চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ১২:০০ অপরাহ্ণ

নাজিম মুহাম্মদ 

ইয়াবা নিয়ে প্রতিদিন ধরা পড়ছে রোহিঙ্গা !

নিয়ম অনুযায়ী রোহিঙ্গা শরণার্থীরা কক্সবাজারে অবস্থিত ক্যাম্পের বাইরে যাওয়ার কথা নয়। কিন্তু প্রতিদিন চট্টগ্রাম নগরীর কোথাও না কোথাও ইয়াবাসহ ধরা পড়ছে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হাতে প্রতিদিন গড়ে একজন করে রোহিঙ্গা শারণার্থী ধরা পড়ছে ইয়াবা নিয়ে। যাদের অধিকাংশই সদ্য কৈশোর পার হওয়া তরুণ।

 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সৌমেন মণ্ডল জানান, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ইয়াবা বহনে ব্যবহার করছে পাচারকারীরা। টাকার লোভে তারা এ কাজ করছে। মূলত ইয়াবাগুলো তারা ঢাকায় নিয়ে  যাচ্ছে। যে কয়জন শারণার্থী ধরা পড়েছে সবাইকে ঢাকাগামী বাসে পাওয়া গেছে।  মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিধপ্তরের এ কর্মকর্তা আরও জানান, সম্প্রতি একজন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আমরা আদালতের নির্দেশে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছিলাম।  জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, রামু কলঘর এলাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ৯ হাজার ৬’শ টাকা মাসিক বেতনে চাকরি করতো। তার কাছে আমরা ৩ হাজার ৮শ পিস ইয়াবা পেয়েছিলাম। ঢাকাগামী একটি বাস থেকে তাকে আটক করা হয়েছিল। ওই  রোহিঙ্গা শরণার্থী জানিয়েছে, একহাজার ইয়াবা ঢাকায় পৌঁছে দিতে পারলে ১৫ হাজার টাকা দেয়া হয় বহনকারীকে। তবে ইয়াবা গন্তব্যে পৌঁছানোর পর শরণার্থী ক্যাম্পে ফিরলে বহনকারীকে  টাকা প্রদান করেন পাচারকারীরা।

 

সৌমেন মণ্ডল বলেন, বহনকারীরা যে সব সিম ব্যবহার করে তা ভুয়া নাম ঠিকানা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা হয়। অধিকাংশ বহনকারী মুল পাচারকারীকে  চিনে না। বিকাশে তাদের মধ্যে লেনদেন হয়। আমরা  এ পর্যন্ত ইয়াবাসহ যাদেরকে আটক করেছি  সবার সিমের রেজিস্ট্রেশন ভুয়া। বহনকারীরা জানিয়েছে- ৫শ টাকা দিলেই শরণার্থী ক্যাম্প এলাকায় সিম পাওয়া যায়।  উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে বসবাস করে এনায়েত উল্লাহ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী সৌদিয়া বাসে উঠে সে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর (শনিবার) সকাল আটটায় কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতুর টোল প্লাজায় বাসটি দাঁড় করায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। বাসে তল্লাশি চালিয়ে এনায়েত উল্লার (৩০) কাছে ১৪’শ ইয়াবা পাওয়া যায়।

 

একই দিন (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোর চারটার সময় কর্ণফুলী সেতুর টোল প্লাজায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা তল্লাশি চালায় ঢাকাগামী সেঁজুতি পরিবহনের একটি বাসে। বাসটির সামনের সিটে বসা খালেক নূর (২২) এর কাছ থেকে পাওয়া যায় ৫’শ পিস ইয়াবা। খালেক বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-ব্লকের মৃত সাইফুল ইসলামের ছেলে। দুটি ঘটনায় কর্ণফুলী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

 

গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত একটায় শাহ আমানত সেতু এলাকায় ঢাকাগামী শ্যামলী এনআর ট্রাভেলস বাসে তল্লাশি চালান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। বাস থেকে ৯৯০ পিস ইয়াবাসহ এক  যুবককে আটক  করা হয়। ওই যুবকের নাম শফি আলম।  সেও রোহিঙ্গা শরণার্থী। বালুখালী ৯ নম্বর ক্যাম্পের সি-ব্লকে থাকে। তার বাবার নাম মৃত মোহাম্মদ আলম। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক ফাহিম রাজু বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

 

সদ্য কৈশোর পার হওয়া কাইছার প্রকাশ ইউনুছ (১৯) থাকে বালুখালী  শরণার্থী ক্যাম্পের সি-ব্লকে। তার বাবার নাম আবদুল রশিদ। গত ৯ সেপ্টেম্বর ভোর  চারটায় শাহ আমানত সেতুর টোল প্লাজায় মারসা বাস থেকে ১৪৫০ পিস ইয়াবাসহ কাইছারকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক ছানাউল্লাহ মিয়া বাদী হয়ে চান্দগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন।

 

গত ৬ সেপ্টেম্বর রাত তিনটায় চকবাজার থানার সেন্ট্রাল প্লাজা এলাকায় অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ সময় ঢাকাগামী শ্যামলী এনআর ট্রাভেলস বাস থেকে খাইরুল ইসলাম প্রকাশ হারুন নামে একজন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আটক করা হয়। তার কাছে ২১২০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। খাইরুল ইসলাম বালুখালী ৯ নম্বর ক্যাম্পের নুর আহম্মদের ছেলে। ১৯ বছর বয়সী জাহিদ হোসেন টেকনাফ উনচিংপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শরণার্থী। তার বাবার নাম মৃত আবদুল্লাহ। গত ৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে তিনটায় শাহ আমানত সেতুর টোল প্লাজায় ঢাকাগামী হানিফ পরিবহন থেকে জাহিদকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ৩৮০পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পাহাড়তলী সার্কেলের উপ-পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে কর্ণফুলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট