চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

১৯ আগস্ট, ২০২২ | ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে শিশুদের করোনার টিকাদান শুরু ২৫ আগস্ট

আগামী ২৫ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে ৫ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের করোনার টিকাদান কার্যক্রম। ইতোমধ্যে এসব শিশুদের টিকা প্রদানে যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রামে ৫ থেকে ১১ বছর বয়সী সাড়ে ১০ লাখ শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে- প্রথম ধাপে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এ টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হবে। পরবর্তীতে উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ের শিশুদের টিকাদান চালু করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার এমন তথ্য নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ২৫ আগস্ট থেকে ৫-১১ বছর বয়সী শিশুদের টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হবে। প্রথম ধাপে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় শুরু হলেও ধাপে-ধাপে উপজেলা পর্যায়েও কার্যক্রম শুরু করা হবে।

এর আগে গত বুধবার রাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকাদানের টেকনিক্যাল কমিটির সঙ্গে ভার্চুয়াল আলোচনা হয়। আলোচনায় ২৫ আগস্ট সিটি কর্পোরেশন দিয়ে ৫ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের টিকাদানের বিষয়টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে শিশুদের টিকাদানের বিষয় নিয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে।

এদিকে, শিশুদের টিকা প্রদানের জন্য সিটি কর্পোরেশন স্বাস্থ্য বিভাগের তিনজন চিকিৎসককে ঢাকায় টিকাদান সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কীভাবে টিকা দেওয়া হবে, টিকাদানের পর প্রতিক্রিয়া কী হবে ও টিকা মজুদ এবং বহন কীভাবে হবে তা তাদের জানানো হয়।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. সেলিম আকতার চৌধুরী বলেন, ৫ থেকে ১১ বছর বয়সীদের টিকাদান ২৫ তারিখ থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে তার হাতে এখনো লিখিত কিছু আসেনি। তবে তাদের তিন চিকিৎসক টিকা সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন। এ নিয়ে তাদের প্রস্তুতি চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইতিমধ্যে শিক্ষা বিভাগ থেকে ৫ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের সংখ্যা নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিশু এই টিকার আওতায় আসবে। এর বাইরে উপজেলায় আরও প্রায় সাত লাখ শিশু এই বয়সের মধ্যে রয়েছে।

নিবন্ধন ছাড়া টিকা নয় : ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুদের টিকা প্রদানের ক্ষেত্রে সুরক্ষা এপসে নিবন্ধনের প্রয়োজন না হলেও এবার ৫ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা করা হচ্ছে। এসব শিশুদের টিকা গ্রহণের আগে অবশ্যই অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে। আগামী ২৫ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া শিশুদের টিকাদান কার্যক্রমে শুধুমাত্র সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধনকারী শিশুরা টিকা দিতে পারবেন। তাই জন্মনিবন্ধনের মাধ্যমে নিবন্ধন করে টিকা কার্ড সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, সকলকে সুরক্ষা এপের মাধ্যমে নিবন্ধন করে টিকা নিতে হবে। রেজিস্টেশন ছাড়া টিকা প্রদান করা হবে না।

স্কুলে স্কুলে টিকাদান : প্রাথমিকভাবে স্কুলে স্কুলে গিয়ে টিকাদান করা হবে বলে জানা গেছে। তবে টিকা কার্যক্রম শুরুর ১৪ দিনের মধ্যে প্রথম ডোজ টিকাদান শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে। প্রথম ডোজ গ্রহণের দুই মাস পর শিশুদের আবার দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া হবে। প্রতিবারই ফাইজারের নতুন একটি টিকা দেওয়া হবে।

ডা. ইলিয়াছ চৌধুরী জানান, ফাইজারের নতুন এই টিকাটি আইস বক্স থেকে বের করার পর ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত বাইরে রাখা যায়। তাই এখন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে টিকা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই। এ কারণে স্কুলে স্কুলে গিয়ে টিকা দেওয়া সম্ভব হবে। তবে সেটা কয়েকটা স্কুলকে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এনে দেওয়া হবে কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে ১২ বছরের ঊর্ধ্বে মোট টিকা দেওয়া হয়েছে প্রায় ৭২ লাখ ৩৪ হাজার জনকে। যা মোট জনগোষ্ঠীর ৮১শতাংশ। দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে ৬৬ লাখ সাড়ে ৫ হাজার জনকে। আর তৃতীয় ডোজ দেওয়া হয় ২২ লাখ ৮৭ হাজার লোককে। এটা মোট জনগোষ্ঠীর ২৫ দশমিক ৪২ শতাংশ।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট