চট্টগ্রাম সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

২১ আগস্ট, ২০২২ | ১১:২১ পূর্বাহ্ণ

এনায়েত হোসেন মিঠু

অনাবাদি জমি ভরে উঠলো কাঠ কচুতে

এতদিনের অনাবাদি অপেক্ষাকৃত নিচু জমি কৃষকের ছোঁয়ায় ভরে উঠলো সবুজ সবজি ‘কাঠ কচু’তে। মিরসরাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় চলতি মৌসুমে ৯ লাখ মেট্রিক টন কাঠ কচু উৎপাদন হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে উৎপাদনের ক্ষেত্রে যা বিগত বছরগুলোর রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

মিরসরাই উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভার মধ্যে সবচে বেশি কচু চাষ হয় মঘাদিয়া ইউনিয়নে। এখানকার জমিগুলো অপেক্ষাকৃত নিচু হওয়া এখানে অন্যকোন আবাদ সম্ভব হয় না। এ জন্য কৃষকেরা যুগ যুগ ধরে কচু আবাদ করছেন। চলতি বছর মিরসরাই উপজেলায় মোট ১৫০ একর জমিতে কচুর আবাদ হয়েছে। যাতে উৎপাদন হয়েছে ৯ মেট্রিক টন। কেজি প্রতি ১০ টাকা হারে যার বাজার মূল্য প্রায় ৯ কোটি টাকা। এছাড়া কচুর লতি এবং ফুল (স্থানীয় ভাষায় পোঁপা) এ হিসেবে ধরা হয়নি। উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের কৃষক নূর হোসেন ও নওশা মিয়া ৬০ শতক জমিতে এবছর কচুর আবাদ করেছেন। ইতোমধ্যে তারা বাজারে ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা মূল্যের কচু, লতি ও পোঁপা বিক্রি করেছেন। তাদের জমিতে আবাদ হওয়া কচু, লতি ও পোঁপা আরো ১৫ দিনের বেশি বিক্রি করতে পারবেন।

কৃষক নূর হোসেন বলেন, ‘এসব জমিতে অন্য আবাদ হয় না। পানি জমে থাকে। এ জন্য আমরা কচু চাষ করি। এ বছর চাষও ভালো হয়েছে। চাষে কষ্ট থাকলেও বাজারে ভালো দাম থাকায় আমরা লাভবান হচ্ছি।’ মিরসরাই পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক হারুন অর রশিদ। তার নিজের জমিতে দীর্ঘ ২২ বছর ধরে কচুর আবাদ করছেন। এ বছর তিনি এক একর জমিতে কচুর আবাদ করেছেন। পাশাপাশি অন্য আরেক কৃষক থেকে ৭০শতক পরিমাণ কচুর আবাদি জমি ক্রয় করেছেন। এরই মধ্যে তিনি ১২০ শতক পরিমাণ জমির কচু, লতি ও পোঁপা বাজারে বিক্রি করে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা পেয়েছেন। তিনি আরো প্রায় ৮০ হাজার টাকার কচু বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

কৃষক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘ক্রয়কৃত জমিসহ আমার খরচ পড়েছে প্রায় ৯০ হাজার টাকা। বাজারে দর ভালো থাকার কারণে এ বছর ভালো লাভ হবে। আগের তুলনায় ফলনও ভালো হয়েছে।’

মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রঘুনাথ নাহা বলেন, ‘চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট ৬০ হেক্টর (১৫০ একর) জমিতে ৫শ কৃষক কচুর আবাদ করেছে। যাতে উৎপাদন হয়েছে ৯লাখ মেট্রিক টন। কচুর বর্তমান বাজার মূল্য কেজি প্রতি ১০ টাকা। এ হারে প্রায় ৯ কোটি টাকার কচু বিক্রি হবে এখানে। ভালো ফলন হওয়ায় এ বছর বিগত বছরগুলোর রেকর্ড ছাড়িয়েছে। বাজার দামও ভালো পাচ্ছে।’

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট