চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

২০ আগস্ট, ২০২২ | ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

আইআইইউসির ১০৬ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ

নামে বেনামে সাড়ে পাঁচশ কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রভিডেন্ট ফান্ডের ১৪ কোটি ৮৯ লাখ ৮৮ হাজার ৩১৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠেছে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (আইআইইউসি) ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা আ ন ম শামসুল ইসলামসহ দশ সদস্যের বিরুদ্ধে। যারা সকলেই বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিট প্রতিবেদনে আর্থিক এমন অনিয়ম পাওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) অভিযোগ দায়ের করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, আলোচ্য ১৫ কোটি টাকা ছাড়াও সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যান্তরীণ আরেকটি অডিটে আরও ৯১ কোটি টাকার গরমিল পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী এমপি। সবমিলিয়ে এক যুগে ১০৬ কোটি টাকার তছরুপের সত্যতা ওঠে আসে অডিটে। যদিও পৃথক অডিটে গরমিল পাওয়া ৯১ কোটি টাকার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ। তবে ট্রাস্টি বোর্ড চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে মামলা দায়ের করা হবে।

জানা গেছে, চলতি বছরের ২০ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিভাগীয় কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিস্ট্রার মো. শফিউর রহমান। অভিযোগে তিনি ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক দশ সদস্যের নাম উল্লেখ করে ৫৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন ভাতা এবং প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা উত্তোলন করে তা আত্মসাৎ করেন বলেও উল্লেখ করেন।

অভিযুক্ত দশ সদস্য হলেন : ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান জামায়াতের নায়েবে আমীর ও সাতকানিয়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আ ন ম মুহাম্মদ সামশুল ইসলাম, জামায়াত নেতা প্রফেসর আহসান উল্ল্যাহ, মোহাম্মদ আমিরুজ্জামান, অধ্যাপক মো. আলী আজাদী, তৌফিকুর রহমান, প্রফেসর ড. মো. মাহবুবুর রহমান, নগর জামায়াতের আমীর মো. শাহজাহান, শিক্ষক জাহেদ হোসেন ভূঁইয়া, হাসানুল বান্না ও মোহাম্মদ শফিউল আলম।

অভিযোগে বলা হয়, ২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারি সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি পরিচালনা করা জামায়াতের নেতাদের দায়িত্বকালীন সময়ে আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি নজরে আসায় ‘হক ভট্টাচার্যী দাস এন্ড চার্টার্ড একাউন্টস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ অডিট করানো হয়। অডিটে ২০১৭ সাল থেকে ২০২১ সালের অবৈধভাবে জার্নাল ভাউচারের মাধ্যমে ১৪ কোটি ৮৯ লাখ ৮৮ হাজার ৩১৫ টাকা আত্মসাতের তথ্য উঠে আসে।

এসব প্রসঙ্গে আইআইইউসির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী এমপি পূর্বকোণকে বলেন, ‘অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক দিক থেকে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামো নিজেদের অর্থ দিয়ে গড়ে তুললেও এ বিশ্ববিদ্যালয়টি আরব দেশের সহযোগিতা ছিল। অবকাঠামোর দিক থেকে এক টাকাও খরচ হয়নি। কিন্তু সে হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে পরিমাণ ফান্ড থাকার কথা, তা নেই। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২শ কোটি টাকার এফডিআর আছে, অথচ আইআইইউসির ফান্ড এখন শূন্য। বেতন দেওয়ার টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। তাহলে কতটুকু দুর্নীতি হয়েছে ভাবুন।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৫ কোটি টাকার অনিয়ম পাওয়ায় দুদকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। দুদক তা তদন্ত করছে। আমরা আরেকটি অডিটে আরও ৯১ কোটি টাকার গরমিল পাওয়া গেছে। সেটিও এখন যাচাই-বাছাই চলছে। অডিট কমিটি যদি আমাদের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেন, তখনই এ বিষয়ে আবার তাদের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করা হবে। খুব আশ্চর্য হই, তারা সবসময় আল্লাহ’র আইন চায়, শাসন চায়। কিন্তু তারাই দুর্নীতিতে জড়িত। তবে এ বিষয়ে কোন ছাড় দেয়া হবে না।’

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট