চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১২ আগস্ট, ২০২২

সর্বশেষ:

৫ আগস্ট, ২০২২ | ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ

ইমরান বিন ছবুর

সভা না করেই ৬০ হাজার টাকা সম্মানী উত্তোলন!

সভা না করেই চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) দুই কর্মকর্তা সভার সম্মানী বাবদ ৬০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সিডিএ’র মাস্টারপ্ল্যান ও অনন্যা আবাসিকের (২য় পর্যায়) প্রকল্প পরিচালক কোন সভা না করেই সম্মানী বাবদ এই টাকা উত্তোলন করেন। সম্প্রতি সিডিএ’র অডিট আপত্তিতে এমন তথ্য পাওয়া যায়। তবে অডিট আপত্তির এসব তথ্য অস্বীকার করেন এই দুই কর্মকর্তা।

 

জানা যায়, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় ‘মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন প্রকল্প’ কাজের সভা না করেই সম্মানী বাবদ ৩২ হাজার ৫০০ টাকা টাকা উত্তোলন করেন সিডিএ’র মাস্টারপ্ল্যান প্রকল্প পরিচালক ও সিডিএ’র উপ-প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ আবু ঈসা আনছারী। পূর্ত অডিট অধিদপ্তরের অডিট এনগেজমেন্ট টিম ১ এর দলনেতা ও উপ-পরিচালক সি এম ফজলে রাব্বী পলাশ এ অডিট সম্পাদন করেন।

 

অডিট আপত্তির তথ্য মতে, সিডিএ’র ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ অর্থবছর সময়কালের সার্বিক কার্যক্রমের উপর ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২ থেকে ২৪ মার্চ ২০২২ পর্যন্ত সময়ে কমপ্লায়েন্স অডিট কার্যক্রম সম্পাদনকালে দেখা যায়, প্রকল্পে কাজের ক্যাশবুক, বিল, ভাউচার পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটির সভার নামে ২০২১ সালের ২ জুলাই ৩২ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলন করেন। কিন্তু সভার কোন মিনিটস, ভাউচার পাওয়া যায়নি। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে সিডিএ’র মাস্টারপ্ল্যান প্রকল্প পরিচালক ও সিডিএ’র উপ-প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ আবু ঈসা আনছারী অডিটের এসব তথ্য ভুল দাবি করে বলেন, অডিট আপত্তি দিতে গিয়ে কর্মকর্তারা অনেক সময় ভুল তথ্য দিয়ে যান। পরবর্তীতে যা আমরা সংশোধন করি। মাস্টারপ্ল্যান প্রকল্পে সভার অডিট আপত্তিও ভুলবশত দেয়া হয়েছে। এরপর আমরা সব তথ্য অডিটে আসা কর্মকর্তাদের দিয়েছি। পরবর্তীতে তা সংশোধন করা হয়েছে দাবি এই কর্মকর্তার।

 

অন্য একটি অডিট আপত্তিতে উল্লেখ করা হয়, অনন্যা আবাসিক প্রকল্প (২য় পর্যায়) কাজের সভা না করেই প্রকল্প পরিচালক সম্মানী বাবদ ২৭ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলন করেছেন। সিডিএ’র বায়েজিদ লুপ রোডের প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদ বিন আনোয়ার এই টাকা উত্তোলন করেন। অডিট আপত্তিতে অনন্যা আবাসিক প্রকল্প (২য় পর্যায়) কাজের ক্যাশবুক, বিল, ভাউচার পর্যালোচনা সভার কোন মিনিটস, ভাউচার পাওয়া যায়নি।

 

অডিট আপত্তির এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন সিডিএ’র বায়েজিদ লুপ রোডের প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদ বিন আনোয়ার। তিনি বলেন, আমি তো এই প্রকল্পে কখনো ছিলাম না। হয়তো অন্য কারো নামের জায়গায় ভুলবশত আমার নাম চলে এসেছে।

 

অডিট আপত্তির এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সিডিএ চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, অডিট করতে আসা কর্মকর্তারা অনেক সময় তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে ভুল অডিট রিপোর্ট দিয়ে চলে যান। পরবর্তীতে সেসব অডিট আপত্তি আমরা নিষ্পত্তি করে থাকি। অডিট আপত্তি আসা সিডিএ’র মাস্টারপ্ল্যান ও অনন্যা আবাসিক (২য় পর্যায়) প্রকল্প সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

 

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট