চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

২৪ আগস্ট, ২০২২ | ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ

মোহাম্মদ আলী

দিয়াকুল পাহাড়ে মৎস্য বিপ্লব

সারি সারি পাহাড়, গহিন অরণ্য। কোথাও পা ফেলারও সুযোগ ছিল না। ছিল বিষাক্ত সাপসহ জন্তু-জানোয়ারের ভয়ও। দুর্গম এ জনপদে স্বপ্নের রূপ দিতে মাঠে নামেন মাওলানা আব্দুস শাকুর। ঘাম ঝরা পরিশ্রম করে পরিষ্কার করেন গহিন জঙ্গল। দুই পাহাড়ে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে তৈরি করেন পুকুর। এভাবে একটি-দুইটি নয়, ছোট-বড় ১২টি পুকুর তৈরি করেন তিনি।

এ রকম দুর্গম জনপদটি ছিল চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারীর দিয়াকুল গ্রামে। এ গ্রামে উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে ১৯৯৫ সালে নিজের ভাগ্য ফেরাতে আসেন পার্শ্ববর্তী সাতকানিয়া উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ফকিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা আবদুস শাকুর। দিয়াকুল গ্রামে কয়েক দফায় ক্রয়কৃত প্রায় ৪০ একর জমিতে শুরু করেন মৎস্য চাষ। মৎস্য প্রজেক্টের নাম দেন- ‘প্রিমিয়ার ফিশিং ফার্ম’। একটি-দুইটি করে কয়েক বছরের ব্যবধানে পুকুরের সংখ্যা বাড়াতে থাকেন। বর্তমানে তাঁর পুকুরের সংখ্যা ১২টি। এসব পুকুরে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউশ, পাঙ্গাস, গ্লাস কার্পস, সিলভার, নাইলোটিকাসহ মিঠা পানির বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চাষাবাদ করা হয়। প্রতি বছর কয়েক দফায় বিক্রি করা হয় প্রায় আড়াই কোটি টাকার মাছ।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পাহাড়ি পাদদেশে এবং দুই পাহাড়ের মধ্যে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে তৈরি করা হয় মাছ চাষের উপযোগী পুকুর। এসব পুকুরে করা হচ্ছে মৎস্য চাষ। মৎস্য চাষ ছাড়াও পাহাড়ের তলীতে করা হচ্ছে ধান ও বিভিন্ন সবজি চাষ। তাছাড়া প্রতিটি ছোট-বড় পাহাড়ে লাগানো হয়েছে লেবু, পেয়ারা, পেঁপে, আমসহ বিভিন্ন জাতের ফলদ ও বনজ চারা।

প্রিমিয়ার ফিশিং ফার্মের স্বত্ত্বাধিকারী মাওলানা আবদুস শাকুর দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘বিশাল জঙ্গলাকীর্ণ এলাকাকে আবাদ করতে আমাকে নিরন্তর পরিশ্রম করতে হয়। শুরুতে দুই পাহাড়ের পাদদেশে বাঁধ দিয়ে একটি পুকুর তৈরি করে মৎস্য চাষ শুরু করি। এরজন্য ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিই। প্রথমে মৎস্য চাষে আমার তেমন কোন ধারণা ছিল না। পটিয়া হ্যাচারি থেকে ১০ হাজার সরপুটি ও ১০ হাজার গ্লাস কার্পসের রেণু এনে ছেড়ে দিই। এভাবে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে খামারে মৎস্য চাষ। একই সাথে বাড়তে থাকে আমার অভিজ্ঞতাও। বর্তমানে প্রতিবছর এ খামারে প্রায় ৩০০ মেট্রিক টন মৎস্য উৎপাদন হয়। তাতে বিক্রি করে আয় হয় প্রায় দুই কোটি টাকা। এ মৎস্য খামারে প্রতিদিন খাদ্যের চাহিদা দুই থেকে তিন মেট্রিক টন। এর মধ্যে খামারে তৈরি হয় দৈনিক প্রায় দেড় মেট্রিক টন। অবশিষ্ট খাদ্য বাইরে থেকে ক্রয় করতে হয়। তবে আশার কথা হচ্ছে- এ খামারে দৈনিক ৫ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার আরো একটি ফ্যাক্টরি বসানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এটির কাজ শেষ হলে হ্যাচারিতে মৎস্য উৎপাদন আরো বাড়ানো সম্ভব হবে’।

মাওলানা আবদুস শাকুর বলেন, ‘বর্তমানে এ হ্যাচারিতে ২৫জন স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক রয়েছে। তাছাড়া মাছ মারার সময়সহ বিভিন্ন সময়ে অতিরিক্ত দিনমজুর শ্রমিক কাজে লাগাতে হয়। এ হ্যাচারিতে গরু মোটাতাজাকরণ করা হয়। করা হয় ধান চাষও। বর্তমানে হ্যাচারিটি সার্বিকভাবে দেখভাল করছে আমার সন্তান মো. তানভীর আহমেদ’।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট