চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

৮ আগস্ট, ২০২২ | ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ

ইফতেখারুল ইসলাম

খাল ভরাট করে বালি মহাল নির্মাণের উদ্যোগ

কালুরঘাট ব্রিজের আগে ৯ নম্বর ব্রিজ খালের একাংশ পাথর ফেলে ভরাট করা হয়েছে। খাল পাড়ে রাখা হয়েছে লোহার তিনটি বড় পাইপ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাইপগুলো খালে বসানো হবে। তার উপর পাকা স্ল্যাব নির্মাণ করে খাল এবং রেলের জায়গার উপর বালির মহাল করা হবে। জনৈক হাসান নামে এক ব্যক্তি এই কাজটি করছেন।

জানতে চাইলে মো. হাসান পূর্বকোণকে বলেন, একটি প্রাইভেট কার্যাদেশে সেখানে তিনি মাটি ভরাটের কাজ নিয়েছিলেন। পাইপগুলো তার উল্লেখ করে বলেন, বনিবনা না হওয়ায় এখন তিনি সেই কাজটি আর করছেন না। তবে তিনি দাবি করেন, পাথর ফেলে তিনি খাল ভরাট করেননি। কে করেছে তাও তার জানা নেই।

আলাপকালে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী নুরুল আমিন মামুন পূর্বকোণকে জানান, কালুরঘাট ৯ নম্বর ব্রিজ শাখা খালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কোন কাজ করছে না। এই মুহূর্তে খালটিতে সিটি কর্পোরেশনের কোন উন্নয়ন প্রকল্পও নেই। কেউ ব্যক্তি উদ্যোগে কাজ করছে কিনা তা তার জানা নেই। তাছাড়া খাল ভরাটের কোন সুযোগ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

সরেজমিন পরিদর্শনে স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে জানা যায়, ৯ নম্বর ব্রিজ খালটি ছিল মূলত আরাকান সড়কের সাথে লাগোয়া। খালটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জায়গায় ব্রিটিশ আমলে খনন করা হয়েছিল আশপাশের পানি নিষ্কাশনের জন্য। পশ্চিম মোহরা জান আলি হাট স্টেশন, মোহরা স্কুলের আশপাশ, জেলে পাড়া, শশাঙ্ক ডাক্তারের বাড়ি, মানিক চৌধুরী বাড়ি, মধ্যম মোহরাসহ বিস্তীর্ণ এলাকার পানি এই খাল দিয়ে কর্ণফুলীতে গিয়ে পড়ে।

তবে সড়কের উন্নয়ন কাজ করলে খালের কারণে তা ভেঙে যেত। তাছাড়া খালটি ছিল আঁকাবাঁকা। নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম সিডিএ’র চেয়ারম্যান থাকাকালে একটি প্রকল্প নিয়ে খালটি সড়ক থেকে দূরে সরিয়ে সোজা করে দেয় সিডিএ। এরপর থেকে খালের কারণে সড়কের ভাঙন বন্ধ হয় এবং পানি নিষ্কাশনও দ্রুত হয়। এরপর আ জ ম নাছির উদ্দীন মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর সড়কটিতে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেন। সড়কটি এখন ভাল আছে। কিন্তু খাল সরানোর কারণে যে খালি জায়গা বের হয় তা দখল-বেদখলের উৎসব শুরু হয়। জমিটি রক্ষায় সিডিএ কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে সংরক্ষণের চেষ্টা করে। আবদুচ ছালাম সিডিএ থেকে চলে যাওয়ার পর ওই জায়গাটি সংরক্ষণে আর কোন উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। যে যার মত করে দখল করে নেয়। জমি দখল করার পর এবার শুরু হয়েছে খাল দখল প্রক্রিয়া।

 

স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে তারা জানান, যেভাবে খালটি ভরাট করা হচ্ছে তাতে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকার যে মেগা প্রকল্পের কাজ চলছে তার সুফল মিলবে না। তাছাড়া শহরের একটি প্রধান সড়কের উপর খাল ভরাট করে বালির মহাল করা হলে যাত্রী এবং পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে। বালি লোড করার জন্য সড়কের উপর ট্রাক দাঁড়াবে। তাতে যানজট লেগে যাবে। তাছাড়া বাতাসে বালি উড়ে আশপাশের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাবে।

 

পূর্বকোণ/এএস

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট