চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১২ আগস্ট, ২০২২

সর্বশেষ:

২২ জুলাই, ২০২২ | ১২:১৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভোজ্যতেল বিক্রি হচ্ছে আগের বাড়তি দামেই

ঘোষণা দিয়ে ভোজ্যতেলের দাম কমানো হলেও তার প্রভাব পড়েনি নগরীর খুচরা বাজারে। এখনও দোকানে দোকানে বোতালজাত সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ২০০-২০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে খোলা সয়াবিন তেল এবং পাম তেলও। বাধ্য হয়েই বেশি দামে ভোজ্যতেল কিনছেন ক্রেতারা। বিশ্ববাজারে দরপতনের কারণে গত ১৭ জুলাই দেশে ভোজ্য তেলের দাম কমানোর কথা জানায় বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স এন্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন। এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে লিটারপ্রতি বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৪ টাকা কমিয়ে ১৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া খোলা তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৬৬ টাকা এবং খোলা পাম তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ২১ জুলাই থেকে নতুন দাম কার্যকরের কথা জানায় বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স এন্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন। সে হিসাবে গতকাল থেকেই ভোজ্যতেলের দাম কমার কথা। তবে গতকাল নগরীর একাধিক কাঁচাবাজার এবং

মুদি দোকান ঘুরে আগের বাড়তি দামেই ভোজ্যতেল বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেছে। নগরীর দুই নম্বর গেটের কর্ণফুলী কমপ্লেক্স বাজার, চকবাজার কাঁচাবাজার, বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ২০০-২০৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৯৫ টাকায় এবং খোলা পাম তেল লিটারপ্রতি ১৯০ টাকায় বিক্রি করেছেন দোকানিরা। বেশি দামে ভোজ্যতেল বিক্রির কারণ জানতে চাইলে খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, তাদের কাছে আগের চালানের তেল আছে। যেগুলো আগের বাড়তি দামে কেনা। এখনো নতুন চালানের তেল আসেনি। যে কারণে তেলের দাম এখনো আগের দামেই বিক্রি করছেন তারা। নতুন দামের তেল বাজারে এলে তখন তারাও নতুন দামে ভোজ্যতেল বিক্রি করবেন। কর্ণফুলী বাজারের ব্যবসায়ী ফরিদ আহমেদ বলেন, সরকার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে ঠিকই। কিন্তু বাজারে তদারকি করছে না। শুধু দাম নির্ধারণ করলেই হবে না। কোম্পানি, আড়তদার বা পাইকারিতে দাম কমানো হয়েছে কি না সেটা তদারকি করতে হবে। তাদের কাছ থেকে আমরা কম দামে ভোজ্যতেল পেলেই খুচরায় কম দামে বিক্রি করতে পারবো। চকবাজারের ব্যবসায়ী কুতুব উদ্দিন বলেন, বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি এখনো ২০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৯৯০ টাকায়। খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ টাকায়। এগুলো আগের তেল। এ তেলে দাম কমানো সম্ভব নয়। কারণ এ তেলগুলো আগের দামেই কেনা। তবে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল ভিন্ন তথ্য। চকবাজারের একটি মুদি দোকানে তেল কিনতে আসা ইমরান হোসেন জানান, সরকার দাম কমাতে বললে ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাত দেন। কিন্তু বাড়াতে বললে সঙ্গে সঙ্গে বাড়িয়ে ফেলেন। তখন আগের চালান, নতুন চালান এসব দেখা হয় না। সরকারি সংস্থাগুলোর তদারকির অভাবেই এটি হচ্ছে।

কমেছে পেঁয়াজের দাম : দেশের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় পাইকারি ও খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম কমেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বেড়েছে। যা এ মুহূর্তে চাহিদার তুলনায় বেশিই বেড়েছে। আবার ঈদের পর পর বাজারে চাহিদা কমেছে যার কারণে এখন পেঁয়াজের দাম কম। চাক্তাই আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আহসান খালেদ বলেন, বাজারে এখন দেশি পেঁয়াজ নেই। কিন্তু ভারতের আমদানি করা পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে। চাহিদা কম তাই পাইকারিতেও কম দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। গতকাল পাইকারিতে ভারতীয় উন্নতজাতের পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৩০ টাকায় ও তুলনামূলক কম উন্নতমানের পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ২২-২৩ টাকায় বিক্রি হয়। যা খুচরাতে বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকায়।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন