চট্টগ্রাম সোমবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩

২ আগস্ট, ২০২২ | ১২:২৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম ‘নাইট সাফারি পার্ক’ হচ্ছে চট্টগ্রামে

দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম ‘নাইট সাফারি পার্ক’ হচ্ছে চট্টগ্রামে। এ সাফারি পার্কে থাকবে সিঙ্গাপুরের জুরং বার্ড পার্কের আদলে ‘নাইট জু’। জঙ্গল সলিমপুরে ৪০ একর জায়গাজুড়ে এ সাফারি পার্ক চালু করা হবে। এ চিড়িয়াখানাকে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা প্রাণী সংরক্ষণ ও বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।

গতকাল সোমবার এ ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান। দুপুর ১২টার দিকে চিড়িয়াখানায় সদ্য জন্ম নেওয়া চারটি সাদা বাঘ শাবক দেখতে যান জেলা প্রশাসক। আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামে ‘নাইট সাফারি পার্ক’ গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি।

জেলা প্রশাসক জানান, ‘নাইট সাফারি পার্ক’ বলা হলেও দিনে এবং রাতে দুই সময়েই দর্শনার্থীদের প্রবেশের সুযোগ থাকবে। এটি হবে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম ‘নাইট সাফারি পার্ক’। চট্টগ্রাম চিডিয়াখানার ইউনিট ২ হিসেবে এটি পরিচালনা করা হবে।’ তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে নির্মাণ ব্যয় ২০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এরমধ্যে ৩ কোটি টাকা চিড়িয়াখানার নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে।

সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য ও পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা অবৈধ বসতি উচ্ছেদ করে জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে সরকার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যেই স্পোর্টস ভিলেজ, হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল, সাফারি পার্ক, ইকো পার্কসহ বিনোদনকেন্দ্র, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার, উচ্চক্ষমতার বেতার সম্প্রচারকেন্দ্র, পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যালয় ও প্রশিক্ষণ, কাস্টমস ডাম্পিং হাউস, সবুজ শিল্প এলাকা, চট্টগ্রাম সেনানিবাস ও বিএমএ এবং আনসার ভিডিপি প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের জন্য জায়গা বরাদ্দ চেয়ে জেলা প্রশাসনে কাছে চিঠি দিয়েছে। এ জঙ্গল সলিমপুরে সরকারি ৪০ একর জায়গায় চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার অধীনে সাফারি পার্ক চালুর পরিকল্পনার কথা জানান জেলা প্রশাসক।

চিড়িয়াখানার পরিকল্পনার বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, বন্যপ্রাণী বিষয়ক ট্রেনিং কোর্স চালু এবং সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য বড় পরিসরে প্রাণী সচেতনতা বৃদ্ধি বিষয়ে শিক্ষা প্রদানের জন্য বিনা ফিতে চিড়িয়াখানা পরিদর্শন ও বিনোদন প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাহাড়ে পাখির অভয়ারণ্য সৃষ্টি করা হবে। চিড়িয়াখানায় বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি করে তা সুন্দরবনে অবমুক্তকরণের বিষয়ে অংশীজনের সাথে প্রকল্প গ্রহণ, চিড়িয়াখানাকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি অন্যতম সেরা প্রাণী সংরক্ষণ ও বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, এ চিড়িয়াখানায় বর্তমানে ১৬ টি বাঘ রয়েছে। তারমধ্যে ৫ টি বিরল প্রজাতির সাদা বাঘ। যা একটি অনন্য নজির। বাংলাদেশের চিড়িয়াখানা ও সাফারি পার্কের মধ্যে সব চেয়ে বেশি বাঘ এখন চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায়। এছাড়াও এ চিড়িয়াখানায় গড়ে তোলা হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম প্রাকৃতিক এভিয়ারি (পক্ষীশালা)। যেখানে ৩ শতাধিক পাখি রয়েছে।

জেলা প্রশাসক ও চিড়িয়াখানা নির্বাহী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেন, এ চিড়িয়াখানায় কৃত্রিম পরিবেশে বাংলাদেশে প্রথমবারের মত ইনকিউবেটরে ডিম থেকে অজগরের বাচ্চা ফুটানো হয়। গত ২২ জুন ১১টি বাচ্চা কৃত্রিমভাবে ফুটানো হয়। শিগগিরই তা বন্য পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে চিড়িয়াখানা পরিদর্শনের সুযোগ রয়েছে। এসময় চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ আগত শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রাণিশিক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম (ক্লাস সেশন ও সেমিনার) আয়োজন করেন। এর মাধ্যমে শিশু-কিশোর ও তরুণরা প্রাণিজগৎ সম্পর্কে জ্ঞানার্জনে ভূমিকা রাখছে এ চিড়িয়াখানা।

চিড়িয়াখানার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে ডিসি বলেন, চিড়িয়াখানার জন্য জলহস্তী, সিংহ, জিরাফ, উট, ক্যাঙ্গারু, ওয়াইল্ড বিস্ট, লামাসহ বিভিন্ন প্রজাতির আরও পশুপাখি সংগ্রহ করে বংশবৃদ্ধি ও প্রাণিসংরক্ষণ করা হবে। বাঘ, চিত্রা হরিণ ও ভল্লুকের খাঁচার পরিধি বাড়ানো হবে। কুমিরের খাঁচা আধুনিকীকরণ, বিভিন্ন প্রজাতির সাপের জন্য আলাদা স্ন্যাক সেকশন তৈরি, ময়ূরের জন্য চিড়িয়াখানার নতুন এভিয়ারি তৈরি, শকুন সংরক্ষণে নতুনভাবে অনুকূল খাঁচা তৈরি করা হবে। গবেষণার মাধ্যমে প্রাণিসংরক্ষণে ভূমিকা ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) মো. বদিউল আলম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুমনী আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাজমুল আহসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. মাসুদ কামাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আবু রায়হান দোলন, রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম এহেছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, এনডিসি মো. তৌহিদুল আলম, কাট্টলী সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. উমর ফারুক, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্লাবন কুমার বিশ্বাস, চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ প্রমুখ।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট