চট্টগ্রাম রবিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৩

২৮ আগস্ট, ২০২২ | ৪:৩৪ অপরাহ্ণ

চবি সংবাদদাতা

চবিতে ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড : বর্তমান বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনার

জাতীয় শোক দিবস-২০২২ উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড : বর্তমান বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৮ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১ টায় ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সেমিনারটির আয়োজন চবি শিক্ষক সমিতি।

এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার প্রধান অতিথি এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর বেনু কুমার দে। সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক বাংলা একাডেমির সভাপতি সেলিনা হোসেন।

 

এ সময় উপাচার্য বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। জাতির পিতা তাঁর স্বপ্ন পূরণে যখন সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তখনই হায়েনার দল তাকে সপরিবারে হত্যা করে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রকে বিশ্ব মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার ঘৃণ্য অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছিল তারা। নরপশুদের সে মনোবাসনা পূরণ হয়নি, তারা নিজেরাই ইতিহাসের ঘৃণ্য কীট হিসেবে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিরলস পরিশ্রম করে জাতির পিতার স্বপ্ন ধাপে ধাপে পূরণ করে চলেছেন। বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে ঈর্ষনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। এ অগ্রযাত্রা কোনভাবেই যাতে ব্যাহত না হয় সেদিকে সকলকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

 

কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন তাঁর প্রবন্ধে বলেন, বাঙালির জীবনে শোক ও শক্তির নির্যাস আগস্ট মাস। বঙ্গবন্ধুর শারীরিক মৃত্যু শোকের দহন। বঙ্গবন্ধুর দর্শন ও আদর্শের অমরত্ব শক্তির ঝর্ণাধারা। শোকের দহন তাঁকে হারানোর কষ্ট, শক্তি ঝর্ণাধারা আগামী প্রজন্মের অবিনাশী চেতনা। বাংলা ও বাঙালির সত্তায় এগিয়ে চলার শক্তি। বিশ্বজুড়ে বাংলার যে পরিচিতি সে অর্থে এ ভূখন্ডে শুধু ভৌগোলিক আকারে খর্বীকৃত বলার সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের অপেক্ষায় দীর্ঘ সময়ের পরিসর অতিক্রম করেছে। তিনিই উপমহাদেশের একমাত্র নেতা যিনি উপমহাদেশের মানচিত্রে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সংযোজন ঘটিয়েছেন। সাড়ে সাত কোটি বাঙালি এ অর্জনে নিজেদের নিবেদন করেছেন বীরদর্পে। মানুষের ভালোবাসার অবিস্মরণীয় চেতনাবোধে সিক্ত হয়েছে তাঁর নেতৃত্বের দৃঢ়তা।

 

বাংলা একাডেমির সভাপতি বলেন, বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যবর্গকে হত্যার মধ্য দিয়ে বিপথগামীরা ভেবেছিল এদেশে মৌলবাদী এবং স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে অব্যাহতভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করতে পারবে। শত ষড়যন্ত্র এবং চেষ্টা করেও তাদের সে স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি। পরিবর্তে একুশ বছর সংগ্রামের পর স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। বিশ্বের অনেক নেতা যেভাবে ইতিহাসের পৃষ্ঠায় আছেন অজেয় প্রেরণায়, তেমনি আছেন বঙ্গবন্ধুও।

চবি শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি প্রফেসর আবদুল হকের সঞ্চালনা ও সভাপতি প্রফেসর ড. সেলিনা আখতারের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন- লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রফেসর মো. রুহুল আমিন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রফেসর ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. সজীব কুমার ঘোষ।

 

পূর্বকোণ/এএস/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট