চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

২৮ জুলাই, ২০২২ | ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

অনিশ্চয়তায় কর্ণফুলীর ভাঙনরোধ প্রকল্প !

করোনার ধাক্কা সামলে আলোর মুখ দেখেছিল কর্ণফুলী নদীর ভাঙনরোধ প্রকল্প। ১৪৪ কোটি টাকার ডিপিপি জমা দেওয়া হয় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে। দীর্ঘদিন ধরে চাপা পড়ে রয়েছে প্রকল্পটি। চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সরকার উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় সাশ্রয় ও নতুন প্রকল্পে নিরুৎসাহিত করেছে। ফলশ্রুতিতে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে প্রকল্পটি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৫টি ড্রেজার কেনার প্রকল্প নিয়েছিল পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছিল। প্রকল্পটি ফেরত পাঠিয়েছে কমিশন। এরপর নতুন প্রকল্পে লাগাম টেনে ধরছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। কর্ণফুলী নদী ও সংযুক্ত খালের ভাঙনরোধে আরেক নতুন বড় প্রকল্পের উদ্যোগ নিচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সমীক্ষা শেষে ডিপিপি প্রস্তুত পর্যায়ে রয়েছে। তবে ব্যয় সংকোচন নীতির পর ধীরগতিতে এগুচ্ছে প্রকল্পটি। নতুন এ প্রকল্পটিতে কর্ণফুলী নদীর রাউজান ও রাঙ্গুনীয়া ছাড়াও বোয়ালখালীর অংশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (রাঙামাটি বিভাগ) তয়ন কুমার ত্রিপুরা পূর্বকোণকে বলেন, ‘কর্ণফুলী নদী ও সংযুক্ত খালের ভাঙনরোধ প্রকল্পটি তিন মাস ধরে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে জমা পড়ে রয়েছে। প্রকল্প অনুমোদনের জন্য আমাদের প্রচেষ্টা রয়েছে।’ ২০১৮ সালের এপ্রিলে কর্ণফুলী নদীর ভাঙনরোধে ৩৫১ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের পর প্রকল্পটি আর এগোয়নি। তা কাটছাঁট করে ১৪৪ কোটি ৭৬ লাখ ৬৯ হাজার টাকার প্রকল্প জমা দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড।

প্রস্তাবিত প্রকল্পে দেখা যায়, কর্ণফুলী নদীর বামতীরে দুই দশমিক ৪২৫ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙনরোধে প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও বোয়ালখালী খালের দু’তীরে দুই দশমিক শূন্য ৫০ কিলোমিটার, রায়খালী খালের উভয় তীরে এক দশমিক তিনশ কিলোমিটার, ছন্দারিয়া খালের উভয় তীরে শূন্য দশমিক ৯২৫ কিলোমিটার, ভারাম্বা খালের উভয় তীরে ৫শ মিটার, নাজিরখালী খালের ডানতীরে দুশো মিটার অংশে প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হবে।

কর্ণফুলী নদী ও সংযুক্ত খালের ভাঙনরোধে ৭ দশমিক দুইশ কিলোমিটার প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় এক লাখ ২১ হাজার মানুষ উপকার পাবেন বলে ডিপিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাবনা মেয়াদকাল ধরা হয় চলতি মাসে। ২০২৫ সালের জুন মাসে প্রকল্প শেষ করার কথা রয়েছে। সরকারের অর্থায়নে প্রকল্প ধরা হয়েছে।

২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর বোয়ালখালীতে কর্ণফুলীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এনামুল হক শামীম। স্থানীয় সাংসদ মোছলেম উদ্দিন আহমদ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধ্বতন প্রকৌশলীরা সঙ্গে ছিলেন।

কর্ণফুলী নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে ভাঙনরোধে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী। মন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রকল্পের ডিপিপি প্রস্তুতের উদ্যোগ নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। করোনা সংক্রমণের কারণে ধীরগতিতে এগিয়েছিল প্রকল্পের ডিপিপি প্রস্তুতকরণ। এখন ডিপিপি জমা দেওয়ার পর ফের অনিশ্চয়তায় পড়েছে প্রকল্পটি।
এলাকাবাসী জানান, নদী ও খালের ভাঙনে অনেক ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, বাজার, মসজিদ-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। উদ্বাস্তু হয়েছেন অনেক মানুষ। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা নিয়ে চলে আসছে রাজনীতি। ভোটের আগে ভাঙনরোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পর বেমালুম ভুলে যান জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিবিদেরা।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে বোয়ালখালী ও রাউজান অংশে নদী সংলগ্ন খালের ভাঙনরোধে ৭২ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছিল। এরপর কোন প্রকল্প আর দেখা যায়নি। তবে রাঙ্গুনীয়া সংসদীয় আসনের আওতাভুক্ত শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নে নদী ও খালের ভাঙনরোধে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট