চট্টগ্রাম শনিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৩

সর্বশেষ:

১৬ আগস্ট, ২০২২ | ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ

ইফতেখারুল ইসলাম

সীতাকুণ্ডে সম্মেলনের দুই বছর পর আ. লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি

সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি গঠন হয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়েও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে পারছিলেন না উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি-সম্পাদক। এ নিয়ে চারিদিকে নেতাকর্মীরা যখন সমালোচনায় মুখর ঠিক তখনি ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে তাতে লেখা আছে প্রাথমিকভাবে অনুমোদিত। এতদিন পরে ঘোষণা করা কমিটি নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল সমালোচনা।

অভিযোগ উঠেছে সভাপতি ও সম্পাদক দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের চেয়েও বেশি মূল্যায়ন করেছেন নিজ নিজ পরিবার ও আত্মীয় স্বজনদের। এমনকি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীর হয়ে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করা দুই জনকেও বহিষ্কারের বদলে পদ দেয়া হয়েছে! আর বঞ্চিত হয়েছেন দলের অসংখ্য ত্যাগী নেতাকর্মীরা। যা তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের ২৯ নভেম্বর তুমুল উত্তেজনার মধ্যে সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন হয়। তখন সভাপতি নির্বাচিত হন আব্দুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন উপজেলা চেয়ারম্যান এস.এম আল মামুন। সেসময় তাদেরকে ৩ মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য নির্দেশ দেন উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ। কিন্তু সীতাকুণ্ডের আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা ত্রিধারায় বিভক্ত। নেতাকর্মীদের একাংশ স্থানীয় সাংসদ দিদারুল আলমের অনুসারী, একাংশ উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি বাকের ভূঁইয়ার অনুসারী এবং অপর অংশ সাধারণ সম্পাদক এস.এম আল মামুনের অনুসারী। নিজেদের মধ্যে অনৈক্য থাকায় এবং ইউপি নির্বাচনসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে দূরত্ব থাকায় নির্বাচনের পর এক বছর ৮ মাস অতিবাহিত হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে ব্যর্থ হচ্ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি-সম্পাদক। এ নিয়ে নানান প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ৩ বছর মেয়াদী কমিটি এ মেয়াদে আর কমিটি গঠন করতে পারবে না বলেও অনেকে বলতে শুরু করেন। এ পর্যায়ে সামনে সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নিজেদের দলীয় অবস্থান শক্ত করার দরকার হয়ে পড়ায় গত ৩০ জুলাই ২২ ইং উপজেলা আওয়ামীলীগের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদনের জন্য উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি-সম্পাদকের কাছে পাঠালে তারা সম্প্রতি অনুমোদন করেন। এদিকে কমিটি অনুমোদনের পর বঞ্চিত নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দেয়। অনেক নেতাকর্মী চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন। আবার কেউ কেউ সামাজিক মাধ্যমে এই কমিটিকে পকেট কমিটি হিসেবেও উল্লেখ করেন।

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বর্তমান কমিটিতে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বজনপ্রীতি করেছেন। বিশেষ করে দলের সাধারণ সম্পাদক এস.এম আল মামুনের অনেক আত্মীয় স্বজন স্থান পেয়েছেন তালিকায়। তাদের জায়গা দিতে গিয়ে অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীর নাম বাদ পড়েছে। তালিকায় দেখা গেছে, ২১ নম্বর সদস্য হয়েছের সাধারণ সম্পাদক মামুনের পি.এস আসলাম হাবীব, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক খালাত ভাই ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সালাম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা মামুনের বোন সেলিনা আক্তার নিলু, ৩৭ নম্বর সদস্য এ.কে.এম জাফর উল্লা। তিনি এস.এম আল মামুনের আপন চাচা। ৩৯ নম্বর সদস্য হয়েছেন মামুনের ভগ্নিপতি সালাউদ্দিন আজিজ।

এছাড়া আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়ার ছেলে ভূঁইয়া সামি আল মুজতবা শুভও (প্রবাসী) হয়েছেন সদস্য। তালিকায় স্থান পেয়েছেন হত্যা মামলার আসামি এইচ.এম মশিউর রহমানসহ আরো অনেকে, যারা রাজনীতিতে তেমন সক্রিয়ও নন। এমনকি বাঁশবাড়িয়ার ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর হয়ে সরাসরি কাজ করা জালাল আহমেদও সদস্য পদ পেয়েছেন। অথচ দলের জন্য চারদলীয় জোটের আমলে চরম নির্যাতিত বারবার নির্বাচিত বারৈয়াঢালা ইউপি চেয়ারম্যান (সাবেক যুগ্ম সম্পাদক) রেহান উদ্দিন রেহানকে রাখা হয়নি কোথাও। তেমনিভাবে দলের সাবেক সহ-সভাপতিসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এ কমিটিকে পকেট কমিটি উল্লেখ করে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জয়নব বিবি জলি। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রেহান চেয়ারম্যানের অনুসারীরা। আরো অনেকে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বঞ্চিত ও ত্যাগী নেতা বারৈয়াঢালার ইউপি চেয়ারম্যান মো. রেহান উদ্দিন বলেন, তিনি বার বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক। এবার কেন তাকে অন্তত সদস্য হওয়ার যোগ্য মনে করা হয়নি তা তার জানা নেই।

আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এস.এম আল মামুন পূর্বকোণকে জানান, কমিটি এখনো জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহি কমিটির সভায় অনুমোদন হয়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে তালিকা দেখা যাচ্ছে তা ‘রাফ’ কমিটি। স্বজনপ্রীতির যে অভিযোগ আনা হচ্ছে তা কোনভাবেই সত্য নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নবীন-প্রবীণ মিলে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তার আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে যারা কমিটিতে এসেছেন সবাই আগেও উপজেলা নির্বাহি কমিটিতে ছিলেন। সবাই সক্রিয় রাজনীতি করেন। মূলত সক্রিয় নেতারা কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। নিস্ক্রিয়রা বাদ পড়েছেন। যেহেতু জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহি কমিটির সভায় এখনো অনুমোদন হয়নি তাই কমিটি অনুমোদন হয়েছে একথা বলার সুযোগ নেই। এখানে ৭০০ জনকে কমিটিতে রাখলেও অসন্তোষ থাকবে। সভাপতির প্রবাসী পুত্র কমিটিতে রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার বিদেশে ব্যবসা আছে। তবে বেশির ভাগ সময় দেশেই থাকে।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট