চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

২৫ জুলাই, ২০২২ | ১২:৫৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক 

১৭ বছর আগে টাকা দিয়েও চসিকের প্লট পাননি ৯৮ জন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ‘লেকসিটি হাউজিং সোসাইটি’ এর প্লটবঞ্চিতরা তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই বুঝিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি ১৭ বছর আগে টাকা জমা দিয়েও এখনো চসিকের কাছ থেকে প্লট বুঝে পাননি ৯৮ জন গ্রাহক। গতকাল চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় তখন ৫৪৮ জন গ্রাহকের কাছ থেকে  প্লট বরাদ্দে চার দফায় মোট ৯৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা গ্রহণ করে। পরে চসিক  ৪৫০ জনকে প্লট বুঝিয়ে দিলেও ৯৮ জনকে দেয়া হয়নি। ফলে গত ১৭টি বছর তারা চসিকের দ্বারে দ্বারেই ঘুরছেন। চলছে তাদের আহাজারি। মিলছে না কোনো সদুত্তর।  লিখিত বক্তব্যে সৈয়দ আবুল হাশেম বলেন, নগরীর ফয়’স লেকের পেছনে বিশ্বকলোনি এলাকায় লেকসিটি  হাউজিং সোসাইটি প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়।  চসিক ২০০৬ সালে প্রকল্পটি গ্রহণ করে। তখন আড়াই কাটা জায়গার বিপরীতে চার দফায় ৫৪৮ জনের কাছ থেকে ৯৩ কোটি ১৬  লাখ টাকা নেয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ ১৭ বছর পার হতে চললেও চসিক এখনও সেই ৯৮ জনকে প্লট বুঝিয়ে দেয়নি।

তারা চসিকের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন উল্লেখ করে বলেন, একটা সান্তনামূলক ভরসাও পাচ্ছেন না। ‘এটা আমাদের ওপর বড় অমানবিক আচরণ।’  অপর প্লট বঞ্চিত কাজী কামাল উদ্দিন বলেন, ৯৮ জনের মধ্যে আমরা অন্তত ২৫ জন প্রবাসী । আমরা অনেক পরিশ্রম করে, চরম খাঁটুনি খেটে টাকা সঞ্চয় করে একটি প্লটের জন্য টাকা দিয়েছি। মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজেছি। কিন্তু আমাদের টাকাগুলো নিয়ে চসিক ছিনিমিনি খেলছে। আমাদের দাবি একটাই-কাঙ্খিত প্লট বুঝিয়ে দেয়া হোক। চসিকের মেয়র মো. রেজাউল করিম বলেন, চসিক টাকা নিয়েছে প্লট দেওয়ার  জন্য। টাকা যার সময়কালেই নেয়া হোক। এখন আমাদের দায়িত্ব প্লট বরাদ্দপ্রাপ্তদের তা বুঝিয়ে দেয়া। কিন্তু এখন সেখানে খালি প্লট নেই। তবে আমরা এর আশেপাশে একটি জায়গা খুঁজছি। সুবিধামত জায়গা পেলেই তাদের দেয়া হবে। আশা করি তাদের একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিতে পারব।

জানা যায়, নগরীর ফয়’স লেকের পেছনে বিশ্বকলোনি এলাকায় চসিক ২০০৩ সালে প্রায় ৩১ একর জায়গায় লেকসিটি হাউজিং সোসাইটি নামে আবাসিক প্রকল্প গ্রহণ করে। ২০০৬ সালের শেষের দিকে আড়াই কাঠা আয়তনের এসব প্লট  বরাদ্দ দেওয়া শুরু হয়। প্লটগুলো বিক্রি করে চসিক গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিল। ১৫টি শর্তে নাগরিক সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে প্রতিজনকে আড়াই কাঠা করে প্লট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা।

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট