চট্টগ্রাম শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২২

সর্বশেষ:

৪ আগস্ট, ২০২২ | ৪:৪০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

৪২% অভিযোগই ৪ সংস্থার বিরুদ্ধে

চট্টগ্রামের ২২টি সরকারি দপ্তরকে নিয়ে দুদকের গণশুনানিতে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ ছিল চার সেবা সংস্থার নামে। মোট অভিযোগের সাড়ে ৪২ শতাংশ অভিযোগই ছিল এসব সংস্থার বিরুদ্ধে। যার মধ্যে দুটি অভিযোগ দুদক অনুসন্ধানের জন্য অনুমোদন প্রদান করলেও বাকিগুলো নিষ্পত্তির পাশাপাশি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

 

গতকাল চট্টগ্রামের সকল সরকারি দপ্তরকে নিয়ে গণশুনানিতে এমন তথ্য ওঠে আসে। দিনব্যাপী দুদকের গণশুনানিতে ২২টি সরকারি দপ্তরের ৪৭টি অভিযোগের বিষয়ে শুনানি করা হয়। তাতে তিনটি অভিযোগ তাৎক্ষণিক অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলেও বেশিরভাগ অভিযোগই সঙ্গে সঙ্গে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। যদিও অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিভাগ দুই থেকে সর্বোচ্চ সাত দিন পর্যন্ত সময় চেয়েছেন কমিশনের নিকট।

 

দুদক জানায়, প্রায় দুই শতাধিক অভিযোগের মধ্যে ৪৭টি অভিযোগ উপস্থাপন করা হয় গণশুনানিতে। যারমধ্যে ৩০টি অভিযোগ তাৎক্ষণিক সমাধানের পাশাপাশি তিনটি অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়া বাকি অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নিষ্পত্তির জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি অভিযোগ পাওয়া যায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) বিরুদ্ধে। এ সংস্থার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে নিয়োগ প্রদান, অর্থ গ্রহণের ১৭ বছরেও প্লট বুঝিয়ে না দেওয়া, ফুটপাত দখলে রাখা, কর আদায়ে ঘুষ গ্রহণসহ সাতটি অভিযোগ শুনানি করা হয়। চসিকের হিসাব বিভাগ, এস্টেট শাখা, রাজস্ব বিভাগ, বৈদ্যুতিক বিভাগের বিরুদ্ধে অভিযোগের শুনানি করা হয়।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অভিযোগ ছিল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বিরুদ্ধে। হাসপাতালে সেবা পেতে রোগীদের নানা ধরণের হয়রানিসহ তিনগুণ দামে মেশিন ক্রয় করার বিষয়টিও উপস্থাপিত হয় গণশুনানিতে। হাসপাতালটির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগের বিষয়ে শুনানি হয়। এরমধ্যে দুদক দুটি অভিযোগ অনুসন্ধানের নির্দেশ প্রদান করেন। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ২০২০-২১ অর্থ বছরে ৫৮ লাখ টাকা করে মোট চারটি মেশিন ক্রয় করা হয়। অথচ একই মেশিন আগের অর্থবছরে অন্য প্রতিষ্ঠান ২৮ লাখ টাকা করে দরপত্র জমা দেন। যদিও তার প্রকৃত বাজার দর ছিল ২০ লাখ টাকা।

 

তবে বিষয়টি অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন দুদকের কর্মকর্তাদের। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট থাকা হাসপাতালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র এমআরআই মেশিন ওয়ারেন্টি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অকেজো হওয়ার বিষয়টিও তদন্তের নির্দেশন দেন কমিশন। এছাড়া সেবা পেতে রোগীদের হয়রানির বিষয়ে সুষ্ঠুভাবে দেখভালের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়।

 

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে চারটি করে মোট আটটি অভিযোগ শুনানি করে দুদক। যারমধ্যে সবগুলো অভিযোগেই একদিন থেকে আগামী সাতদিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেন দুদক কমিশনার ড. মোজাম্মেল খক খান।
এ চারটি সেবা সংস্থা ছাড়াও রেলওয়ে বিরুদ্ধে দুইটি, বিআরটিএ’র দুইটি, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার তিনটি, ভূমি শাখার তিনটি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের দুইটি, কাস্টম হাউজের বিরুদ্ধে একটি, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে দুইটি, চট্টগ্রাম ওয়াসার বিরুদ্ধে দুইটি, বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক দপ্তরের বিরুদ্ধে একটি, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনের বিরুদ্ধে একটি, খাদ্য অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে একটি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে একটি, বিআরটিসির বিরুদ্ধে একটি, বিটিসিএল’র বিরুদ্ধে একটি, যমুনা ওয়েলের বিরুদ্ধে একটি, সড়ক ও জনপদ বিভাগের বিরুদ্ধে একটি, গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একটি এবং জেলা নির্বাচন অফিসের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগের বিষয়ে শুনানি করা হয়।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট