চট্টগ্রাম সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

১২ আগস্ট, ২০২২ | ১২:২২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

জনগণ করলে জেল-জরিমানা, চসিক নিজে করলে…?

ড্রেন ও খালে ময়লা ফেলার দায়ে সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। সেই চসিকের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাই বাসাবাড়ি থেকে সংগৃহীত আবর্জনা ফেলছেন খালে। সেসব আবর্জনার একাংশ জোয়ারের পানিতে মিশে সড়কে ও বাকিটুকু খালে ভেসে যাচ্ছে। আবর্জনার গন্ধে এলাকায় বসবাস করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এলাকাবাসী। ডাস্টবিন না থাকায় প্রতিদিন খোলা স্থানে চসিকের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা এভাবে ময়লা ফেলেন বলে জানান স্থানীয়রা।

 

নগরীর ১৯ নম্বর দক্ষিণ বাকলিয়ার মিয়াখান নগর বাদামতলী এলাকায় গতকাল (বৃহস্পতিবার) বেলা ১২টার দিকে দেখা যায়, সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বাসাবাড়ি থেকে সংগৃতীয় ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন। যা জোয়ারের পানিতে ভেসে খালে ও সড়কে ছড়িয়ে পড়ছে। মানুষের চলাচলের সময় এসব ময়লা মানুষের পায়ে লাগছে এবং এলাকায় দুর্গন্ধও ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় দোকানদার

ও এলাকাবাসীর অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদিন মিয়াখান নগরের বাদামতলীর খালের পাড়ে উন্মুক্ত স্থানে প্রতিদিন ময়লা ফেলে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। ফলে এলাকায় বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যেখানে ময়লা ফেলা হয়, তার পাশেই একটি কিন্ডার গার্ডেন স্কুল রয়েছে। দুর্গন্ধে বাচ্চাদের ক্লাস করা কঠিন হয়ে পড়ে।

 

স্থানীয় দোকানদার মো. শরীফুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন সকালে সিটি কর্পোরেশনের ভ্যানগুলো এলাকার ময়লা সংগ্রহ করে বাদামতলীর মোড়ে রেখে যায়। যা জোয়ারের পানি বা বৃষ্টিতে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে যায়। সেইসাথে ময়লার দুর্গন্ধের কারণে দোকানে কাস্টমারও আসতে চান না। এ ব্যাপারে কাউন্সিলের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া দরকার। সম্প্রতি নিজ কর্মস্থল বা আবাসস্থলে সৃষ্ট বর্জ্য নির্ধারিত পদ্ধতি না মেনে ফেলার দায়ে জরিমানা করেছে চসিক।

 

কেউ যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেললে তার বিরুদ্ধে ‘কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আইন-২০২১ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিটি মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। এরপর নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে মাইকিং করে নগরবাসীকে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলতে নিষেধ করা হয়েছে। এরপরও কেউ যত্রতত্র ময়লা ফেললে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী সর্ব্বোচ্চ ২ লাখ টাকা জরিমানা, ২ বছরের জেল বা উভয় দণ্ড প্রয়োগ করা হবে বলে জানান মেয়র। আবর্জনা ফেলার বিষয়ে জানতে চাইলে ১৯ নম্বর দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নুরুল আলম মিয়া বলেন, অন্য দিনের তুলনায় আজ (গতকাল বৃহস্পতিবার) জোয়ারের পানি অনেক বেশি ছিল। ফলে জোয়ারের পানির কারণে ময়লাগুলো খালে গেছে। না হয়, আমাদের কর্মীরা কখনো খালে ময়লা ফেলবে না।

 

তিনি আরো বলেন, ১৯ নম্বর বাকলিয়া এলাকার ময়লা সংগ্রহ করে মিয়াখান নগরের বাদামতলী মোড়ে রাখা হয়। এরপর ময়লা সংগ্রহের বড় গাড়ি এসে সেখান থেকে নিয়ে যায়। এটি আমাদের ময়লা ফেলার একমাত্র স্টেশন। এটা ছাড়া ময়লা ফেলার অন্য কোন জায়গা নেই।

 

আগামী ডিসেম্বরে নতুন একটি প্রকল্পের আওতায় মিয়াখান সওদাগরের পুল থেকে ইসহাকের পুল পর্যন্ত সড়ক উঁচু করা হবে এবং প্রকল্পের আওতায় বর্তমান ময়লা ফেলার স্থানে ডাস্টবিনটির চারপাশে বাউন্ডারি দিয়ে ঘর করে দেয়া হবে। যাতে বাইরে থেকে ময়লা দেখা না যায়। এছাড়া, নতুন জায়গা পাওয়া গেলে, এখান থেকে ময়লার স্তূপ সরানো হবে বলে জানান কাউন্সিলর।

 

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট