চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

৮ আগস্ট, ২০২২ | ১২:৩৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে অটোটেম্পো-হিউম্যান হলার

নগরীতে চলাচলকারী গণপরিবহনের মধ্যে অটোটেম্পো এবং হিউম্যান হলারের সংখ্যাই বেশি। কিন্তু জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পর বিআরটিএ’র দেওয়া নতুন ভাড়ার তালিকায় এ দুই যানবাহনের ভাড়া নিয়ে কোনো নির্দেশনা রাখা হয়নি। ফলে এসব গণপরিবহনে ‘যেমন খুশি তেমন’ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এতে যাত্রীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

শনিবার ঢাকায় ভাড়া পুনঃনির্ধারণ সংক্রান্তে অনুষ্ঠিত বিআরটিএর বৈঠকের পর কর্মকর্তারা ভাড়া নিয়ে যে ঘোষণা দেন তাতে বড় বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা এবং মিনি বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ৮ টাকা নির্ধারণের কথা জানানো হয়। কিন্তু বিআরটিএ নির্ধারণ করে না দেওয়ায় অটোটেম্পো এবং হিউম্যান হলারের সর্বনিম্ন ভাড়া বড় বাসের মতো ১০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।

 

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, গণপরিবহনের মধ্যে আসন সংখ্যা বিবেচনায় নিয়েই সাধারণত সর্বনিম্ন ভাড়া কতো হবে, তা নির্ধারণ হয়ে থাকে। অটোটেম্পো এবং হিউম্যান হলারের আসন সংখ্যা মিনি বাসের চেয়ে কম হওয়ায় এসব গণপরিবহনে সর্বনিম্ন ভাড়া আরও কম হওয়ার কথা। কিন্তু সেটি না মেনে টেম্পো চালকদের অনেকেই সর্বনিম্ন ১০ টাকাই আদায় করেছেন।

প্রসঙ্গতঃ জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে বাস মিনিবাসের ভাড়ার নতুন তালিকা নির্ধারণ করে সরকার গতকাল যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে তাতে বলা হয়েছে- ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাসের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া দুই টাকা ১৫ পয়সার স্থলে ২ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাসে সর্বনিম্ন ১০ টাকা আর মিনিবাসে ৮ টাকা ভাড়ার কথা বলা হয়েছে। বাস আর মিনিবাসের ভাড়ার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও অটেটেম্পো ভাড়ার বিষয়ে কোন নির্দেশনা নেই সরকারি এই প্রজ্ঞাপনে।

অথচ ভাড়া নিয়ে সবচেয়ে বেশি নৈরাজ্য চলে অটোটেম্পো আর হিউম্যান হলারে। সেখানে আগে সর্বনিন্ম ভাড়া নেওয়া হতো ৭ টাকা। এখন ৭ টাকার স্থলে তারা সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা নির্ধারণ করেছে।

 

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি বেলায়েত হোসেন বেলাল বলেন, অটোটেম্পো আর হিউম্যান হলারের রেজিস্ট্রেশন নম্বর বিআরটিএ দিয়ে থাকে। যানবাহনগুলোকে আরটিসি রুট পারমিটও দিয়েছে। তবে বিআরটিএতে এসব গাড়িগুলোর স্বতন্ত্র কোন নীতিমালা নেই। জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়লে এ গাড়িগুলোর সাথে জড়িতরা সাংগঠনিকভাবে নিজেরাই ভাড়া নির্ধারণ করে থাকে।

সড়ক পরিবহন ফেডারেশন চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক অলি আহমদ জানান, হিউম্যান হলার কিংবা অটোটেম্পোর ভাড়ার বিষয়ে সরকারি কোন নির্দেশনা কখনো ছিল না। অনুমান করে যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হয়।

সুনির্দিষ্ট ভাড়া নির্ধারণের কথা জানিয়ে সম্প্রতি বদলি হওয়া চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর আরটিসির চেয়ারম্যান হিসাবে বিআরটিএর কাছে চিঠিও দিয়েছিলেন। তবে কোনো সাড়া মেলেনি। নগরী ও আন্তঃজেলার রুটে বাস মিনিবাসের ভাড়া নির্ধারণের বিষয়ে গতকাল রবিবার বৈঠক করেছেন চট্টগ্রাম বিআরটিএর কর্মকর্তারা। ওই বৈঠকেও অটোটেম্পোর ভাড়া নির্ধারণের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

 

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বিআরটিএর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) আতিকুর রহমান জানান, সরকারি প্রজ্ঞাপনে অটেটেম্পোর ভাড়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

উল্লেখ্য, নগর যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটির (আরটিসি) তথ্য অনুযায়ী নগরীর ২১ রুটে ১৮৩৯টি অটেটেম্পো চলাচল করে। ১৮ রুটে বাস চলাচল করে ১০৪০টি এবং হিউম্যান হলার চলাচল করে ১৪৫৬টি। এরমধ্যে প্রায় ১২’শ হিউম্যান হলার ডিজেলচালিত। আরও ৪৫৮টি অটোটেম্পার রুট পারমিটের আবেদন জমা পড়েছে। নতুন করে ১৯টি অটোটেম্পোর রুট বাড়াতেও আবেদন করেছে রিভিউ কমিটি।

 

পূর্বকোণ/এএস

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট