চট্টগ্রাম সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

২৫ আগস্ট, ২০২২ | ১২:০৩ অপরাহ্ণ

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন 

পানি নেই, শঙ্কায় কৃষকের স্বপ্ন

খরা ও অনাবৃষ্টির কারণে আমন আবাদ নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন কৃষক। কারণ আষাঢ়-শ্রাবণে ভরা বর্ষায় কাক্সিক্ষত বৃষ্টির দেখা মেলেনি। তবে শ্রাবণ শেষে হালকা বৃষ্টির দেখা মিলেছিল। সেই বৃষ্টিতে আমন আবাদের স্বপ্ন বুনেন কৃষক। কিন্তু এখন রোপা আমন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা। পানির অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে রোপা আমন ক্ষেত। বৃষ্টির জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছেন চাষিরা।

কৃষকেরা জানান, বর্ষার ভরা মৌসুমে এবার চলছে অনাবৃষ্টির খরা। শ্রাবণের শেষ দিকে সামান্য বৃষ্টিপাত হয়। ওই পানিতে আমনের চারা রোপণ শুরু করেন কৃষক। অনেক জায়গায় পানি না থাকায় সেচ দিয়ে চাষাবাদ করতে হয়। কিন্তু চারা রোপণের পর কাক্সিক্ষত বৃষ্টি না হওয়ায় এখন জমি শুকিয়ে যাচ্ছে। বিবর্ণ ও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে রোপা আমনের চারা। ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে জমি। অনেকেই সেচ দিয়ে জমি ভেজানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে অতিরিক্ত খরচের ভয়ে সেচ দিতেও সাহসে খুলাচ্ছে না কৃষকদের। এনিয়ে বিপাকে রয়েছেন চাষিরা।

বোয়ালখালী উপজেলার কড়লডেঙ্গা ইউনিয়নের কুমকুম দাশ বলেন, ‘আষাঢ়-শ্রাবণে প্রত্যাশিত বৃষ্টিপাত হয়নি। এখন ভাদ্রের তীব্র তাপদাহ ও পানির অভাবে ক্ষেতের চারা মরে যাচ্ছে। বৃষ্টিপাত না হওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন চাষিরা। এখন বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করছেন।’ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচাক মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান পূর্বকোণকে বলেন, ‘চলতি মৌসুমে এক লাখ ৮২ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। দক্ষিণ চট্টগ্রামে জোয়ারের চাপ থাকায় বড় সমস্যা হবে না’। চট্টগ্রাম অঞ্চলে আমন আবাদ দেরিতে হয় বলে জানান তিনি।

সরেজমিন দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে কৃষকেরা আমনের চারা রোপণ করছেন। অনেকেই জমিতে সেচ দিচ্ছেন ও সার ছিটাচ্ছেন। জমিতে সেচ দিয়ে ভেজানোর চেষ্টা করছেন। অনেক স্থানে জমিতে হাল দিচ্ছেন। হালকা বৃষ্টির পানি থাকলেও বেশির ভাগ জমি শুকিয়ে রয়েছে। তীব্র তাপদাহে চারা লালচে-নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। 

বোয়ালখালীর আমুচিয়া এলাকার কৃষক মোজাহেরুল ইসলাম বলেন, ‘কম বৃষ্টির মধ্যেও আড়াই কানি জমিতে আমন চাষ করেছি। রোপণের পর কাক্সিক্ষত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন চাষিরা। কেউ কেউ পানি সেচ দিয়ে জমি ভেজানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু সার ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে বাড়তি খরচের দুঃচিন্তায় রয়েছেন তারা। এছাড়াও গ্রামে লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা থাকায় বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল সেচেও ভরসা পাচ্ছেন না কৃষকেরা’।

বৃষ্টি আর বিদ্যুতের খামখেয়ালিতেও বসে নেই চাষিরা। বাড়তি টাকা দিয়েও মিলছে না কৃষিশ্রমিক। তার ওপর রয়েছে সারের বাড়তি দাম। চাষিদের অভিযোগ, খুচরা বাজারে সরকারনির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি করছেন না অনেক খুচরা ব্যবসায়ী। আমন চাষ করে লোকসানের ভয়ে আছেন তারা।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের অভিমত, আমন বৃষ্টিনির্ভর ফসল। চারা রোপণ ও ধানের চারা বেড়ে ওঠার সময়ও জমিতে পানি থাকতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে কৃষিতে। এর সঙ্গে কৃষি উপকরণের বাড়তি দামের কারণে কৃষকের তেমন লাভ হয় না। বিভিন্ন কারণে আমন ধানের চাষের এলাকা কমে গেলে ধান উৎপাদন কমে যাওয়ারও ঝুঁকি থাকে। উৎপাদন কম হলে ভোক্তাকে বেশি দামে চাল কিনতে হবে।

পটিয়ার ধলঘাট এলাকার চাষি অমিত দাশ বলেন, কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় ফসলের মাঠে পানি জমেনি। এতে বিবর্ণ হয়ে গেছে ধানের চারা। আবহাওয়ার এরূপ পরিস্থিতি চলতে থাকলে এ বছর আমন আবাদ ও ফলন উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট