চট্টগ্রাম বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

সর্বশেষ:

১৪ আগস্ট, ২০২২ | ৫:৪৪ অপরাহ্ণ

কক্সবাজার সংবাদদাতা

কক্সবাজারে কটেজে টর্চার সেল, ‌‘পর্যটকদের নারী দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতো তারা’

কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল জোনের শিউলি কটেজ থেকে জিম্মি অবস্থায় ৪ পর্যটক উদ্ধারের ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। আটকরা হলেন- ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানঘোনা এলাকার নুরুল আজিমের ছেলে রাশেদুল ইসলাম (২৫) ও পূর্ব বামনপাড়া এলাকার আবদুস সালামের ছেলে মো. সাকিল (২২)।

শনিবার (১৩ আগস্ট) রাতে সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে তাদের আটক করা হয়। ট্যুরিস্ট পুলিশ দাবি করছে, শিউলি কটেজে পর্যটক জিম্মি করার ঘটনা তারা জড়িত।

জানা গেছে, কটেজ জোনের শিউলি কটেজে ৪ জন পর্যটককে অপহরণ করা হয়। সেখানে তাদের নির্যাতন করে টাকা দাবি করা হয়। পরে ৭ আগস্ট ট্যুরিস্ট পুলিশ ওই কটেজে অভিযান চালিয়ে জিম্মি অবস্থায় ৪ পর্যটককে উদ্ধার করে। এই ঘটনায় পরে ৯ আগস্ট নির্যাতনের শিকার আব্দুল্লাহ আল মামুনের বাবা মো. বেলাল আহমেদ বাদি হয়ে ৭ থেকে ৮ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধারের পর সংবাদ সম্মেলনে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল করিম শিউলি কটেজকে টর্চার সেল বলে দাবি করেছিলেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল করিম জানান, আটক দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। দু’জনই শিউলি কটেজ পরিচালনার সঙ্গে জড়িত। একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সহজ সরল ট্যুরিস্টদের বিভিন্ন দালালদের মাধ্যমে ওই কটেজে নিয়ে গিয়ে নারী ও মাদক দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে। তারা পর্যটকদের আপত্তিকর ছবি ধারণ করে রাখে এবং ভয়-ভীতি দেখায় যে- কোথাও অভিযোগ দিলে সেই ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়া হবে। যার কারণে ভুক্তভোগীরা কেউ অভিযোগ দেয় না।

তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের সঙ্গে জড়িত একটি দালাল সিন্ডিকেটের তথ্য পাওয়া গেছে। ওই এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় মূলত কয়েকটি কটেজে এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়। তদন্তে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

পূর্বকোণ/পিআর/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট