চট্টগ্রাম শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২২

সর্বশেষ:

২৮ জুলাই, ২০২২ | ১১:২২ পূর্বাহ্ণ

ইমাম হোসাইন রাজু

অটিজমের কারণ জিনগত পরিবর্তন

CNTNAP2 নামক একটি জিনের পরিবর্তনই বাংলাদেশে অটিজম রোগের অন্যতম কারণ। বৃহত্তর চট্টগ্রামের অটিজমের জটিলতায় ভুগতে থাকা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ১৮০ শিশুর উপর চালানো গবেষণায় এ তথ্য ওঠে আসে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের নেতৃত্বে গবেষণায় যুক্ত ছিলেন জার্মান, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালসহ চবির একদল গবেষক। গবেষণাটি স্প্রিঙ্গার প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের মলিকুলার বায়োলজি রিপোর্টস শীর্ষক জার্নালে অতি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ।

গবেষকরা জানান, বৃহত্তর চট্টগ্রামের ৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী অটিজম জটিলতায় ভুগতে থাকা ১৮০ জন বিশেষায়িত শিশুদের ওপর গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়। তাদের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ দ্বারা মানসিক বিকাশ পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং পরবর্তীতে তাদের জীনগত পরীক্ষাও করে দেখা হয়। গবেষণায় ওঠে আসে, নির্দিষ্ট কিছু জিন বাচ্চাদের মাঝে অটিজমের প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। কারণ এদের শরীরে প্রোটিনের রাসায়নিক বিশ্লেষণে কিছু এমিনো এসিডের পরিবর্তন দেখতে পাওয়া যায়। পাশাপাশি আমরা মেটা- এনালাইসিস নামক পদ্ধতিতে অন্যান্য দেশের অটিস্টিক শিশুদের তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায় আমাদের জিনগুলোর সাথে অটিজম স্প্যাকট্রাম ডিসঅর্ডারের কতটুকু সম্পৃক্ততা আছে। গবেষণায় ওঠে আসে এ জিনগুলোর মিউটেশান অটিজমের জন্য দায়ী।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক বিভাগের শিক্ষক ও গবেষক অধ্যাপক ড. লুলু ওয়াল মারজানের নেতৃত্বে চলা গবেষণায় যুক্ত ছিলেন শিক্ষক ইয়াসমিন আক্তার, গবেষণা সহযোগী নাসির উদ্দিন ও হাফসা সিদ্দিকা, জার্মানির লুডউইগ মাক্সমিলান বিশ্ববিদ্যালয়ের মাহাদিয়া কুমকুম, চবি মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ আফজাল হোসেন, শারিকা আহমেদ, মা ও শিশু হাসপাতালের শিশু বিকাশ কেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. মাহমুদ এ চৌধুরী আরজু, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মাদ শফিকুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আবদুল আজিজ।
গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক ড. লুলু ওয়াল মারজান বলেন, গবেষণায় দেখা হয়েছে, অটিজমের সাথে জিন বা ডিএনএ এর কোন সম্পর্ক আছে কিনা এবং কোন জিনগুলোর পরিবর্তন বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীতে অটিজমের জন্য দায়ী। এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে মস্তিষ্কের সিন্যাপ্সে উপস্থিত দুটো জিনকে (ঝঐঅঘক৩ এবং ঈঘঞঘঅচ২) পর্যবেক্ষণ করা হয়। কারণ অটিজম একটি স্নায়ুবিকাশে বাধাজনিত ডিসঅর্ডার। অতঃপর জিনগুলো কতটুকু রোগের বিস্তার ঘটাতে সক্ষম কিংবা আসলে সক্ষম কিনা তা জানতে তারা তথ্য প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করে বায়ো-ইনফরমেটিক্সের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করেন।

ড. লুলু ওয়াল মারজান আরও বলেন, এরকম জিনগত পরিবর্তন আছে এমন শিশুদের মাঝে পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ, কথা বলতে না পারা কিংবা কথা বলতে সমস্যা হওয়া, সামাজিক যোগাযোগ স্থাপনে সমস্যা, অনুভুতি প্রকাশে সমস্যা, বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়া ইত্যাদির সাথে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর অটিজম আক্রান্ত বাচ্চাদের বেশ উল্লেখযোগ্য সম্পৃক্ততা খুঁজে পাওয়া যায়। গবেষকগণ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, ঈঘঞঘঅচ২ জিনটির মিউটেশন বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীতে অটিজমের প্রসারে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট