চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট, ২০২২

সর্বশেষ:

৬ আগস্ট, ২০২২ | ৪:৩৪ অপরাহ্ণ

মোহাম্মদ আলী

মালয়েশিয়ার সাথে চুক্তি শীঘ্রই

শ্রমিকের সহজলভ্যতা ও অনুকূল পরিবেশের কারণে রাবারখাতে বাংলাদেশের সাথে যৌথ শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়তে চায় মালয়েশিয়া। এজন্য চলতি বছরের জুনে একটি এমইউ ড্রাফট বাংলাদেশে পাঠিয়েছে দেশটি। বর্তমানে এটি যাচাই-বাছাই এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। শীঘ্রই দুই দেশের সাথে এ নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনার কথা বলেছে বাংলাদেশ রাবার বোর্ড।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ রাবার বোর্ডের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) সৈয়দা সারওয়ার জাহান দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘বাংলাদেশে রাবারের শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া। এজন্য দেশটি জুন মাসে একটি এমইউ ড্রাফট বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। এটি এখন যাচাই-বাছাই করে দেখছে বন মন্ত্রণালয়। এছাড়া সরকারের সংশ্লিষ্ট আরো কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পাওয়ার পর মালয়েশিয়া প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসবেন। আশা করছি খুব শীঘ্রই এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হবে’।

সৈয়দা সারওয়ার জাহান বলেন, ‘চুক্তি স্বাক্ষরের পর বাংলাদেশে রাবার শিল্প কারখানা তৈরি করবে মালয়েশিয়া। কারখানার উৎপাদিত রাবার পণ্য ও রাবারের কাঁচামাল ল্যাটেক্স নিয়ে যাবে দেশটি। এর আগে মালয়েশিয়া শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ও রাবারের পণ্য উৎপাদনের জন্য উন্নতমানের যন্ত্রপাতি দেবে’।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শ্রমিক সংকট ও মজুরি বৃদ্ধির কারণে এশিয়ার সর্বাধিক রাবার সরবরাহকারী দেশ মালয়েশিয়া পর্যায়ক্রমে রাবার চাষ কমিয়ে দিচ্ছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের সাথে রাবার খাতে শিল্প প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশটি বাংলাদেশের সাথে যৌথভাবে রাবার খাতে বিনিয়োগ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এজন্য বাংলাদেশ রাবার বোর্ডের সাথে যোগাযোগ করেছে মালয়েশিয়া রাবার বোর্ড।

রাবার বোর্ড সূত্র জানায়, সারাদেশে প্রায় ১৫০০টি বেসরকারি ও ২৯টি সরকারি বাগান রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থার বাগান এবং ব্যক্তিগত বাগানও রয়েছে। বাংলাদেশে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার একর জমিতে রাবার চাষ হয়। সবমিলে বার্ষিক রাবার উৎপাদন হয় প্রায় ৬৭ হাজার মেট্রিক টন। মালয়েশিয়া শিল্পখাতে বিনিয়োগ করলে বাংলাদেশে এ শিল্পে আমুল পরিবর্তন আসবে। বাড়বে বেসরকারি খাতে রাবারের বনায়নও।

সূত্র আরো জানায়, বর্তমান বিশ্বে সর্বাধিক ব্যবহৃত পণ্যের মধ্যে রাবার অন্যতম। এর বহুল ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। রাবার দিয়ে বিশ্বের ১ লক্ষ ২০ হাজারের বেশি পণ্য উৎপন্ন হয়। তার মাঝে অত্যাধিক ব্যবহৃত হয় জুতা ও গাড়ির টায়ার, বোতল, পেন্সিলের দাগ মোছার রাবার, ফোম, রেক্সিন, গাম, খেলনা, শিল্প কারখানার বিভিন্ন দ্রব্যাদি, চিকিৎসাশাস্ত্রের বিভিন্ন দ্রব্যাদি ও গৃহস্থালী সামগ্রী। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতিবছর ৩% হারে রাবারের চাহিদা বেড়ে চলছে।

পূর্বকোণ/এএস

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট