চট্টগ্রাম সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

৯ আগস্ট, ২০২২ | ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

টেম্পো কেন সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা নিবে, প্রশ্ন যাত্রীদের

ডিজেলচালিত টেম্পোগুলোর সর্বনিম্ন ভাড়া নিয়ে চালকদের সঙ্গে গত দুু’দিন ধরে বাকবিতণ্ডা লেগেই আছে যাত্রীদের। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে যে ভাড়া নির্ধারণ করেছে সেখানে টেম্পোর জন্য আলাদা কোন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়নি।

কর্তৃপক্ষীয় সূত্র জানায়, এই ধরনের যানবাহনের জন্য বিআরটিএ’র কোন নীতিমালা না থাকায় টেম্পোর জন্য পৃথক ভাড়ার তালিকা হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, এই সুযোগ নিয়েই টেম্পো চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে ওঠানামা অর্থাৎ সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা এবং দূরত্ব (কিলোমিটার প্রতি পুনঃনির্ধারিত ভাড়া ৩৫ পয়সা) বিবেচনায় না নিয়ে ইচ্ছেমাফিক বাড়তি ভাড়া আদায় করছে।

শনিবার রাতে বিআরটিএ বাস ও মিনিবাসের সর্বনিম্ন ভাড়া যথাক্রমে ১০ টাকা ও ৮ টাকা পুনঃনির্ধারণ করে। আসন বিবেচনায় নিয়ে বড় বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা এবং ছোট গাড়ি অর্থাৎ মিনিবাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ৮ টাকা নির্ধারণ করে। টেম্পোর ক্ষেত্রে যেহেতু নির্দিষ্ট নীতিমালা নেই, সেক্ষেত্রে ছোট গাড়ি বিবেচনায় টেম্পোর সর্বনিম্ন ভাড়া ৮ টাকা হওয়ার কথা। কিন্তু টেম্পোচালকরা সর্বনিম্ন ভাড়া বড় বাসের মতো ১০ টাকাই আদায় করছে। এমনকি গ্যাসচালিত টেম্পোগুলোও যাত্রীদের কাছ থেকে ডিজেলচালিত টেম্পোর মতোই ভাড়া নিচ্ছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি বেলায়েত হোসেন বেলাল বলেন, ছোট গাড়ি হিসেবে টেম্পোর সর্বনিম্ন ভাড়া মিনিবাসের মতো ৮ টাকাই হবে। ১০ টাকা নিলে সেটা অযৌক্তিক।

এ কে খান এলাকা থেকে জিইসি মোড়ে আসা টেম্পো যাত্রী জাহাঙ্গীর আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বড় টেম্পোগুলো গ্যাসচালিত। সেই টেম্পোচালকও ওঠানামা ১০ টাকা আদায় করছে। সরকার গ্যাসের দাম না বাড়ালেও গ্যাসচালিত টেম্পোগুলো যাত্রীদের কাছ থেকে ডিজেলচালিত টেম্পোর মতোই বাড়তি ভাড়া আদায় করছে।

কলেজ শিক্ষার্থী আরেফিন বলেন, এ কে খান থেকে জিইসির দূরত্ব ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার। প্রতি কিলোমিটারে ৩৫ পয়সা করে ভাড়া বাড়লে এক টাকা ৬৮ পয়সা বাড়তি যোগ হওয়ার কথা। আগের ১২ টাকা ভাড়ার সঙ্গে যোগ করলে ১৩ টাকা ৬৮ পয়সা ভাড়া নেয়ার কথা। কিন্তু জিইসি থেকে এ কে খান পর্যন্ত ১৫ টাকা করে ভাড়া আদায় করছে টেম্পো চালকেরা। এটা রীতিমতো জুলুম।

রবিন নামের অপর এক যাত্রী জানান, পুনঃনির্ধারণের আগে জিইসি থেকে বহদ্দারহাটের ভাড়া (প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরত্ব) ছিল ১২ টাকা। সেখানে পুনঃনির্ধারণের পর এখন ভাড়া নিচ্ছে ১৫ টাকা। অথচ প্রতি কিলোমিটারে বাড়তি ৩৫ পয়সা হিসেবে আলোচ্য দূরত্বে ভাড়া নেয়ার কথা ১৩ টাকা ৪০ পয়সা। মানে ১ টাকা ৬০ পয়সা বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে তেলের বর্ধিত মূল্যের দোহাই দিয়ে। তিনি বলেন, টেম্পো চালকদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা তুললেই দুর্ব্যবহার করেন। এমনকি গায়ে হাত তোলার জন্য তেড়ে আসেন।
রবীন নামের ওই যাত্রী জানান, জিইসি- বহদ্দারহাট রুটেও সর্বনিম্ন ১০ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। যা আগে ছিল ৭টাকা।

দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (আদালত-১৩) মুহাম্মদ শাহারিয়ার মুক্তার বলেন, অটোটেম্পো কিংবা হিউম্যান হলারের সুনির্দিষ্ট ভাড়ার তালিকা নেই। বাস মিনিবাসে যত শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হয়েছে তার উপর নির্ভর করে এ যানবাহনগুলো ভাড়া বাড়িয়েছে। অনিয়ম করে থাকলে এ গাড়িগুলোর বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (আদালত-১৩) মুহাম্মদ শাহারিয়ার মুক্তার কোথাও বাড়তি ভাড়া আদায় করা হলে অভিযোগ (মোবাইল নম্বর: ০১৬৮৮-২৪৪৬৪৬) জানানোর পরামর্শ দেন।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট