চট্টগ্রাম সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

২৭ আগস্ট, ২০২২ | ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ

মিজানুর রহমান

শিল্পে ‘সাশ্রয়’ হওয়া গ্যাস যাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে

বিদ্যুৎ সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে শিল্পাঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন দিনে সাপ্তাহিক ছুটি নির্ধারণ করেছে সরকার। এই কারণে গত ১১ আগস্ট থেকে সপ্তাহের ৭ দিনই চট্টগ্রামের কোনো না কোনো শিল্পাঞ্চলে শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকছে। এতে দৈনিক প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ‘সাশ্রয়’ হচ্ছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল)। এখন শিল্পখাতে সাশ্রয় হওয়া গ্যাস বিদ্যুৎখাতে সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

কেজিডিসিএল কর্মকর্তারা বলছেন, চাহিদা বেশি হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে চট্টগ্রামে এখন দিনে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। এরমধ্যে শিল্পখাতের ১ হাজারের বেশি গ্রাহককে দেওয়া হচ্ছে ৮০-৯০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। শিল্পাঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন দিনে সাপ্তাহিক ছুটির কারণে এখন শিল্পখাতের গ্রাহকদের দেওয়া হচ্ছে ৫০-৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। ফলে এই খাত থেকে দিনে গ্যাস সাশ্রয় হচ্ছে অন্তত ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের জিএম (বিপণন) প্রকৌশলী আমিনুর রহমান পূর্বকোণকে বলেন, শিল্পাঞ্চলে আমরা গ্যাস বন্ধ করিনি। কিন্তু বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে একেক শিল্পাঞ্চল একেক দিন বন্ধ থাকায় ওই শিল্পাঞ্চলে গ্যাস স্বাভাবিকভাবেই ব্যবহার হচ্ছে না। এভাবে শিল্পখাতে দিনে ৩০-৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম লাগছে। এখন শিল্পখাতের এসব গ্যাস বিদ্যুৎখাতে সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পেট্রোবাংলার দেওয়া দৈনিক প্রতিবেদন অনুযায়ী- জাতীয় গ্রিডে একমাস আগেও এলএনজি পাওয়া গেছে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এখন তা ৬০০ মিলিয়নের বেশি পাওয়া যাচ্ছে। ফলে প্রায় সবটা এলএনজির উপর নির্ভর কেজিডিসিএল এ জাতীয় গ্রিড থেকে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। গত ২৬ জুলাই জাতীয় গ্রিডে এলএনজি পাওয়া গেছে ৫২০ মিলিয়ন ঘনফুট। ওইদিন কেজিডিসিএলকে সরবরাহ করা হয়েছে ২৬২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট।

একমাস পর গতকাল শুক্রবার (২৬ আগস্ট) জাতীয় গ্রিডে এলএনজি পাওয়া গেছে ৬৩৪.৮ মিলিয়ন ঘনফুট। এদিন কেজিডিসিএলকে গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে ৩০১.৫ মিলিয়ন ঘনফুট। এরমধ্যে ১৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎখাতে ৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট, ১১৫ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে সার কারখানা খাতে ৮৩.৫ মিলিয়ন ঘনফুট এবং অন্যান্য খাতে ১৮২.১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করেছে কেজিডিসিএল। ফের আমদানি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ আরও বাড়বে। ফলে ধীরে ধীরে কেজিডিসিএলও জাতীয় গ্রিড থেকে বেশি পরিমাণ গ্যাস পাবে বলে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

কেজিডিসিএল’র জিএম (বিপণন) প্রকৌশলী আমিনুর রহমান পূর্বকোণকে বলেন, আমাদের দৈনিক চাহিদা ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি। আমরা ওরকমই পাচ্ছি। সামনে এলএনজির সরবরাহ আরও বাড়বে।

তিনি বলেন, এলএনজি আমদানি কমে যাওয়ায় জুলাইয়ের দিকে আমাদের একটু সমস্যা হয়েছিল। জুলাইয়ের শেষ দিকে এবং আগস্টের প্রথম দিকে জাতীয় গ্রিড থেকে একটু কম পাওয়া গেছে গ্যাস। তখন সঙ্কট নিরসনে গ্রাহকদের গ্যাস কম ব্যবহার করতে আমরা অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কিন্তু আল্টিমেটলি আমাদের বড় ধরনের কোনো সমস্যা হয়নি। এখন শিল্পাঞ্চল থেকেও কিছু গ্যাস সাশ্রয় হচ্ছে। সেটা বিদ্যুৎ উৎপাদনে দিতে পারবো।

পিডিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- চট্টগ্রামে এখন গ্যাস চালিত সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ৪টি। এরমধ্যে রাউজানের ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুইটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ৯৫ মিলিয়ন ঘনফুট। চাহিদার বিপরীতে গতকাল শুক্রবার সেখানে সরবরাহ করা হয়েছে ৩২.১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। গ্যাসের অভাবে দুইটি ইউনিটের একটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। চালু থাকা ইউনিটও সক্ষমতা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেনি। শিকলবাহায় ২২৫ ও ১৫০ মেগাওয়াটের দুইটি বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস চালিত। সেখানে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন। ফলে এই দুইটি বিদ্যুৎকেন্দ্রও এখন বন্ধ রয়েছে।

সব মিলিয়ে চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ৭৯৫ মেগাওয়াট হলেও গ্যাসের অভাবে গতকাল শুক্রবার উৎপাদন হয়েছে কেবল ১১০ মেগাওয়াট। এখন অন্তত ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস বেশি পেলে আরও ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বেশি করা যাবে।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট