সেক্ষেত্রে সব ধরণের কাস্টমস ও আমদানিকারকের ছাড়পত্র পাওয়ার পর বন্দর হতে ডেলিভারি হতে সময় লাগে মাত্র ৭ ঘণ্টা। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে স্বাভাবিক কার্যদিবসগুলোতে গড়ে একই দিনে ডকুমেন্টেশন, ইনডেন্ট, কিপ-ডউনসহ এমন ৬শ থেকে ৭শ কনটেইনার ডেলিভারি হয়ে থাকে।

অন্যদিকে বন্দর থেকে অন-চেসিস ডেলিভারির জন্য সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে ট্রেইলর প্রবেশ করানো হয়। ওই গাড়িগুলো কনটেইনার লোড করে স্ক্যানিং ও ডকুমেন্টেশনের কাজ শেষ করে বন্দর গেট দিয়ে বের হতে সময় লাগে গড়ে ৭ ঘণ্টা। এক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়- বন্দরের সব গেটে স্ক্যানার বসানোর কাজ শেষ করা গেলে পণ্য ডেলিভারির সময় উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।

বন্দরের ওই মন্তব্য প্রতিবেদনে এনবিআরের টিআরএস রিপোর্টকে একটি যুগোপযোগী পদক্ষেপ উল্লেখ করে বন্দরের প্রেরণকৃত মন্তব্যকে ভবিষ্যৎ প্রতিবেদনে বিবেচনার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট