চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

২৮ আগস্ট, ২০২২ | ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ

মিটু বিভাস

সর্ষে ফুল দেখছেন ব্যবসায়ীরা

মোহাম্মদ জনি। দক্ষিণ কাট্টলী ফইল্যাতলি বাজারের একজন সাধারণ মুদি ব্যবসায়ী। মহেশখালের পাশে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন অস্থায়ীভাবে গড়ে তোলা ওই বাজারে গত তিনবছর ধরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন তিনি। একদিকে খালের নোংরা পানি ও পচা আর্বজনার দুর্গন্ধ, অন্যদিকে মূল সড়ক থেকে দূরে হওয়ায় বাজারটিতে ক্রেতার সংখ্যাও অনেক কম। বেচাকেনার দুর্দশার মধ্যেও প্রতীক্ষায় ছিলেন কখন পাশের কিচেন মার্কেটটি চালু হবে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নির্মিত এই মার্কেটেই আগে তারা ব্যবসা পরিচালনা করতেন। মার্কেটটি পুনঃনির্মাণের কারণে তাদেরকে ফইল্যাতলী বাজারে অস্থায়ী শেড তৈরি করে দেয়। এই মার্কেটেই তিন বছর ধরে তারা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। নতুন মার্কেটে যাওয়ার দিন গোনার মধ্যেই গত ২২ আগস্ট সিটি কর্পোরেশনের দোকান বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ব্যবসায়ীদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। বিজ্ঞপ্তিতে অতিরিক্ত উন্নয়ন চার্জ নির্ধারণ, উপযুক্ত জায়গায় দোকানের অবস্থান নির্ধারণ না করা এবং বর্ধিত ভাড়া নির্ধারণের কারণে আশায় আশায় থাকা জনি’র মতো অন্য ব্যবসায়ীরা এখন রীতিমতো চোখে সর্ষে ফুল দেখছেন।

জানা যায়, এক সময়ের চান্দ মিয়ার হাটটি ১৯৮২ সালে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়, নাম দেয়া হয় ফইল্যাতলি বাজার। তৎকালীন মিউনিসিপ্যালটির অনুমতিতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নিজেদের অর্থায়নে ৪টি পুকুর ভরাট করে এ বাজার প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথম দিকে ব্যবসা মন্দা হলেও সময়ের ব্যবধানে নগরীর হালিশহর ও দক্ষিণ কাট্টলী এলাকার বাসিন্দাদের দৈনন্দিন কেনাকাটার জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠে বাজারটি। ২০১৯ সালের ১৫ জুলাই আয়বর্ধক প্রকল্প হিসেবে মার্কেটটি নতুনভাবে নির্মাণের কাজ শুরু করে চসিক।

এ সময় চসিক অস্থায়ী বাজার নির্মাণ করে ১৯৮ জন ব্যবসায়ীকে পুরাতন ৯৪টি দোকানকে চুক্তির মাধ্যমে এবং ১০৮ টি দোকানকে হাসিল ও ইজারার মাধ্যমে বরাদ্দ দেয়। প্রায় দুই বছর পর গত ২৭ জুন বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশ মিউনিসিপাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের অর্থায়নে মিউনিসিপাল গভর্নেন্স এন্ড সার্ভিস প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এ মার্কেটটি বুঝে নেয় চসিক।

এরপর গত একবছরেরও বেশি সময় ধরে বাজারের ১৯৮ জন ব্যবসায়ী অপেক্ষায় ছিলেন নতুন মার্কেটে দোকান বরাদ্দের। অবশেষে গত সপ্তাহে পুরাতন ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রথম ধাপে শুধুমাত্র চুক্তিভুক্ত দোকান বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি দেয় চসিক। কিন্তু দরপত্রে দেয়া শর্তে হতাশ হয়ে পড়েন এ ব্যবসায়ীরা।

ফইল্যাতলি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজি আসলাম হোসেন বলেন, পুরাতন ও অস্থায়ী বাজারে ৯৪টি দোকান থাকলেও বর্তমানে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে মাত্র ৯০টি দোকানের। এরমধ্যে নিচতলায় ১৩টি, ২য় তলায় ৪১টি এবং ৩য় তলায় ৩৬টি দোকান বরাদ্দের কথা উল্লেখ আছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ মুদির দোকান। উপরের তলায় বরাদ্দ পেলে মুদি দোকানের ভারী মালামাল উঠানামায় নানা সমস্যায় পড়তে হবে ক্রেতা বিক্রেতাকে।

তিনি আরও বলেন, নির্মিত ভবনের নিচ তলায় ২৫টি দোকান থাকলেও অজানা কারণে পুরাতন ব্যবসায়ীদের মাত্র ১৩টি দোকান বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন প্রকৃত ব্যবসায়ীরা।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন অনেকটু আক্ষেপের সুরে বলেন, আমাদের শ্রমে গড়া এ বাজার। অথচ দরপত্র আহ্বানের আগে বাজারের পুরোনো ব্যবসায়ীদের সাথে কোন প্রকার আলাপ-আলোচনা করা হয়নি। দরপত্র অনুসারে প্রতি বর্গফুট ১৩ থেকে ১৫ হাজার টাকা হিসেবে ১০০ বর্গফুটের প্রতিটি দোকানের জন্য সর্বনিম্ন উন্নয়ন চার্জ ধরা হয়েছে ১৩ লক্ষ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা। অথচ নগরীর প্রাণকেন্দ্র চকবাজার ও বহদ্দারহাটসহ বিভিন্ন বাজারে উন্নয়ন চার্জ ধরা হয়েছিল ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা। উন্নয়ন চার্জ কমানো না হলে বাজারে ক্ষুদে ব্যবসায়ীদের অনেকেই এ টাকা দিয়ে দোকান বরাদ্দ নিতে পারবেন না।

তিনি বলেন, আমরা গত চল্লিশ বছর ধরে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে এ বাজার জমজমাট করেছি। এখন এভাবে বরাদ্দ দেয়া হলে পথে বসতে হবে আমাদের। বাজারের ব্যবসায়ী ও ক্রেতা-বিক্রেতার বসবাস বেশিরভাগ হালিশহর ও দক্ষিণ কাট্টলী এলাকায়।

২৬ নং উত্তর হালিশহর এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ইলিয়াছ বলেন, এখানে গত ৪০ বছর ধরে তারা ব্যবসা করে আসছেন। বাজাদের দোকান বরাদ্দ পাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই তাদের অগ্রাধিকার থাকবে। তবে চসিক অর্থ স্ট্যান্ডিং কমিটি দোকানের এই উন্নয়ন চার্জ নির্ধারণ করেছেন। এক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা যদি একত্রিত হয়ে মেয়র মহোদয়ের কাছে আবেদন করেন, তাহলে অবশ্যই সেটা ভেবে দেখবে চসিক।

এদিকে চুক্তিভুক্ত ব্যবসায়ীদের দোকান বরাদ্দের দরপত্র দেয়া হলেও হাসিল ও ইজারা দেয়া ১০৮ জন পুরাতন ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে এখনও কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। বর্তমানে তাদেরও দাবি, সহজ শর্তে তারা যেন নতুন মার্কেটে ব্যবসার সুযোগ পায়।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট