চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

১৯ আগস্ট, ২০২২ | ১:৫০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

কালুরঘাট সেতুর নতুন নকশায় সায় প্রধানমন্ত্রীর

পদ্মা সেতুর মতো দ্বিতল নয়, একতলা হবে কালুরঘাট সেতু। যাতে অনেকটা যমুনা সেতুর মতো একপাশে সড়কপথ এবং অন্যপাশে রেলপথ থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই নকশায় সম্মতি দিয়েছেন বলে রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পদ্মা সেতুর আদলে করা নকশা বাদ দিয়ে নতুন নকশায় কালুরঘাট সেতু নির্মাণ করলে ব্যয় বাড়বে অন্তত ৫০০ কোটি টাকা।

কালুরঘাট সেতু নিয়ে গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠকে কালুর ঘাট সেতু নির্মাণে কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান ইউশিন ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশনের করা ৫টি নকশা প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হয়। এসব নকশার মধ্যে একতলা সেতুর একপাশে ডাবল লেন সড়কপথ ও অন্যপাশে ডাবল লেন রেলপথ রাখা নকশাটি পছন্দ করেন প্রধানমন্ত্রী।

কালুরঘাট সেতু নির্মাণ সংক্রান্ত কার্যক্রমে রেলওয়ের ফোকাল পার্সন প্রকৌশলী মো. গোলাম মোস্তফা পূর্বকোণকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী মূল সেতুর নকশা পরিবর্তন হলেও উচ্চতা, ভায়াডাক্ট, নির্মাণের স্থান সব ঠিক থাকবে। নতুন নকশায় কালুরঘাট সেতু নির্মাণ করলে ব্যয় দাঁড়াবে ৭ হাজার কোটি টাকা। নকশা চূড়ান্ত হওয়ায় এখন ডিপিপি প্রণয়নের কাজ শুরু হবে।

এরআগে গত ৬ জুলাই রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সদরদপ্তর সিআরবিতে আয়োজিত এক বৈঠক শেষে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহা-ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছিলেন, মূল কালুরঘাট সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ৭৮০ মিটার। উচ্চতা হবে ১২ দশমিক ২ মিটার। সেতুর দুই পাশে ভায়াডাক্ট নির্মাণ করা হবে ৫ দশমিক ৬২ কিলোমিটার। সেতু নির্মাণে সময় লাগবে অন্তত ৪ বছর।

দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দ্বার চট্টগ্রাম বন্দরের ‘লাইফ লাইন’ হিসেবে পরিচিত কর্ণফুলী নদীর কালুরঘাট এলাকায় একটি নতুন রেলকাম সড়ক সেতু নির্মাণের দাবি অন্তত ৩ যুগের। মাঝখানে একাধিকবার ক্ষমতার পালাবদল হলেও নতুন কালুরঘাট সেতু আলোর মুখ দেখেনি। প্রতিটি সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ করেছে। কালুরঘাটে রেলকাম সড়ক সেতু নির্মাণে দীর্ঘসময় উদ্যোগ নেয়নি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষও।

কালুরঘাটে নতুন সেতু নির্মাণে আশার আলো না দেখে রাজপথে আন্দোলনে নামেন চট্টগ্রামের নানা শ্রেণি ও পেশার মানুষ। স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রয়াত মাইনুদ্দিন খান বাদলও সেতুর দাবিতে সোচ্চার হন। এরমধ্যে ২০১৭ সালে কালুরঘাটে সেতু নির্মাণে প্রকল্প হাতে নেয় রেলওয়ে। নদীর নাব্যতা থেকে ৭.৬ মিটার উচ্চতায় এই সেতু নির্মাণে ২০১৮ সালে প্রস্তাবিত প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ১৫১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

তবে সেতুর উচ্চতা নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র আপত্তিতে ঝুলে যায় প্রকল্পটি। নকশায় ত্রুটি আছে উল্লেখ করে একনেক থেকে সেতুর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ১২.২ মিটার উচ্চতায় কালুরঘাটে রেলকাম সড়ক সেতু নির্মাণে ফের উদ্যোগ নেয় রেলওয়ে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এখন সমীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। এরপর বাকি প্রক্রিয়া শেষ করে নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

কালুরঘাটে নতুন সেতুর যৌক্তিকতা তুলে ধরে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১৯৩০ সালে নির্মিত পুরাতন কালুরঘাট সেতু দিয়ে দিনে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। ২০০১ সালে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণার পর থেকে জোড়াতালি দিয়েই সচল রাখা হয়েছে। সেতুর একপাশে গাড়ি উঠলে অন্যপাশ বন্ধ রাখা হয়। ফলে দীর্ঘ যানজটের ভোগান্তির পাশাপাশি গাড়ি চলে ঝুঁকি নিয়েই। প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনায় হতাহত হন কেউ না কেউ।

পূর্বকোণ/মামুন

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট