চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

সর্বশেষ:

১৩ আগস্ট, ২০২২ | ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

খরা কাটিয়ে বৃষ্টিতে স্বস্তি

আষাঢ় ও শ্রাবণ দুই মাস বর্ষাকাল। কিন্তু বর্ষার ভরা মৌসুম পার হচ্ছে খরা ও অনাবৃষ্টিতে। প্রতীক্ষিত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আমন আবাদ নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন কৃষক। তবে শেষ শ্রাবণের বৃষ্টি স্বস্তি এনে দিয়েছে কৃষকদের মনে। শঙ্কা কাটিয়ে এখন ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন আমন রোপণে। তবে দেরিতে চারা লাগানোর কারণে কাঙ্ক্ষিত ফলন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

কৃষি বিভাগ ও কৃষকেরা জানান, জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় মাসে আমনের বীজতলা প্রস্তুতের উপযুক্ত সময়। কিন্তু চলতি বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বীজতলা নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। নিজস্ব সেচপাম্প দিয়ে বীজতলা তৈরি করেও অনাবৃষ্টিতে বিপাকে পড়েন কৃষকেরা। পানির অভাবে খরার কারণে বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়াও জমি প্রস্তুত করতে না পারায় চারা রোপণ করতে পারেনি। অথচ বীজতলা তৈরির ২৫-৩০ দিনের মধ্যে চারা রোপণ করতে হয়। চারার বয়স বেড়ে গেলে ভালো ফলন দেয় না।

 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচাক মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান পূর্বকোণকে বলেন, ‘চলতি মৌসুমে এক লাখ ৮২ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৩৫ শতাংশ জমিতে আমন আবাদ করা হয়েছে। দক্ষিণ চট্টগ্রামে জোয়ারের চাপ থাকায় বড় সমস্যা হবে না।’ চট্টগ্রাম অঞ্চলে আমন আবাদ দেরিতে হয় বলে জানান তিনি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা

পূর্বকোণকে বলেন, জ্যৈষ্ঠ মাসে ও আষাঢ়ের শুরুতে আমনের বীজতলা তৈরির মোক্ষম সময়। বীজতলা তৈরির ২৫-৩০ দিনের মধ্যে চারা রোপণ করতে হয়। চারার সময় বেড়ে গেলে বা দেরিতে রোপণ করা হলে কাঙ্ক্ষিত ফলন উৎপাদনে শঙ্কা দেখা দেয়। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলেন, আমন বৃষ্টিনির্ভর ফসল। কৃষি বিভাগের হিসাবে ৩১ আগস্টের মধ্যে ধান রোপণ করতে হবে। শুধু রোপণ নয়, ধানের চারা বেড়ে ওঠার সময় সেপ্টেম্বর নাগাদও জমিতে পানি থাকতে হবে। সময়মতো বৃষ্টি না হলে আমন চাষ ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

 

কড়লডেঙ্গার কৃষক কুমকুম দাশ বলেন, ‘কোরবানি ঈদের আগে আমনের বীজ ফেলা হয়। কিন্তু খরা ও অনাবৃষ্টির কারণে বীজতলার মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। চারা বিবর্ণ ও নষ্ট হয়ে গেছে। এখন বৃষ্টিপাত হওয়ায় জমি তৈরি ও চারা রোপণ শুরু হয়েছে। দেরিতে বৃষ্টি হওয়ায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সবাই একযোগে চারা লাগানোর কারণে শ্রমিকের সংকট দেখা দিয়েছে। শ্রমিকের পাশাপাশি অনেকে নিজেরাই লেগে গেছেন কাজে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে প্রান্তিক চাষিরা।

 

গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি হওয়ায় কৃষকরা মাঠে নেমেছে। তবে চাষাবাদে দিনমজুর সংকট রয়েছে। দৈনিক ৮০০/৯০০ টাকা মজুরি দিয়েও শ্রমিক মিলছে না। বিভিন্ন স্থানে এক হাজার টাকা মজুরিতে চাষাবাদ করতে বাধ্য হচ্ছে।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক জানান, বৃষ্টি না হওয়ার কারণে এতদিন কৃষকেরা মাঠে নামতে পারেনি। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় আমনের চাষাবাদে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। সরেজমিন দেখা যায়, এখন বৃষ্টিপাত হওয়ায় জমি তৈরি ও চারা রোপণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষক। কেউ বীজতলা থেকে চারা তুলছেন, কেউ সেই চারা রোপণ করছেন।

 

কৃষি বিভাগ জানায়, জমিতে চাষ দেওয়ার উপযোগী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তাই প্রান্তিক চাষিদের দ্রুত চারা রোপণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অনেক প্রতীক্ষার পর কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা মিলেছে। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনাবৃষ্টির কারণে বিশ্ববাজারে চালের অন্যতম বড় রপ্তানিকারক ভারতেও চলতি মৌসুমে ১৩ শতাংশ ফলন কম হবে। ফলন কম হলে বাংলাদেশের বাজারেও আগামীতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

 

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট