চট্টগ্রাম রবিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৩

সর্বশেষ:

২৬ জুলাই, ২০২২ | ৯:০৪ অপরাহ্ণ

নওশের আলী খান

অনিশ্চিত বাস টার্মিনাল প্রকল্প

অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে সিটি বাস টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প। জমির ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়ায় দেখা দিয়েছে এই অনিশ্চয়তা। শ্রেণি বিন্যাস নিয়ে ভূমি মালিক ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চরম বিরোধ। ভূমি মালিকদের দাবি নাল জমি হিসাবে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। জেলা প্রশাসন নির্ধারণ করেছে জমিগুলো খাই বা ডোবা  শ্রেণির। বিষয়টি এখন মামলায় গড়াচ্ছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, জালালাবাদ ওয়ার্ডের কুলগাঁও এলাকায় নির্মাণ করা হবে সিটি বাস টার্মিনাল। নগরীর মাষ্টার প্ল্যানে নগর উন্নয়নে কুলগাঁও এলাকায় ২৮ একর জমি চিহ্নিত করে রাখা হয়। উত্তর চট্টগ্রামের ১২টি রুটের বাসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটি ২০১৮ সালের অক্টোবরে অনুমোদন হয়। তার মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৮.১০ একর জায়গা অধিগ্রহণ করে প্রকল্পের কাজ শুরু করার কথা। প্রায় ২৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর কুলগাঁওয়ের বালুছড়ায় নির্মিতব্য প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬০ কোটি ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী  মো. মফিজ জানান, জমির ক্ষতিপূরণের টাকা জমা দেবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। ২০২০ সালের প্রথমদিকে ১৩০ কোটি টাকা জেলা প্রশাসনকে জমা দেয়া হয়েছে। এখন ক্ষতিপূরণের টাকা নির্ধারণ হয়ে গেলে ৮ ধারা মোতাবেক  জমি মালিকদের টাকা প্রদান প্রক্রিয়া শুরুর কথা।

প্রকল্পটি ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়ায় এসে থমকে গেছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে সরেজমিন গিয়ে শতভাগ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে জমির শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের পুরো জমির ভিডিও করা রয়েছে। জেলা প্রশাসনের সার্ভে অনুসারে  জলাশয় ও পরিত্যক্ত জমিগুলো খাই শ্রেণির। যার ক্ষতিপূরণ মুল্য প্রতি শতক ২ লক্ষ ৩২ হাজার ৩৫৭ টাকা। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাহেদ ইকবাল বাবু জানান, প্রকল্পের ১৭ কানি জমি খতিয়ানে নাল হিসাবে উল্লেখ রয়েছে। যার ক্ষতিপূরণ মূল্য প্রতি শতক ৪ লক্ষ ৮১ হাজার ৪২৪ টাকা।

এদিকে ভূমি মালিকদের পক্ষ থেকে নাল জমি হিসাবে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানে হয়। এই আবেদন খারিজ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন এডিসি (এলএ)  মাসুদ কামাল।

কাউন্সিলর সাহেদ ইকবাল বাবু জানান, ভূমি মালিকগণ সম্প্রতি ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান  চৌধুরী জাবেদের সাথে সাক্ষাৎ করে ক্ষতিপূরণ জটিলতা নিরসনের জন্য আবেদন জানান। ভূমিমন্ত্রী জমি মালিকদের আবেদনটি বিবেচনার জন্য জেলা প্রশাসককে বলা হয়। কিন্তু এব্যাপারে কার্যকর কিছুই হয়নি। তিনি আরো বলেন কুলগাঁও এলাকার ২৮ একর জমির উন্নয়নে সিডিএ মাস্টার প্ল্যানে চিহ্নিত করার পর গত এক যুগ ধরে জমি মালিকদের প্ল্যান দেয়া বন্ধ রাখা হয়। আশপাশের জমিতে ভবন নির্মাণ হয়ে যাওয়ায় এই জমিগুলো নিচু থেকে যায়। ফলে পানি জমে এখন এসব জমির কিছু কিছু অংশ ডোবায় পরিণত হয়েছে। এখন ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে এটাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন ভূমি মালিকগণ ন্যায্য ক্ষতিপূরণ না পেলে মামলা করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন। মামলা হলে সিটি বাস টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াবে।

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট