চট্টগ্রাম সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

১২ আগস্ট, ২০২২ | ১১:১৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্গম পাহাড়ে নিরাপদ পানির হাহাকার দূর করল বিদ্যানন্দ

রাঙামাটির বাঘাইছড়ির দুর্গম পাহাড়ে ৩২ শ’ ফুট দীর্ঘ পাইপলাইন বিশিষ্ট বিশুদ্ধ পানির প্রজেক্ট বসিয়েছে সেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। এর মাধ্যমে দূর হয়েছে প্রায় দুই শতাধিক উপজাতি মানুষের নিরাপদ খাবার পানির সংকট। পানির প্রজেক্ট পেয়ে খুশি উপকারভোগীরা।

শুক্রবার (১২ আগস্ট) সকালে সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম হগরাকিজিং পাড়ায় এই প্রজেক্টটির উদ্বোধন করা হয়েছে।

জানা যায়, সাজেকের কংলাক থেকে প্রায় ২ ঘণ্টা হেঁটে পৌঁছাতে হয় দুর্গম হগরাকিজিং পাড়ায়। সেখানে এখনো পৌঁছায়নি নেটওয়ার্কের সুবিধা। পাড়াটিতে বসবাস করেন প্রায় ২০০ মানুষ। যে পাড়ায় তারা বসবাস করেন সেখান থেকে ঝিরির পানির দূরত্ব প্রায় ৩২০০ ফুট নিচে। এতো নিচে ও দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে গিয়ে পাড়ার নারীদের পড়তে হয় বিপাকে। ইতিমধ্যে অনেক নারীই বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।

শুধু দুর্ঘটনাই নয়, নিরাপদ খাবার পানির অভাবে ডায়েরিয়া ও টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে অনেকে। ছড়িয়েছে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগও। এমন পরিস্থিতিতে ২০২০ সালে পাড়াবাসীর দুঃখ দুর্দশা বিদ্যানন্দের নজরে আনেন চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীস রায়। চিঠি লিখে পানির সমস্যা সমাধানের অনুরোধ করেন তিনি। একইসাথে পাড়াবাসীও আলাদাভাবে আবেদন করেন বিদ্যানন্দের কাছে।

 

খাবার পানি পেয়ে উচ্ছাসিত হগরাকিজিং পাড়ার শিশুরা

এদিকে গত ২ আগস্ট ৩২শ’ ফুট দীর্ঘ পাইপলাইন বিশিষ্ট বিশুদ্ধ পানির প্রজেক্ট বসানোর কাজ হাতে নেয় বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। বিদ্যানন্দের প্রধান স্বেচ্ছাসেবকের নেতৃত্বে এতে কাজ করেন প্রায় ১৫ জন স্বেচ্ছাসেবক। ৪ আগস্ট সম্পন্ন হয় এই প্রজেক্ট।

বিদ্যানন্দের প্রধান স্বেচ্ছাসেবক কিশোর কুমার দাস বলেন, ‘দুর্গম পাথুরে এলাকা হওয়ায় এখানে পানির ব্যবস্থা করা সমতলের চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। তারপরও আমরা চেষ্টা করেছি।’

তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক বনাঞ্চল নষ্ট করে ফেলা, নির্বিচারে গাছ কাটা ও পাহাড়ে আগুন দেয়ায় দিনে দিনে পানির সংকট তীব্রতর হচ্ছে। এ সংকট কাটাতে পানির উৎসস্থলে বনায়ন ও বাশ লাগাতে হবে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে এ সমস্যার সমাধান করা যাবে না।’

 

বাড়ির উঠানে পাওয়া গেল পানি। নামতে হয়নি ৩২শ’ ফুট নিচে। প্রথমবারের মতো কষ্ট ছাড়াই মিলল পানি। তাই শিশুদের উচ্ছাস ছিল দেখার মতো।

বিদ্যানন্দন ফাউন্ডেশনের বোর্ড মেম্বার জামাল উদ্দিন বলেন, সাজেকের মিজোরাম সীমান্তবর্তী দুর্গম ফজোরাক্রিসিং পাহাড়ি এলাকায় বিদ্যানন্দের সফল একটি প্রজেক্ট এটি। ৩২০০ ফুট দূরের উৎস থেকে পানি সরবরাহ করার মাধ্যমে আমরা দূর করেছি এই পাড়ার পানির সমস্যা। আজ থেকে ২৭টি পরিবারের কষ্ট দূর হয়েছে। দূর হয়েছে পানির জন্য হাহাকার।

তিনি আরও বলেন, অসম্ভব দেখে যেখানে সবাই মুখ ফিরিয়ে নেয়, সেখানে আমরা জয় করতে শিখেছি। অনুভব করতে শিখেছি দূর্গম এলাকার মানুষের যন্ত্রণা ও কষ্ট। ভবিষ্যতে দূর্গম এলাকায় পানির সমস্যা সমাধানে নতুন এই অভিজ্ঞতা আরও বেশি সাহসী করবে পুরো টিমকে। এই উচ্ছ্বাস প্রাপ্তির, এই উচ্ছ্বাস কষ্ট থেকে মুক্তির।

 

পূর্বকোণ/মামুন/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট