চট্টগ্রাম সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

৯ আগস্ট, ২০২২ | ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ

ইমাম হোসাইন রাজু

পাঁচ বছরের ব্যবধানে আয় বেড়েছে তিনগুণ

২০১৬-১৭ অর্থবছরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা খাত থেকে চার কোটি টাকার কিছু বেশি আয় করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল। পাঁচ বছর পর একই খাতের আয় প্রায় তিনগুণ বেড়ে দাঁড়ায় সাড়ে ১১ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন- আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন, মানসম্মত সেবার পরিধি বৃদ্ধি, দালাল নিয়ন্ত্রণ, কর্তৃপক্ষের কঠোর তদারকি এবং চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিকতার ফলে আয় বেড়েছে বৃহৎ এ হাসপাতালের।

 

সরকারি এ হাসপাতালের আয় বাড়ানোর আরও সুযোগ আছে জানিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, জনবল কাঠামোসহ আরও সেবামুখী সিদ্ধান্তের উপর গুরুত্ব দিলে আলোচ্য আয় সামনে আরও বাড়বে। এছাড়া সম্প্রতি গৃহীত বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলেও হাসপাতালের আয় বাড়বে বলে মত হাসপাতাল পরিচালনা কর্মকর্তাদের।

 

তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে হাসপাতালের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে আয় হয় চার কোটি টাকার কিছু বেশি। পরবর্তী বছরে তথা ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে আয় হয় ৭ কোটি ৫২ লাখ ১৯ হাজার ৯৭৭ টাকা। এরমধ্যে ৬ কোটি ৯৮ লাখ ৫২ হাজার ৯৪০ টাকাই হচ্ছে পরীক্ষা-নিরীক্ষার। আর ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে আয় হয় ৯ কোটি ৩৮ লাখ ৭৩ হাজার ৯৭৩ টাকা। তারমধ্যে ৯ কোটি ১০ লাখ ৮ হাজার ২৮৫ টাকাই হচ্ছে ইউজার ফি বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা খাতে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এসে আগের চেয়ে কমে গেলেও আয় দাঁড়ায় ৯ কোটি ৬৫ লাখ ৮৭ হাজার ৭৬৮ টাকায়। তারমধ্যে ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩১ হাজার ২৪০ টাকা আয় হয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার খাত থেকে। আর ২০২০-২১ অর্থবছরে আয় আগের বছরের চেয়ে কিছুটা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ কোটি ৬৯ লাখ ১৯ হাজার ২৭৩ টাকায়। তারমধ্যে ৯ কোটি ৩৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬১৫ টাকা আয় হয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা খাত থেকে। সর্বশেষ ২০২১-২২ অর্থবছরে অন্যান্য বছরের চেয়ে অনেকটাই আয় বাড়ে। এ বছর আয় হয় ১২ কোটি ১৫ লাখ ২২ হাজার ৫৭ টাকা। যারমধ্যে ১১ কোটি ৫০ লাখ ৮১ হাজার ৬৮৫ টাকা পরীক্ষা-নিরীক্ষা খাত থেকে। অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে আয়ের পরিমাণ তিনগুণ বৃদ্ধি পায়।

 

এ প্রসঙ্গে চমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. অং সুই প্রু মারমা পূর্বকোণকে বলেন, ‘আগে হাসপাতালে রোগী এলেই দালাল এসে তাদের ভুল বুঝিয়ে বাইরে নিয়ে যেত। তাতে করে রোগীরা যেমন হয়রানির শিকার হতেন, তেমনই তাদের বাড়তি খরচও হতো। কিন্তু দালাল নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করেছি। সম্প্রতি বহু দালালকে আটক করে পুলিশের হাতেও তুলে দিয়েছি। বলা চলে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে যাওয়া এখন আর নেই।’

 

কম খরচে মানসম্মত পরীক্ষা-নিরীক্ষার সক্ষমতা হাসপাতালে আগের চেয়ে অনেক বেশি বেড়েছে উল্লেখ করে ডা. অং সুই প্রু মারমা আরও বলেন, রোগীদেরও আস্থা অনেক বেশি অর্জন হয়েছে। যার ফলে আমরা পূর্বের অর্থবছরের চেয়ে বিদায়ী অর্থবছরে অনেক বেশি আয় করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা চাই সকলের সহযোগিতায় সেবা কার্যক্রম আরও অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে।’

 

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট