চট্টগ্রাম শনিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৩

সর্বশেষ:

২৭ আগস্ট, ২০২২ | ১২:০৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বোয়ালখালী আওয়ামী লীগ: ২৪ বছর ধরে জোড়াতালির কমিটি

৩৪ বছর ধরে সারোয়াতলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ আঁকড়ে আছেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. বেলাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘উপজেলা সম্মেলন না হওয়ায় আর উপরে ওঠতে পারিনি। বাকি জীবনেও সম্মেলন হবে কিনা সন্দেহ রয়েছে’। সম্মেলন ছাড়াই চাপিয়ে দেওয়া কমিটির কারণে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হচ্ছে না।

শুধু তাই নয়, ৩০ বছর ধরে পোপাদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আছেন ইউপি চেয়ারম্যান এসএম জসিম। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা সম্মেলন না হওয়ায় বছরের পর বছর ধরে সৃষ্টি হচ্ছে না নতুন নেতৃত্ব। উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে চলে আসছে তালিজোড়া দিয়ে। ১৯৯৮ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে আতাউল হককে সভাপতি ও নুরুল আলমকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭১ সদস্যের কমিটি করা হয়। আতাউল হক কয়েক বছর আগে মারা যান। নুরুল আলম বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান।

তিনি গতকাল বলেন, ‘সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম শক্তিশালী করে নেতাকর্মীদের ভোটকেন্দ্রভিত্তিক সুসংগঠিত করতে হবে। সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।’ ২০১৬ সালের মে মাসে নুরুল আমিন চৌধুরীকে সভাপতি ও এস এম জহিরুল ইসলামকে (জাহাঙ্গীর) সাধারণ সম্পাদক করে এডহক কমিটি ঘোষণা করা হয়। তিন মাসের মধ্যে তৃণমূল সম্মেলন শেষ করে উপজেলা সম্মেলন করার কথা ছিল। পরে কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আমেরিকা পাড়ি জমান। ২০১৯ সালে যুগ্ম সম্পাদক ও শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোকারমকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

২০১৯ সালে চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপ-নির্বাচনের পর মোকারমকে বাদ দিয়ে শাহাদাত হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়। দলীয় গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে শাহাদাতকে সাধারণ সম্পাদক করায় ক্ষোভ বিরাজ করে দলের মধ্যে। তিন মাসের সেই কমিটি তালিজোড়া দিয়ে চলে আসছে ৬ বছর তিন মাস ধরে। সম্মেলন ছাড়া তালিজোড়ার কমিটিতে স্বাক্ষর করেননি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান। অনুমোদন ছাড়াই চলেছিল ৬ বছর ধরে। কেন্দ্রীয় ও জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তোড়জোড় শুরু হওয়ায় নুরুল আমিনকে সভাপতি ও শাহাদাত হোসেন সাধারণ সম্পাদক করে ফের এডহক কমিটি অনুমোদন দেয় জেলা আওয়ামী লীগ। গত মে মাসে কমিটিতে স্বাক্ষর করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান পূর্বকোণকে বলেন, ‘তিন মাসের মধ্যে সম্মেলন করার জন্য নতুন করে এডহক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন সম্মেলন শেষ করে উপজেলা সম্মেলনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

হাইব্রিড নিয়ে ক্ষোভ :
যুদ্ধাপরাধী মামলায় ফাঁসি হয় জামায়াতের মীর কাসেম আলীর। তার সঙ্গে ব্যবসায়িক ও টাকা-পয়সার লেনদেন এবং টাকা আত্মসাতের বিষয় গণমাধ্যমে ওঠে আসে। তাদের একজন এখন আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিয়মিত অংশ নেন। এ নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

এছাড়াও পশ্চিম শাকপুরা ইউনিয়নে বিএনপি-জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকখ্যাত আরেক ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর সঙ্গে শীর্ষ নেতাদের দহরম-মহরম সম্পর্ক গড়ে উঠে। আওয়ামী লীগের তৃণমূল সম্মেলনে এ নিয়ে ক্ষোভ ঝারেন নেতাকর্মীরা। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ করেন, ‘আ. লীগের দু-এক শীর্ষ নেতার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে আওয়ামী লীগে বিত্তশালী ও হাইব্রিডের দাপট বেড়ে গেছে। দলের নাম ভাঙিয়ে নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন হাইব্রিডরা। এমনকি দলীয় নেতাকর্মীদের ভয়-ভীতি দেখান।’ বিতর্কিতদের দলে স্থান দেওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। আ. লীগ নেতাদের ভাগে নিয়ে ভাগিয়ে নিচ্ছেন ঠিকাদারি কাজ। তৃণমূলের দাবি, গুটিকয়েক নেতার লাভ ও সুবিধা নিতে গিয়ে বড় মাশুল গুনতে হচ্ছে আ. লীগকে।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট