চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

সর্বশেষ:

১৮ আগস্ট, ২০২২ | ৩:৫২ পূর্বাহ্ণ

মন্তব্য প্রতিবেদন

অনন্য উদ্যোগে আশার সঞ্চার

প্রকৃতির অপার দান সিআরবি থেকে হাসপাতাল প্রকল্প সরিয়ে নিতে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনকে চিঠি দিয়েছেন চট্টগ্রামের মন্ত্রী-এমপিরা। রেলমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সিআরবি ছাড়া রেলওয়ের অন্য যে কোনো জায়গায় হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নিতে অনুরোধ জানিয়েছেন তারা। সিআরবি বাঁচাতে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সম্মিলিত এই উদ্যোগ একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। এর ফলে আমাদের সবার মধ্যে সিআরবি রক্ষার বিষয়ে আশার সঞ্চার হয়েছে।
নানা কারণে চট্টগ্রামের উন্নয়ন, জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যু বা ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রকৃতি রক্ষায় এখানকার মন্ত্রী-এমপিদের সম্মিলিত প্রয়াসের নজির নেই বললেই চলে। সেই বিবেচনায় সিআরবি রক্ষায় জনপ্রতিনিধিরা যেভাবে একজোট হয়েছেন তা প্রশংসনীয়। প্রবীণ রাজনীতিক ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, শিক্ষা উপ-মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীসহ যেসব জনপ্রতিনিধি সিআরবি বাঁচাতে এগিয়ে এসেছেন তাদের প্রত্যেককে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।
চট্টগ্রামের ফুসফুসখ্যাত সিআরবি রক্ষায় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানাতে শিক্ষায় একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. অনুপম সেন এবং সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট ইব্রাহীম হোসেন চৌধুরী বাবুলের নেতৃত্বে গড়ে তোলা হয়েছে সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম- নাগরিক সমাজ, চট্টগ্রাম। তারা চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে সিআরবিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের বিরুদ্ধে গত ১৪ মাস ধরে অহিংস প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন।
এরই প্রেক্ষিতে সিআরবি থেকে হাসপাতাল প্রকল্প সরিয়ে কুমিরায় রেলওয়ে বক্ষব্যাধি হাসপাতাল এলাকায় করতে প্রস্তাব দিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম এমপি। সর্বশেষ মঙ্গলবার সিআরবি থেকে হাসপাতাল প্রকল্প সরিয়ে রেলওয়ের অন্য জায়গায় করার অনুরোধ জানিয়েছেন চট্টগ্রামের ৯ মন্ত্রী-এমপিও। আমরা আশা করবো সিআরবি নিয়ে এবার সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আসবে। প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নেবেন।
একটা সময় ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা দিক দিয়ে চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বিভিন্ন সরকারি অফিসের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় নিয়ে যাওয়া এবং প্রশাসনিক সেবা প্রাপ্তির সহজ সুযোগ লাভের আশায় খ্যাতনামা কর্পোরেট হাউসগুলো ঢাকায় স্থানান্তরের কারণে গুরুত্ব হারায় চট্টগ্রাম। সম্ভাবনা কাজে না লাগিয়ে সকল চিন্তা-চেতনা ঢাকামুখী করে ফেলার কারণে চট্টগ্রামকে অনেকে মফস্বল ভাবেন। বাণিজ্যিক রাজধানী করার আশ্বাস ঝুলে আছে ঘোষণাতেই। কালুরঘাটে আরেকটি রেল কাম সড়ক সেতুর স্বপ্ন দেখানো হলেও দুই দশক ধরে তা হবে-হচ্ছেতে ঘুরপাক খাচ্ছে। সিআরবি রক্ষায় আমাদের মন্ত্রী-এমপিরা যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন, একই ধরনের আরেকটি উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে কালুরঘাট সেতুর ব্যাপারে। তাতে এ অঞ্চলের মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটার পথ প্রশস্ত হবে। আরেকটু এগিয়ে নির্দ্বিধায় বলতে চাই, নতুন কালুরঘাট সেতুর স্বপ্নপূরণ হবে। মন্ত্রী-এমপিদের ঐক্য আর চট্টগ্রামের স্বার্থ আদায়ে তাদের নিঃসংকোচে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা আমাদের সকলের। বিশ্বাস রাখবেন- চট্টগ্রামবাসী আপনাদের সাথেই আছেন।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট