চট্টগ্রাম সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

১২ আগস্ট, ২০২২ | ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ

মিজানুর রহমান

তেলের তাপে বাসের চাপ ট্রেনে

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বেড়ে গেছে বাস ভাড়া। তাই টাকা সাশ্রয়ে যাত্রীরা এখন ট্রেনেই ভিড় করছেন বেশি। এই কারণে হঠাৎ পাল্টে গেছে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের চিত্র। সপ্তাহের ব্যবধানে যাত্রীর চাপ বেড়ে গেছে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি ট্রেনে। মেইল ট্রেনের পাশাপাশি আন্তঃনগর ট্রেনগুলোও এখন চট্টগ্রাম ছাড়ছে যাত্রীভর্তি হয়ে। প্রতিদিন অন্তত ৩ হাজার বেশি যাত্রী বহন করছে এসব ট্রেন।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান- চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঢাকা, সিলেট, চাঁদপুর, ময়মনসিংহগামী ১০টি আন্তঃনগর এবং ৪টি মেইল ট্রেন চলাচল করে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬টি আন্তঃনগর এবং ২টি মেইল ট্রেন চলাচল করে চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে। স্বাভাবিক সময়ে এসব ট্রেনে প্রতিদিন চট্টগ্রাম ছেড়ে যান ৭-৮ হাজার যাত্রী। তবে এখন প্রতিদিন ১০-১১ হাজার যাত্রী চট্টগ্রাম ছাড়ছেন ট্রেনে চড়ে। যা কেবল ঈদযাত্রার সময় হয়।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার রতন কুমার চৌধুরী পূর্বকোণকে বলেন, চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন স্টেশনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলোতে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার টিকিট আছে। গত সপ্তাহেও এসব টিকিটের বিপরীতে ৭-৮ হাজার যাত্রী চট্টগ্রাম ছাড়তেন। তবে এই সপ্তাহে যাত্রীর চাপ হঠাৎ বেড়ে গেছে। প্রতিদিন ১০-১১ হাজার যাত্রী চট্টগ্রাম ছাড়ছেন। বৃহস্পতিবার (গতকাল) ট্রেনে চট্টগ্রাম ছেড়েছেন ১১ হাজারের বেশি যাত্রী।

৮ হাজার যাত্রী কমেছে বাসে :
চট্টগ্রাম আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির দেওয়া তথ্যানুসারে-কেবল চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে দিনে ৬০০-৬৫০টি বাস চলাচল করে। গত শুক্রবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর আগে এসব বাসে দিনে ১৮-২০ হাজার যাত্রী চলাচল করতেন। তবে গত শনিবার বাস ভাড়া বাড়ানোর পর গত রবিবার থেকে যাত্রী কমে গেছে বাসগুলোতে। এখন দিনে ১০-১২ হাজার যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে। দিনে যাত্রী কমেছে অন্তত ৮ হাজার।

চট্টগ্রাম আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন পূর্বকোণকে জানান, মানুষ এখনও বাড়তি ভাড়ার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারেননি। এই কারণে যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে অফ সিজন, প্রতিকূল আবহাওয়া, মাসের মাঝামাঝি সময়ের কারণে যাত্রী কমেছে। সব মিলিয়ে গত সপ্তাহের তুলনায় এই সপ্তাহে দিনে ৮ হাজার যাত্রী কমেছে। লোকসান গুনছি আমরা।
ট্রেন ও বাসে ভাড়ার পার্থক্য কত?

গত ৫ আগস্ট রাতে দেশে আচমকা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর ৬ আগস্ট নতুন বাস ভাড়া নির্ধারণ করে বিআরটিএ। এরপর দেশের সব রুটে বাস ভাড়া বাড়ান পরিবহন মালিকরা। নতুন ভাড়া তালিকা অনুযায়ী চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে নন এসিতে সিট প্রতি ভাড়া ধরা হয়েছে ৬৮০-৭০০ টাকা। এছাড়া ইকোনমি ক্লাসের এসিতে ৯৫০ টাকা, বিজনেজ ক্লাসের এসিতে ১৪০০ টাকা এবং ডাবল ডেকোরে ১৬০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে রেলওয়ের সবচেয়ে আধুনিক ট্রেন ‘সোনার বাংলা’ এক্সপ্রেস। এই ট্রেনে ৪ ধরনের টিকিট পাওয়া যায়। এরমধ্যে নন এসি শোভন চেয়ারের টিকিট মূল্য ৪০৫ টাকা, নন এসি ফার্স্ট ক্লাস টিকিট মূল্য ৬৯৫ টাকা, এসি টিকিট ৮০৫ টাকা এবং এসি ফার্স্ট ক্লাস টিকিটের মূল্য ৯০৩ টাকা। অর্থাৎ নন এসিতে বাসের তুলনায় ট্রেনে ২৭৫-২৯৫ টাকা এবং এসিতে ১৪৫-৬৯৭ টাকা সাশ্রয় হচ্ছে যাত্রীদের। এ কারণে যাত্রী বেড়েছে ট্রেনে।ট্রেন যাত্রায়ও দুঃসংবাদ আসছে!

৬৫ টাকার ডিজেল প্রথম দফায় ১৫ টাকা বাড়িয়ে ৮০ টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা করেছে বিপিসি। ডিজেলের দাম বাড়ার পর পর বাস ভাড়া ভাড়ানো হলেও ট্রেনের ভাড়া এখনও বাড়ায়নি সরকার। তবে রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- এবার ডিজেলের দাম রেকর্ড সংখ্যক বাড়ায় ট্রেনেও ভাড়া বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য কোন রুটে কি পরিমাণ ভাড়া বাড়ানো যায় তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

রেলওয়ের বাণিজ্যিক বিভাগের একজন কর্মকর্তা পূর্বকোণকে জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সড়ক ও আকাশপথে যেভাবে ভাড়া বেড়েছে- রেলপথে বাড়েনি। এই কারণে রেলওয়ের লোকসান বেড়েছে। তাই টিকিটের দাম বাড়িয়ে সমন্বয়ের চিন্তা ভাবনা চলছে। আমরা কেবল কোন রুটে কি পরিমাণ ভাড়া বাড়ানো যায় তা নিয়ে কাজ করছি। তবে রেলওয়ে যেহেতু সরকারি প্রতিষ্ঠান, তাই মন্ত্রণালয়ই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

 

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট